জীবন ও জীবিকার তাগিদে বিশ্বের শতাধিক দেশে আজ এক কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সন্ধানে ছড়িয়ে রয়েছেন। হাড়ভাঙা খাটুনি আর মেধা দিয়ে অর্জিত তাঁদের ঘাম ও শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মান-সম্মান ও সুনাম কেবল অর্থনৈতিক অবদানের ওপর নির্ভর করে না; তা বহুলাংশে নির্ভর করে প্রবাসে অবস্থানরত নাগরিকদের সামাজিক আচরণ, ধর্মীয় ও স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শৃঙ্খলার ওপর।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভাবমূর্তি চরম বিতর্কের মুখে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার অন্তরালে থাকা মূল সত্য, কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং বিশ্বব্যাপী আমাদের প্রবাসী সমাজের মর্যাদা রক্ষার তাগিদ নিয়ে তৈরি এই বিশেষ পর্যালোচনা।
গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিক—নজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির এবং সিটি আক্তার (সুমি/সুইটি আক্তার)—এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জানা যায়, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে ‘অশালীন কর্মকাণ্ড’ সংঘটনের অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ইসলামিক শরিয়া আইনের ‘তা’জির’ ধারার অধীনে বিচারকের বিশেষ বিবেচনাধীন বা সুবিধাজনক শাস্তির মাধ্যম হিসেবে তাঁদের এই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল কিংবা মসজিদটি কোনটি, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিষদ ব্যাখ্যা দেয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মুখরোচক জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন ছড়ালেও আসল সত্য ও আইনি প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে সৌদি আরবস্থিত কূটনৈতিক মিশনকে কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাবাস বা অবহিতকরণ প্রদান করা হয়নি। ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দা কনস্যুলেট ইতিমধ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক পত্র (নোট ভার্বাল) পাঠিয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এক ধরনের গভীর অস্বস্তি ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বহু ভিন্নদেশী সহকর্মী ও বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রশ্ন উঠছে—ঠিক কী ঘটেছিল সেখানে? নিজ দেশের নাগরিকদের এমন মর্মান্তিক ও বিব্রতকর পরিণতি সম্পর্কে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের অভাবে অনেক সৎ, পরিশ্রমী ও সচেতন প্রবাসীও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিরুত্তর ও সংকুচিত বোধ করছেন। কিন্তু একই সাথে, এই ঘটনা আমাদের একটি নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কোনো একক ব্যক্তি বা গুটি কয়েক মানুষের অনভিপ্রেত ও অনিয়ন্ত্রিত আচরণের কারণে লাখ লাখ সৎ ও পরিশ্রমী প্রবাসী বাংলাদেশির সম্মান আজ বিশ্বদরবারে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। একটি জাতির সুনাম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখনই, যখন সেই জাতির নাগরিকরা সততা, শৃঙ্খলা ও স্থানীয় আইন-কানুনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করে।
বর্তমানে বহির্বিশ্বে বহু বিষয়ে অনগ্রসর বা নেতিবাচক ধারণার মুখোমুখি হতে থাকা আমাদের বাংলাদেশিদের স্থানকে উঁচুতে তুলে ধরতে হলে এখন থেকেই কঠোর স্বসংযম ও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। প্রবাসে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিক হলেন নিজ দেশের একেকজন অঘোষিত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। কর্মক্ষেত্রে কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে একটি ছোট ভুল পদক্ষেপ পুরো জাতি ও দেশকে বিশ্বের কাছে খাটো করতে পারে। সৌদি আরবের এই ঘটনাটি যেমন কূটনৈতিক লেভেলে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন, তেমনই প্রবাসে গমনকারী প্রত্যেকটি নাগরিককে নিজ নিজ কর্মস্থলের আইন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সংবেদনশীল হতে হবে। আসুন, ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত পর্যায় থেকে নিজেদের আচরণের উন্নয়ন ঘটাই এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সম্মান, গৌরব ও ঐতিহ্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করি।
আ হ জুবেদ
সম্পাদক – অগ্রদৃষ্টি
সাম্প্রতিক খবর:

মৌলভীবাজারে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত

কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শিক্ষার্থীর অভিভাবকের আবেগঘন চিঠি: শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য

জেদ্দায় প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সতর্কবার্তা

কুয়েতের সালমি: মরুভূমিতে কোটি টাকার 'গাড়ির বাজার

ইউরোপের চাকরি ও ভিসার প্রলোভন,গ্রেফতার কুয়েতের এক রিক্রুটিং ব্যবসায়ী

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

কুয়েতে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কুয়েত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

কুয়েতে শেষ হলো আকামা বদলের সুযোগ, ২৭ হাজার প্রবাসীর খাত পরিবর্তন












