
ত্রিশ হাজার টাকার বেতনে প্রতিদিনের খরচ মেটাতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয় প্রবাসী তরুণদের। তার উপর বছরে একবার আকামা নবায়ন যা যেন কাঁধে চাপা এক পাহাড়! অথচ এই কষ্টকর জীবনের সূচনা হয়েছে আট-নয় লাখ টাকা ধার করে, বয়স ১৮ হলেও পাসপোর্টে ২১ লেখা একটুকরো মিথ্যার মাধ্যমে। অভিভাবকেরা স্বপ্ন দেখেন ছেলে বিদেশে যাবে, ঘুরে দাঁড়াবে, ঘর ঠিক করবে”। কিন্তু সেই ছেলে হয়তো প্রতিদিন বিষণ্নতায় ডুবে থাকবে, কারণ দেশে রেখে আসা ঋণ তার বুক চেপে ধরে, কুয়েতে কাজ না থাকলে তিন বেলা খাওয়া জোটে না। তরুণ বয়সের স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে রূপ নেয় হতাশার গভীর গহ্বরে। কিছু প্রিয় মুখের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও, একটা সময় সে বোঝবে সে নিজেই হারিয়ে যাচ্ছে। আর তখনই কেউ কেউ চিরতরে বিদায় নেয় এই নির্মম পৃথিবী থেকে নীরবে, নিঃশব্দে।
এই অব্যক্ত যন্ত্রণা বুঝে না অনেকে। তারা দেখে শুধু পাসপোর্ট হাতে এক তরুণের ছবি জন্মভূমি ছেড়ে যে নেমেছিল জীবনের লড়াইয়ে। কেউ বোঝে না, তার চোখে প্রতিদিন জলের ঢেউ নামে, বুকের ভেতর জমে থাকে শত শত না বলা কথা।
এখন সময় এসেছে এই বৃত্ত ভাঙার। প্রবাসে আসার আগে যথাযথ প্রস্তুতি, সত্যিকারের বয়স ও দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং দেশে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবি তোলা খুবই জরুরি। যেন কোনো সন্তান আর হারিয়ে না যায় দুনিয়ার একাকী কোনো কোণে, ঋণের দায় মাথায় নিয়ে।
“মঈন উদ্দিন সরকার সুমন এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া কন্টেন্টস”
মঈন উদ্দিন সরকার সুমন
সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব,কুয়েত।
প্রতিনিধি, সময়টিভি-কুয়েত











