ঝালকাঠিতে ধর্ষণের শিকার শিশু কাজল আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তস্তান্ত করা হয়েছে। ধর্ষনের শিকার ১২ বছরের এ শিশু গৃহপরিচারিকা বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে শনিবার সকাল ৬ টায় হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। কাজল আক্তার নামের ওই শিশুটি বানারীপাড়া উপজেলার বাকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং দিনমজুর হিরন দাওলাদারের মেয়ে।
নিহত শিশুর বাবা দিনমজুর হিরন হাওলাদার জানান, ১ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তান নিয়ে তার পরিবার। তার শাশুরী রুবী বেগম গত ৫ মাস পূর্বে বড় মেয়ে কাজলকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বালিগোনা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মন্নানের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে দেন। মন্নান শ্বশুর বাড়ির সম্পর্কের দিক থেকে তার (মেয়ের বাবার) মামা শ্বশুর। গত ৭/৮ দিন পূর্বে মন্নান ফোনে তাদের জানায়, তার মেয়ে খুব অসুস্থ। তাকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।এরপর গত ৮ মার্চ লোক দিয়ে মেয়েকে তার বাবার বাড়ি বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ি আবাসন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। মান্নান এর পাঠানো লোকেরা শিশুটিকে বাবার বাড়িতে রেখে কাউকে কিছু না বলেই কৌশলে পালিয়ে যায়।
এদিকে বানারীপাড়ায় নিয়ে আসার পরে স্থানীয় বাকপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে মেয়ের শারিরীক অবস্থার কথা জানালে তিনি স্থানীয় তাসলিমা বেগম নামের এক মহিলার মাধ্যমে থানায় পাঠিয়ে দেন। পুলিশ কাজলের শারিরীক অবস্থা দেখে ওই দিনই বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। তখন শিশুটি সম্পূর্ণ ভাবে অচেতন অবস্থায় ছিলো। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে ৯ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশু টিকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম জানান, মৃতের স্বজনরা ধর্ষনের বিষয়টি প্রথমে গোপন রেখে গত ৯ মার্চ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিনি ওয়ার্ডে ভর্তি করান। এরপর সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা বুঝতে পেরে সার্জারী বিভাগ হয়ে গাইনী ওয়ার্ডে প্রেরন করেন। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে ধরা পড়ে শিশুটি ধর্ষনের শিকার হয়েছে।
পরিচালক ডা. সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো তখন সে অজ্ঞান অবস্থায় ছিলো। যে কারনে তার কাছ থেকে ধর্ষণ কিংবা শারিরীক সমস্যার কোন বর্ণনা জানা যায়নি। তবে শিশুটির শারিরীক অবস্থা এতোই খারাপ ছিলো যে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের কারনেই তার মৃত্যু হয়।
মেয়ের খালু আমির হোসেন বলেন, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মন্নান বয়স্ক লোক। তার একটি বিবাহিত ছেলে আছে। যার নাম মামুন। গত প্রায় মাস খানেক পূর্বে সে বিদেশে গেছে। ধারনা করা হচ্ছে মন্নান এর পরিবারের লোক দ্বারাই শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শিশুটিকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার আলামত তার শরীরেই রয়েছে। মুখমন্ডল এবং পিঠ সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড় এবং আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া শিশুটির সমস্ত শরীর ফুলে গেছে।
এবিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিশুটি আমার এলাকার। তাকে নিয়ে পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিলো। কিন্তু শিশুটি তখন কথা বলতে পারছিলো না। তাই তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেই।
তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি ঝালকাঠিতে ঘটেছে। তাই মামলা হলে সেখানেই হবে। আমি বিষয়টি নিয়ে ঝালকাঠি থানার ওসির সাথে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যপারে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. মাহে আলম বলেন, বরিশালে শিশুটির লাশের ময়না তদন্ত হয়েছে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত ভাবে জানা যাবে। রিপোর্ট অনুযায়ি পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ঝালকাঠি থানা পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও শিশুটির পরিবারের অভিযোগ এলেও সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে, বলেন ওসি মাহে আলম।











