জাকির সিকদার : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিচ্ছে ভারত। বৃহস্পতিবার রাতে যেকোনো সময় তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ভারতের দমদম সংশোধনাগারের জেল সুপার নবীন সাহা দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। নবীন সেন জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দমদম সংশোধনাগার থেকে নূর হোসেনকে নিয়ে পেট্রোপোল সীমান্তের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে।প্রসঙ্গত, উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ১১ নভেম্বর ভারতের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ সরকার। ভারতের স্বাধীনতাকামী সংগঠন উলফার নেতা অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে গ্রেফতার হন। এরপর থেকে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলে বন্দী ছিলেন। অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর এবং নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুপ চেটিয়া যেভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারত গিয়েছে, ঠিক একইভাবে নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনা হবে।’ ‘তাদের সরকার (ভারত) যেদিন আমাদের (বাংলাদেশ) বলবে সে (নূর হোসেন) মুক্ত হয়েছে,
তখন আমরা তাকে নিয়ে আসব। ঠিক এইভাবেই অনুপ চেটিয়ার মতো বর্ডারে (সীমান্তে) তাকে রিসিভ করব। যেভাবে সে (অনুপ চেটিয়া) চলে গেল’ যোগ করন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে দেব, কাউকে নেব; এ ধরনের সম্পর্ক (ভারতের সঙ্গে) আমাদের নেই। ভারতের সঙ্গে একটা ভাল সম্পর্ক আমরা মেইনটেইন করে চলি। তারা আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমাদের সমস্যায় তারা (ভারত সরকার) সহযোগিতা করে, তাদের সমস্যায় আমরা সহযোগিতা করি।’ নূর হোসেন ধরা পড়ার পর বাংলাদেশ তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে অনুরোধ করে। দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন করে আদালতে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম সন্দীপ চক্রবর্তী ১৬ অক্টোবর নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের সরকারি কৌঁসুলি বিকাশ রঞ্জন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভারতের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২১ ধারায় নূর হোসেনকে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা থেকে প্রত্যাহার করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানানো হয়েছিল। বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ নেই।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িয়ে যান, যা সে সময় দেশজুড়ে হইচই ফেলে দেয়।
সাত খুনের পর নজরুলের স্ত্রী বাদী হয়ে নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। আর চন্দন সরকারের পরিবার অজ্ঞাতনামা আসামির কথা উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করে।
দু’টি মামলায় এ বছরের এপ্রিলে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এতে নূর হোসেনসহ মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যাব-১১ এর ২৫ জন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন র্যাব-১১ এর তখনকার অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, মেজর আরিফ ও লে. কমান্ডার এম এম রানা।
সাত খুনের ঘটনার পরপরই নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যান এবং গত বছরের ১৪ জুন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাগুইআটি থানার ইন্দ্রপ্রস্থ আবাসনের পঞ্চম তলার একটি ঘর থেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তখন থেকে তিনি দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।











