কুয়েতে অবৈধ ভিসা বাণিজ্য ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি একটি সাধারণ ট্রেডিং কোম্পানির আড়ালে পরিচালিত অবৈধ ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগের বড় ধরনের জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর এই তোলপাড় শুরু হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স ইনভেস্টিগেশন বিভাগ অভিযান চালিয়ে জানতে পারে, কোম্পানিটি জনশক্তি কর্তৃপক্ষের তোয়াক্কা না করেই সরাসরি শ্রমিকদের সাথে চুক্তি করে অবৈধভাবে নিয়োগ ও আবাসন সুবিধা প্রদান করছিল। এই ঘটনার পর কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউছুফ আল-সাবাহর একটি সাহসী মন্তব্য দেশটির প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্তদের বাঁচাতে কুয়েতের একজন প্রভাবশালী ‘ব্যবসায়ী’ তার কাছে তদবির করতে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি মহামান্য আমিরের কাছে গিয়েছিলাম এবং তিনি আমাকে বলে দিয়েছেন, কুয়েতের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই।”
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমিরের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, আমির তাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, “ফাহাদ, এমনকি নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও যদি আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাও, তবে সবার আগে তাদেরই জবাবদিহিতার আওতায় আনবে।”
আমিরের এই কঠোর বার্তার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে কুয়েতে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং দুর্নীতি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। একই সাথে তিনি দেশের বিদ্যমান শ্রম ব্যবস্থার অসঙ্গতি ও শ্রম ঘাটতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে দেশে ইয়ট বা খামারের জন্য সহজে শ্রমিক পাওয়া গেলেও রিসোর্টের (শালে) জন্য শ্রমিক সংকট থাকে? এই ধরনের অযৌক্তিক প্রথা ও বৈষম্যমূলক নিয়ম বন্ধ করে একটি স্থায়ী ও স্বচ্ছ শ্রম কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। মূলত প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং কুয়েতকে অবৈধ অভিবাসী ও ভিসা বাণিজ্যমুক্ত করাই এখন বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য, যেখানে অপরাধী যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে।
আ হ জুবেদ











