নব্বইয়ের দশক কিংবা তার পরবর্তী সময়ের প্রবাসী জীবন আজকের মতো এত সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর ছিল না। দূর পরবাসে স্বজনদের চিঠি আর দেশের সংবাদের জন্য প্রবাসীদের প্রাণ যে ব্যাকুলতায় আকুল হতো, তা আজকের সময়ে বসে কল্পনা করাও কঠিন। সেই সময়ে প্রবাসে অবস্থানরত লাখ লাখ বাংলাদেশির কাছে দেশের খবর পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র অবলম্বন ছিল কিছু হাতে গোনা সাময়িকী ও পত্রিকা।
বাকালার সামনে অপেক্ষা এবং কাঙ্ক্ষিত সাপ্তাহিকী
তখনকার দিনে প্রবাসী পল্লীগুলোতে সপ্তাহের শেষ দিনটির গুরুত্ব ছিল অন্যরকম। ‘বর্তমান দিনকাল’, ‘চিত্রবাংলা’, ‘সুগন্ধা’ কিংবা ‘আজকের সূর্যোদয়’ এই জনপ্রিয় ম্যাগাজিনগুলোর জন্য সপ্তাহজুড়ে অধীর অপেক্ষায় থাকতেন প্রবাসীরা। শুক্রবার বা ছুটির দিন সকালে দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে কিংবা গাড়ি চেপে স্থানীয় দোকান বা বাকালায় ছুটে যেতেন তারা।
অনেক সময় পত্রিকা আসার আগেই দোকানে এসে বসে থাকতেন পাঠকরা। একটি নতুন সংখ্যা হাতে পাওয়ার পর সেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ত পুরো প্রবাসী কমিউনিটিতে। একটি পত্রিকা একের পর এক হাতবদল হয়ে পড়া হতো, পরম যত্নে জমিয়ে রাখা হতো প্রতিটি পাতা। কাগজের গন্ধ আর দেশের মাটির খবরের মাঝে প্রবাসীরা খুঁজে পেতেন স্বদেশের সান্নিধ্য।
যুগের আবর্তে গণমাধ্যমের মহাবিপ্লব
সময় গড়িয়েছে, সময়ের সাথে বদলেছে প্রেক্ষাপট। আমরা প্রবেশ করেছি ডিজিটাল যুগে। একসময়ের কাগজের সাময়িকীর স্থান দখল করেছে আধুনিক ও দ্রুতগতির গণমাধ্যম। বাংলাদেশে এখন কার্যক্রম পরিচালনা করছে তিন ডজনেরও বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল। এর পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অগুনতি দৈনিক পত্রিকা এবং লাখ লাখ অনলাইন নিউজ পোর্টাল।
আজ আর দেশের খবরের জন্য প্রবাসীদের সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের এক ক্লিকেই মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচের যেকোনো খবর। ভিডিও কল আর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সৌজন্যে দূরত্বের সীমান্ত রেখা যেন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
হারিয়ে যাওয়া নক্ষত্র ও একটি অধ্যায়ের যবনিকাপাত
প্রযুক্তির এই জোয়ারে যেমন প্রাপ্তি ঘটেছে, তেমনি কিছু স্মৃতি ও ঐতিহ্য আমরা চিরতরে হারিয়েছি। নব্বইয়ের দশকের অনুসন্ধানী ও সাহসী সাংবাদিকতার অন্যতম প্রতীক ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা খ ম মোজাম্মেল হক (যিনি ‘গেদু চাচা’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন)। তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ‘আজকের সূর্যোদয়’ প্রবাসীদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছিল। তাঁর প্রয়াণের পর এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেরও যবনিকাপাত ঘটেছে।
একইভাবে, প্রবীণ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের বিদায়ের সাথে সাথে তাঁর প্রতিষ্ঠিত একাধিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানেরও ইতি ঘটেছে। এই গুণী সাংবাদিকদের প্রয়াণ এবং তাদের পত্রিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া মূলত একটি বিশেষ সোনালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়।
আজকের প্রবাসীরা সেকেন্ডের মধ্যে দেশের সব খবর পাচ্ছেন সত্যি, কিন্তু নব্বইয়ের সেই বাকালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, কাগজের পাতায় হাত বোলানো আর সপ্তাহান্তের অপেক্ষার মাঝে যে গভীর আবেগ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য জড়িয়ে ছিল—তা আজকের ডিজিটাল স্ক্রিনে কিছুটা হলেও অনুপস্থিত। প্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের পুরোনো সেই দিনের স্মৃতিকথা আজও এক চিরন্তন স্মৃতিকাতরতায় ভরিয়ে দেয়।
আ হ জুবেদ
সম্পাদক – অগ্রদৃষ্টি
সাম্প্রতিক খবর:

কুয়েতে প্রবীণ প্রবাসী হারুন মিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল

যে অপরাধের উত্তর নেই: মক্কার ঘটনায় স্তব্ধ প্রবাসী সমাজ

মৌলভীবাজারে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত

কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শিক্ষার্থীর অভিভাবকের আবেগঘন চিঠি: শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য

জেদ্দায় প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সতর্কবার্তা

কুয়েতের সালমি: মরুভূমিতে কোটি টাকার 'গাড়ির বাজার

ইউরোপের চাকরি ও ভিসার প্রলোভন,গ্রেফতার কুয়েতের এক রিক্রুটিং ব্যবসায়ী

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

কুয়েতে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত












