মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৫শে নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশাসন শাখা এক প্রজ্ঞাপন জারির (স্মারক নং-৩৮,০০১,০১৯,০০,০০,০০৬,২০০৩-৯৮৬) মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালাকে খাগড়াছড়ি এবং খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে মৌলভীবাজার বদলির আদেশ দেয়। এ দিকে সিরাজুল ইসলামকে মৌলভীবাজার বদলির খবর পেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা প্রতিবাদে মাঠে নামেন। গত ২৯শে নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গেটের সামনে সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান করে পাহারা দেয়া শুরু করেন পালাক্রমে। গতকালও শিক্ষা অফিসে সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে গেটে ঝুলছে একটি ব্যানার। আশপাশে আছেন শিক্ষকরা। মৌলভীবাজার জেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আহমদ বলেন, আমাদের আন্দোলন চলবে। সিরাজুল ইসলামকে এখানে যোগদান করতে দেয়া হবে না। জেলা অফিস সূত্র জানায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা গত ২৪শে নভেম্বর থেকে ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত ছুটিতে ছিলেন। ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় অফিসের কাজে যান। এ দিকে বদলি অর্ডার অনুযায়ী ১লা ডিসেম্বরের মধ্যে বদলিকৃত স্থানে যোগদান না করলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলিয়া গণ্য হওয়ার কথা লেখা আছে। জানা গেছে তিনি এখনও অফিস থেকে রিলিজ নেননি।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সিংকাপন গ্রামের জনৈক আব্দুন নূর অভিযোগ করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ কয়েকজন নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। তাই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পঞ্চানন বালা নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার পেছনে কি সামনের এই প্রাক-প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ। অবশ্য পঞ্চানন বালা জানিয়েছেন তার ছেলে মৌলভীবাজার জেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবে তাই সময় চাচ্ছেন।
এ দিকে এই দুই কর্মকর্তার বদলিজনিত সৃষ্ট জটিলতার কারণে মৌলভীবাজারে প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষায় যে ৭৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের মৌখিক পরীক্ষার এখনও তারিখ নির্ধারিত হয়নি। ফলে ভাইবা কার্ডও ইস্যু হয়নি। পার্শ্ববর্তী সব জেলায় পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। জানা গেছে, আগামী ১৭ই ডিসেম্বরের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ২০শে ডিসেম্বরের মধ্যে নম্বর ফর্দ অধিদপ্তরে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই চিন্তায় পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
গতকাল জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী আহসান (জেলা শিক্ষা অফিসারের অনুপস্থিতিতে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন) জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় সহকারী শিক্ষক (প্রাক-প্রাথমিক) মৌখিক পরীক্ষার তারিখ এবং কার্ড ইস্যু হচ্ছে না। তবে সব কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন অফিসকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন অফিসের নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
গতকাল মুঠোফোনে কথা হয় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চাননবালার সঙ্গে। জানান ঢাকায় অবস্থান করছেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। পুরনো অফিস (মৌলভীবাজার) থেকে রিলিজও নেননি। অপেক্ষা করছেন মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার। তার কথা চেষ্টা করছেন আগামী জুন পর্যন্ত থাকতে।
সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) তাহমিনা খাতুন জানান, মৌলভীবাজার অফিসের বিষয়টি অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই চিটি পাঠানো হচ্ছে। সুরাহা হবে শিগগিরই। পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নেয়ার ব্যবস্থা হবে।
সূত্র, বাংলা নিউজ ডট মি











