ডেস্ক রিপোর্ট – মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েত তার শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য পরিচিত। বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা সত্ত্বেও দেশটি তার নাগরিকদের জন্য বিশ্বের অন্যতম উচ্চমানের জীবনযাত্রা নিশ্চিত করে আসছে। নিচে কুয়েতের বর্তমান অর্থনীতির প্রধান দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মোট জিডিপি (GDP)
২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, কুয়েতের নমিনাল জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ১৭২.৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের তুলনায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা মন্থর থাকলেও দেশটি তার বিশাল সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের (Sovereign Wealth Fund) কারণে অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্থিতিশীল।
২. মাথাপিছু আয় (GDP per Capita)
কুয়েতের মাথাপিছু আয় বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।
২০২৬ সালের তথ্যমতে:
• মাথাপিছু আয়: প্রায় ৩৩,১৬৪ মার্কিন ডলার। এটি কুয়েতের উচ্চ জীবনযাত্রার মান এবং শক্তিশালী ক্রয়ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটায়।
৩. সরকারি রাজস্ব (Government Revenue)
কুয়েতের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগই আসে খনিজ তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে।
• মোট প্রাক্কলিত রাজস্ব: প্রায় ১৮.২ বিলিয়ন কুয়েতি দিনার (২০২৫-২৬ অর্থবছর)।
• আয়ের উৎস: মোট রাজস্বের প্রায় ৭৯% আসে তেল খাত থেকে। বাকি অংশ আসে কর এবং অ-তৈল খাত (Non-oil sector) থেকে। বর্তমানে দেশটি কর্পোরেট ট্যাক্স এবং বিভিন্ন ফি বৃদ্ধির মাধ্যমে অ-তৈল রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
৪. নাগরিকদের জন্য সরকারি ব্যয়
কুয়েত সরকার তার নাগরিকদের জন্য বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করে।
• মোট বাজেট ব্যয়: প্রায় ২৪.৫ বিলিয়ন কুয়েতি দিনার।
• ব্যয়ের খাত: মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৬% ব্যয় হয় সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন এবং সরাসরি নাগরিক ভর্তুকিতে (Subsidies)।
• মাথাপিছু ব্যয়: নাগরিক প্রতি সরকারি ব্যয়ের সঠিক একক অংক পরিবর্তিত হলেও, বাজেটের প্রায় ৪ বিলিয়ন দিনার কেবল ভর্তুকি (বিদ্যুৎ, পানি, খাদ্য) এবং ১৬ বিলিয়ন দিনার বেতন খাতে ব্যয় হয়, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশটির নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে সহজতর করে।











