নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুয়েতের আব্বাসিয়া ট্যুরিস্টিক পার্কে প্রায় ২৫ হাজার কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বৈশাখী মেলা ১৪২৫ ও উন্নয়ন মেলা ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও কুয়েত প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের সার্বিক সহযোগিতায়, বাংলাদেশ কমিউনিটির ব্যানারে বৈশাখী মেলা ১৪২৫ ও উন্নয়ন মেলা ২০১৮ আয়োজন করা হয়েছে।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস,এম আবুল কালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ও কুয়েত প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল।
বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি নবান্ন উৎসব ১৪২৫ বাংলাদেশের ন্যায় প্রবাসেও পালিত হচ্ছে। এবার কুয়েতে পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ও বাংলাদেশী ফ্যামিলিদের সম্মিলিত প্রয়াসে পালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে প্রায় ২৫ হাজার কুয়েত প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বাঙ্গালীর এই প্রাণের উৎসব ও উন্নয়ন মেলা ২০১৮ উদযাপিত হয়েছে।
প্রবাসে যেকোনো আয়োজনে বাংলাদেশীদের সমাগম, উৎসব মানে এক টুকরো প্রস্ফুটিত বাংলাদেশ।
তেমনই কুয়েতের আব্বাসিয়া এলাকায় পহেলা বৈশাখের নানা আয়োজনে মুগ্ধ কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীরা এবং উক্ত স্বদেশ সংস্কৃতির উৎসবস্থল-ও রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে।
পান্তা ইলিশ আর হরেক রকমের বাহারি পিঠা নিয়ে স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী পরিবারের গৃহিণীরা।
মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের অংশগ্রহণে ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা এবং পুরস্কার বিতরণী।
পহেলা বৈশাখের আয়োজক ও অংশগ্রহণ কারীরা বলেন, প্রবাস মানে ব্যস্ততা, হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও আমরা চেষ্টা করি স্বদেশ কৃষ্টি বিদেশের মাটিতে শক্ত হাতে ধরে রাখতে।
এদিকে বৈশাখী মেলা ১৪২৫ ও উন্নয়ন মেলা ২০১৮ এর মঞ্চে একটি নাটক মঞ্চায়ন করে রীতিমতো চরম সমালোচনার ঝড় তুলেছেন রফিকুল ইসলাম ভুলু নামে একজন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী।
এমতাবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে রফিকুল ইসলাম ভুলুর অভিনীত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নাটকটি।
গতকাল ঐ অনুষ্ঠানে মঞ্চায়িত একটি নাটকে রফিকুল ইসলাম ভুলু শুধুমাত্র বিশ্বের সকল সাংবাদিকদেরকে হেয় প্রতিপন্ন, অপমান, ব্যঙ্গ বিদ্রূপ ও দুশ্চরিত্র সাংবাদিক সমাজ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
নাটকে বেমানান কাহিনী ছিল ঠিক এরকম যে, একটি ঘটনার নিউজ কভারেজ এর জন্য ৪/৫ জন সাংবাদিক চরিত্রের ব্যক্তি আসেন মঞ্চে, তখন রফিকুল ইসলাম ভুলু তাঁদেরকে প্রশ্ন করেন এই তোরা কারা? ওদিক থেকে সাংবাদিক চরিত্রে অভিনয়কারীদের জবাব ছিল, আমরা সাংবাদিক।
তখন ভুলু বলেন, তোরা সাংবাদিক, তোরা এখানে কেন এসেছিস, তোদের কোনো লাইসেন্স আছে?
এক পর্যায়ে নাটকের ধারাবাহিকতায় সাংবাদিকদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে, ভুলু আদেশ করেন, এই একটা কাম কর, এই গুলারে চুল গুলা কাটিয়া, আলকাতরা লাগাইয়া মহল্লা দিয়া গুরাবি আর কবি তোদের অপরাধের সাঁজা হইছে এটা সহ ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে রফিকুল ইসলাম ভুলু কুয়েত প্রবাসী সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ এর জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের এক মিটিং-এ কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রবাসীদের কাছে ক্ষমা চান।

সে সময় কুয়েতে বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মহোদয়, সাংবাদিকবৃন্দ ও ভুলুকে একে অন্যের সাথে সহনশীল আচরণ করতে পরামর্শ দেন।
এমতাবস্থায় রফিকুল ইসলাম ভুলু ফের সাংবাদিকদেরকে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করে একটি নাটক মঞ্চায়িত করলেন।
এদিকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে রফিকুল ইসলাম ভুলু অভিনীত সাংবাদিকদেরকে ব্যঙ্গ করা নাটক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।
পাশপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা অসংখ্য সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন অব্যাহত রয়েছে।











