চার পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।
ক্যালেন্ডারের পাতায় ঘনিয়ে আসছে বহুল প্রতিক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রবাসের মাটিতেও বইছে উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কেবলই নির্বাচন। কুয়েতের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন তারা, যেখানে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে চলছে জোরালো প্রচার-প্রচারণা।
তবে এবারের নির্বাচনে বাড়তি আনন্দের বড় কারণ প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের এক বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে সুদূর বিদেশে বসেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণে অংশ নিতে পারবেন লক্ষ লক্ষ প্রবাসী। কুয়েতেও এর ব্যতিক্রম ঘটছে না; এখানকার প্রবাসীরা এখন কেবল ভোটার নন, বরং সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজেদের অধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কুয়েত প্রবাসীদের ভাবনা ও চাওয়া-পাওয়া নিয়ে আজ থাকছে চার পর্বের বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।
কুয়েত প্রবাসী শওকত আলী, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কুয়েত শাখার সদস্য সচিব ও সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে দীর্ঘকাল প্রবাসে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এবারের নির্বাচন নিয়ে তার প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। শওকত আলী জানান, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের প্রক্রিয়াটি অনেকের কাছে নতুন হওয়ায় তিনি এবং তার দল প্রবাসীদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। কীভাবে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হয় এবং ব্যালট সংগ্রহ করে ভোট দিতে হয়, সে ব্যাপারে কুয়েতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ কর্মীদের উৎসাহিত করছেন তিনি।
শওকত আলী আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয়তাবাদী দলের এই সিনিয়র নেতা প্রবাসীদের কাছে নিজ দলের পক্ষে সমর্থন চেয়ে বলেন, “দেশের সংকটময় মুহূর্তে এবং প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে বিএনপি সর্বদা সোচ্চার ছিল। আমরা চাই ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।”
তবে শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, কুয়েত প্রবাসীদের মাঝে বড় একটি দাবি এখন সবার মুখে মুখে। সাধারণ প্রবাসীদের অনেকের মতেই, নির্বাচনের পর যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অভিবাসন খাতের অভিশপ্ত ‘ভিসা সিন্ডিকেট’ বন্ধ করা। কুয়েতের সাধারণ কর্মীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে একজন প্রবাসী বিদেশে এসে তার আসল টাকা তুলতেই কয়েক বছর পার করে দেন। বছরের পর বছর হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েও দালালের ঋণের ঘানি টানতে হয় তাদের। এই সংকট নিরসনে এবং প্রবাসীদের কর্মসংস্থান নিরাপদ করতে আগামী সরকারের কাছ থেকে কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন লক্ষ লক্ষ কুয়েত প্রবাসী।












