আন্তর্জাতিক ডেস্ক – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে এই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মুকাদ্দাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত জানান, ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ১০টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টের ভিত্তিতে এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমিয়ে আনাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসলামাবাদে দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এই সময়ে সমস্ত স্কুল, কলেজ ও সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদের সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শিপিং কন্টেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। যান চলাচল সীমিত করায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরটি জনশূন্য ও থমথমে অবস্থায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে শিয়া ধর্মাবলম্বীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই বিক্ষোভে প্রায় দুই ডজন মানুষের মৃত্যু হয়। বিশেষ করে করাচিতে মার্কিন কনসুলেটে বিক্ষোভকারীদের হামলার ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারান। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে রাজধানী ইসলামাবাদকে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে ইসলামাবাদ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সারা বিশ্বের নজর এখন এই আলোচনার ফলাফলের দিকে।











