Menu |||

বিজেপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী আর নেই

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সুপরিচিত রাজনীতিকদের একজন অটল বিহারী বাজপেয়ী মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

মি. বাজপেয়ীই ছিলেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

কিডনিতে সংক্রমণ হওয়ায় প্রায় নয় সপ্তাহ যাবত তিনি দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি ছিলেন।

বুধবার থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।

দু’হাজার নয় সালে স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই তিনি আর কথা বলতে পারতেন না।

তবে তার আগেই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।

তার সতীর্থরা অবশ্য বলতেন যে তিনি সবই বুঝতে পারতেন, কিন্তু ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন।

মি. বাজপেয়ী হিন্দু পুনরুত্থানবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক ছিলেন, এবং সংঘেরই রাজনৈতিক দল জনসংঘের সদস্য ছিলেন।

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মি. বাজপেয়ী। লালকৃষ্ণ আদভানি তার বাম পাশে।

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মি. বাজপেয়ী। লালকৃষ্ণ আদভানি তার বাম পাশে।

তবুও তখন থেকেই হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে একজন মধ্যপন্থী বলে তাঁকে মনে করা হতো।

কানপুরে পড়াশোনা করেছিলেন মি. বাজপেয়ী। তারপরে আইন পড়েছেন।

তার বাবা আর তিনি একই বর্ষের ছাত্র ছিলেন, থাকতেনও একই হোস্টেলে।

ছাত্রজীবনে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের জন্য কিছুদিন জেল খাটলেও তারপর থেকেই মি. বাজপেয়ী হিন্দুত্ববাদী নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভক্ত হয়ে পড়েন।

রাজনৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও তিনি নিয়মিত কবিতা লিখতেন, প্রচুর বই পড়তেন, আর সিনেমা দেখতে ভালবাসতেন।

দলীয় সতীর্থ লালকৃষ্ণ আদভানিকে দিয়ে দিল্লির রিগ্যাল সিনেমা হলে বহু নতুন সিনেমার প্রথম দিনের প্রথম শো দেখতে যেতেন তিনি, সেকথা বহুল প্রচারিত।

তবে সেই লালকৃষ্ণ আদভানিই যখন দলের প্রধান হিসাবে রামমন্দির নিয়ে আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেন, যার পরিণতিতে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়েছিল, তখন মি. বাজপেয়ীকে বিশেষ মুখ খুলতে দেখা যায় নি।

দু’হাজার চার সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে আর কখনও আসেন নি মি. বাজপেয়ী।

একদিকে অসুস্থতাও বাড়ছিল। তারপরেই সক্রিয় রাজনীতি থেকেই সরে গিয়েছিলেন তিনি।

আর ২০০৯ সালের স্ট্রোকের পর থেকে তো কথাও বলতে পারতেন না।

তার শেষ যে ছবিটি সর্বশেষ জনসমক্ষে আসে, তা হল ২০১৫ সালে যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করতে নিজে গিয়েছিলেন তাঁর বাসভবনে, সেই ছবিটি।

আর বাক্যহারা হওয়ার প্রায় এক দশক পরে বৃহস্পতিবার সমাপ্ত হল একাধারে রাজনীতিবিদ, সুবক্তা আর কবি অটল বিহারী বাজপেয়ীর জীবন।

সূত্র, বিবিসি

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» প্রবাসের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জন্মভূমির সেবায় কামাল হোসেন ভূঁইয়া

» “ট্রেন” – মোজাহার

» কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও বিমান চলাচল স্থগিত

» রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র তোফায়েল আহমেদ

» মৌলভীবাজারে নজরুলের সিলেট আগমনের শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি গঠন

» কুয়েতে সুবাস ছড়াচ্ছে বাংলাদেশের কাঠের ধোঁয়া

» কুয়েতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে প্রবাসীদের ঈদুল আযহা উদযাপন

» কুয়েতে প্রথম খাদ্য সহায়তা পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

» কুয়েতে পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড়, দামের ঝাঁজে কপালে ভাঁজ প্রবাসীদের

» কুয়েতের জিলিব এর এক বাড়িতে বিধ্বংসী আগুনে ৫ জনের মৃত্যু

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

বিজেপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী আর নেই

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সুপরিচিত রাজনীতিকদের একজন অটল বিহারী বাজপেয়ী মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

মি. বাজপেয়ীই ছিলেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

কিডনিতে সংক্রমণ হওয়ায় প্রায় নয় সপ্তাহ যাবত তিনি দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি ছিলেন।

বুধবার থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল।

দু’হাজার নয় সালে স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই তিনি আর কথা বলতে পারতেন না।

তবে তার আগেই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।

তার সতীর্থরা অবশ্য বলতেন যে তিনি সবই বুঝতে পারতেন, কিন্তু ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন।

মি. বাজপেয়ী হিন্দু পুনরুত্থানবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক ছিলেন, এবং সংঘেরই রাজনৈতিক দল জনসংঘের সদস্য ছিলেন।

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মি. বাজপেয়ী। লালকৃষ্ণ আদভানি তার বাম পাশে।

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মি. বাজপেয়ী। লালকৃষ্ণ আদভানি তার বাম পাশে।

তবুও তখন থেকেই হিন্দুত্ববাদীদের মধ্যে একজন মধ্যপন্থী বলে তাঁকে মনে করা হতো।

কানপুরে পড়াশোনা করেছিলেন মি. বাজপেয়ী। তারপরে আইন পড়েছেন।

তার বাবা আর তিনি একই বর্ষের ছাত্র ছিলেন, থাকতেনও একই হোস্টেলে।

ছাত্রজীবনে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের জন্য কিছুদিন জেল খাটলেও তারপর থেকেই মি. বাজপেয়ী হিন্দুত্ববাদী নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভক্ত হয়ে পড়েন।

রাজনৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও তিনি নিয়মিত কবিতা লিখতেন, প্রচুর বই পড়তেন, আর সিনেমা দেখতে ভালবাসতেন।

দলীয় সতীর্থ লালকৃষ্ণ আদভানিকে দিয়ে দিল্লির রিগ্যাল সিনেমা হলে বহু নতুন সিনেমার প্রথম দিনের প্রথম শো দেখতে যেতেন তিনি, সেকথা বহুল প্রচারিত।

তবে সেই লালকৃষ্ণ আদভানিই যখন দলের প্রধান হিসাবে রামমন্দির নিয়ে আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেন, যার পরিণতিতে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়েছিল, তখন মি. বাজপেয়ীকে বিশেষ মুখ খুলতে দেখা যায় নি।

দু’হাজার চার সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে আর কখনও আসেন নি মি. বাজপেয়ী।

একদিকে অসুস্থতাও বাড়ছিল। তারপরেই সক্রিয় রাজনীতি থেকেই সরে গিয়েছিলেন তিনি।

আর ২০০৯ সালের স্ট্রোকের পর থেকে তো কথাও বলতে পারতেন না।

তার শেষ যে ছবিটি সর্বশেষ জনসমক্ষে আসে, তা হল ২০১৫ সালে যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করতে নিজে গিয়েছিলেন তাঁর বাসভবনে, সেই ছবিটি।

আর বাক্যহারা হওয়ার প্রায় এক দশক পরে বৃহস্পতিবার সমাপ্ত হল একাধারে রাজনীতিবিদ, সুবক্তা আর কবি অটল বিহারী বাজপেয়ীর জীবন।

সূত্র, বিবিসি

Facebook Comments Box


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Exchange Rate

Exchange Rate EUR: Wed, 10 Jun.

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 /+8801316861577

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com
error: দুঃখিত! অনুলিপি অনুমোদিত নয়।