নিজস্ব প্রতিবেদক | কুয়েত সিটি
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপোগুলো লক্ষ্য করে আজ রোববার ভোরে একটি বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ‘কুয়েত টাইমস’ দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করেছে। কুয়েতি সামরিক বাহিনী এই ঘটনাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর ওপর একটি ‘সরাসরি হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ ভোররাতে দেশের আকাশসীমায় বেশ কিছু শত্রুভাবাপন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তবে কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেগুলো আকাশেই প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার ঘটনা এমন এক সংবেদনশীল সময়ে ঘটল যখন পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলো ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও যুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই হামলা শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা হতে পারে।
এর আগেও কুয়েত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো বিভিন্ন সময় ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামোতে অতীতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। কুয়েত সাধারণত এই ধরণের সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও, আজকের এই সরাসরি হামলা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার উৎস ও ধরন জানতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











