এম এস ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ নরসিংদীর রায়পুরার হাসনাবাদ এলাকার রেললাইন থেকে মা ও দশ মাস বয়সী ছেলের ট্রেনে কাটাপড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর বারটায় উপজেলার আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন, রায়পুরার আটকান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী কামরুজ্জামানের স্ত্রী মোসলেমা আক্তার (২৮) ও তার দশমাস বয়সী ছেলে মো. আরেফিন।
২০১২ সালে আদিয়াবাদ উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত করম আলী ভূঁইয়ার ছোট মেয়ে মোসলেমা আক্তারের সঙ্গে আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের আটকান্দি গ্রামের আবদু মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক দাবি করে কামরুজ্জামানের পরিবার। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারনে মোসলেমার পরিবার যৌতুক দেয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে শাশুড়ী ও ননদ মুনিরা বেগম গৃহবধু মোসলেমা বেগমকে মারধোর করত।
নিহত মোসলেমার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য মোসলেমার শাশুড়ী ও ননদ মুনিরা প্রায়ই মারধোর করত। এছাড়া তাঁর স্বামী কামরুজ্জামান নিজ পরিবারে প্রতি মনোযোগ দিতে গিয়ে বাবা মাকে টাকা পয়সা কম দিত। এতে তাঁরা আমার বোনের প্রতি হিংসা পরায়ন হয়ে উঠে। তারা তাকে হত্যা করে রেলের নিচে ফেলে যেতে পারে বলে আমরা ধারনা করছি।
নিহত মোছলেমার শাশুড়ি সেতেরা বেগম জানান, রাত আড়াইটার দিকে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন মোছলেমার ঘরের দরজা খোলা। পরে তিনি খোজনিয়ে দেখেন মোছলেমা এবং তার ছেলে ঘরে নেই। রাতেই আশপাশে খোঁজখবর নিয়ে তাদের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। পরে সকালে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুত্রবধূ ও তার নাতির লাশ সনাক্ত করেন। তবে কেন এমন ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
রেলওয়ে নরসিংদী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ইমাম আরেফিন বলেন, ঘটনাটি সম্ভবত ভোরের। আমরা খবর পেয়ে সকাল এগারটায় ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠাই। এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে পরিবারের লোকজন চাইলে হত্যা মামলা দায়ের করতে পারবেন।
অগ্রদৃষ্টি.কম // এমএসআই











