মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শিক্ষার্থী শেখ শামসুজ্জামান এবং তাঁর অভিভাবক খিজির মুহাম্মদ জুলফিকারকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চিরন্তন ও নিবিড় সম্পর্কের এক অনন্য বার্তা সামনে এসেছে। দিবসটি উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক চিঠিতে অভিভাবক খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
চিঠির শুরুতেই শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে পবিত্র কোরআনের বাণী এবং মহানবী (সা.)-এর হাদিসের আলোকে শিক্ষকের উচ্চ মর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে কবি কাজী কাদের নেওয়াজের কালজয়ী ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার উল্লেখ করে শিক্ষকের প্রতি বিনয় ও সম্মানের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
চিঠিতে খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার তাঁর সন্তানকে কেবল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন সৎ, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আকুল আবেদন জানান। তিনি লেখেন, “সন্তান যেন ভবিষ্যতে কেবল বস্তুগত সফলতা নয়, বরং সততা ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—এটাই আমার মূল প্রত্যাশা।”
শিক্ষকদের শিক্ষাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আবেগভরে উল্লেখ করেন, “আমার সন্তান আপনাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, সে আমার হৃদয়ের এক টুকরো।” শিক্ষকদের স্নেহচ্ছায়ায় সন্তান নিরাপদে বেড়ে উঠবে—এই সুদৃঢ় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁদের হাতে সমর্পণ করেছেন বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যতের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, জীবনের প্রয়োজনে শেখ শামসুজ্জামান হয়তো একদিন অনেক দূরে চলে যাবে, লাভ করবে বড় কোনো পরিচয়। কিন্তু তার হৃদয়ের গভীরে শিক্ষকদের দেওয়া শিক্ষা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাবোধ যেন কখনো ম্লান না হয়। জীবনের যেকোনো অর্জনের মুহূর্তে সে যেন শিক্ষকদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।
অভিভাবক হিসেবে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার বলেন, সন্তান যেন এমনভাবে গড়ে ওঠে—যার জ্ঞানে সমাজ আলোকিত হবে, আচরণে মানুষ মুগ্ধ হবে, সততায় পরিবার গর্বিত হবে এবং যার বিনয়ী ব্যবহারে শিক্ষকরা নীরবে এক পরম তৃপ্তি ও আনন্দ অনুভব করবেন।
চিঠির শেষাংশে তিনি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কর্মে বরকত কামনার পাশাপাশি তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, শেখ শামসুজ্জামান মৌলভীবাজার কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম নিবন্ধিত শিক্ষার্থী। তাঁর অভিভাবকের এই আবেগঘন চিঠিটি শিক্ষক দিবসে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও গভীর সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।












