ডেস্ক রিপোর্ট – আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যাওয়া তোফায়েল আহমেদ দলীয় পরিচয়ের বাইরেও জাতীয় পর্যায়ে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন, যার শুরুটা হয়েছিল ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতিতে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের এক তুখোড় ছাত্রনেতা ও অগ্রসৈনিক হিসেবে এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও তিনি প্রথম সারিতে থেকে সব মিলিয়ে নয়বার এমপি, দুই দফা মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরামে ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া তোফায়েল ১৯৫৭ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি জনসভার বক্তৃতা শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় ইকবাল হলের ভিপি ও ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি থাকাকালে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
ঊনসত্তরেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৭০ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘মুজিব বাহিনী’র (বিএলএফ) অঞ্চলভিত্তিক চার প্রধান বা ‘চার খলিফা’র একজন হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব পালনসহ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব এবং পরবর্তীতে জিয়া ও এরশাদ বিরোধী সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অবতীর্ণ হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষভাগে ২০০৭-০৮ সালের জরুরি অবস্থার সময় ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে দলে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়া এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর নিভৃতে রোগ-শোকের সঙ্গে লড়াই করা এই প্রবীণ নেতা ৮৩ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে সোমবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।











