জগলুল হুদা : এবার ঈদে ট্যুরিষ্টদের কাছে
টানতে আধুনিক অবকাঠামো আর প্রাকৃতিক রূপে
সাজানো রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাইয়ের দর্শনীয়
স্থানগুলো এখন দর্শনার্থির উপচে পড়া ভীরে মুখর।
দর্শনাথির প্রিয় ঠিকানায় পরিণত হয়েছে রাঙ্গুনিয়া-
কাপ্তাইয়ের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। বৃষ্টির কারণে
দর্শনার্থির আনন্দ কিছুটা বিঘিœত হলেও ধমিয়ে
রাখতে পারেনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঈদের
ছুটি শেষ হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি
এখনও চলছে। তাই বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও
ঘুরতে দেখা যাচ্ছে এসব কেন্দ্রগুলোতে। কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছেন সব মিলিয়ে এবার ঈদে ৫০হাজার অধিক
দর্শনার্থি ভ্রমনে এসেছেন রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাইয়ের
এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।
মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার
চন্দ্রঘোনা শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী পার্ক,
সরফভাটার ক্ষুদ্র দ্বীপ কর্ণফুলী চিড়িঙ্গা
আইল্যান্ড, উত্তর রাঙ্গুনিয়া চাকমা রাজার বাড়ী,
কোদালার ইষ্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির ১৫০ বছরের
ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দেশের প্রথম কোদালা চা বাগান,
আমিরাতের প্রয়াত সুলতান আল নাহিয়ানের স্বপ্নের
উপশহর সৌদিয়া প্রজেক্ট সহ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন
পর্যটন স্পটে ঘুরতে এসেছেন নানা শ্রেণি পেশার
মানুষ। অন্যদিকে বিনোদন প্রেমীদের উপচে পড়া
ভীর পড়েছে পার্বত্য এলাকার কাপ্তাইয়ের পর্যটন
স্পটগুলোতেও। নদীর ধারে গড়ে উঠা প্যানোরমা জুম
রেস্তোরা, কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক, বন বিভাগের
কাপ্তাই জাতীয় উদ্যাান, পাহাড়িকা পিকনিক স্পট,
লেক ভিউ পিকনিক স্পট, গিরি নন্দিনি সহ
কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো
দর্শনার্থির উপচে পড়া ভীর চোখে পড়ার মতো।
এছাড়াও কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কাপ্তাই লেক,
কাপ্তাই বড়াদম এলাকা, কাপ্তাই কামিলাছড়ি সবুজ
পাহাড়, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, বালুর চর, সীতা
পাহাড়ের সবুজ অরন্য, ওয়া¹া চা বাগান, এশিয়ার
বৃহত্তম কাগজ কল কর্ণফুলী পেপার মিলসহ বিভিন্ন
আকর্ষনীয় বিনোদন স্পটগুলোতে এখন পর্যটকদের
পদচারণায় মুখর। এবার ঈদে দর্শনার্থিদের কাছে
বাড়তি আকর্ষন ছিল কাপ্তাইয়ের নদীর তীরে গড়ে
উঠা বর্ডার গার্ড কতৃক পরিচালিত প্যানোরমা জুম
রেস্তোরা, বন বিভাগের ন্যাশনাল পার্ক ও দেশের
বৃহত্তম পক্ষিশালা শেখ রাসেল এ্যাভিয়ারী পার্ক।
পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানো ও আনন্দ মূহুর্তকে মধুময়
করে তুলতে নৌ ভ্রমন ব্যবস্থা পর্যটকদের দিচ্ছে
বাড়তি আনন্দ।
চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে ভ্রমনে আসা মামুন
নামে এক কিশোর জানান, “বন্ধুদের সাথে নিয়ে ঘুৃরতে
এসেছি ঈদ আনন্দকে উপভোগ করতে। চট্টগ্রাম-
কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি সড়কের কামিল্যাছড়ি ও
বড়াদমের প্রকৃতিক দৃশ্যগুলো অপূর্ব সুন্দর
লেগেছে”। অপর এক দর্শনার্থি মায়েশা
জানান,“কাপ্তাই থেকে রাঙ্গামাটি যাওয়ার সময়
দুপাশে কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করার
মতো। সবচেয়ে আকর্ষন লেগেছে সড়কের দু’পাশে থৈ
থৈ করা লেকের পানিগুলো”। ৭ বছরের শিশু তানিশা।
সেও এসেছে তার মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের
আনন্দ উপভোগ করতে। তানিশার বাবা স্কুল
শিক্ষক মঞ্জুরুল আলম জানান, “পাহাড়ের চূড়ায়
সড়ক পথ। সড়কের পাশে নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত
থাকা জেলে। বন বিভাগের জাতীয় উদ্যান এলাকায়
বিভিন্ন প্রকৃতিক তোরণ। বালুর চর এলাকার
কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের পাশে বিশাল আকৃতির
গড়া দুপাশে দু’টি হাতি শুড় তুলে পর্যটকদের
আমন্ত্রন। সীতা পাহাড়ের নদীর ধারে উঁচু নিচু
পাহাড়। মনে হচ্ছে সত্যিই এক নৈশ্বসর্গিক ভোবন
অবলোকনে এসেছি”।
যতদূর চোখ যায় সবুজ পাহাড় ও প্রকৃতি। সাথে
পর্যটন স্পটগুলোর বিভিন্ন আকর্ষনীয় প্যাকেজ।
এছাড়া শতশত বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি ও
জীবজন্তু। আর তাই এবার ঈদে স্ব-পরিবার ও কাছের
মানুষকে সাথে নিয়ে মনোরম পরিবেশে আনন্দটা
জমিয়ে তুলতে দর্শনার্থিরা বেঁচে নিয়েছেন
রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাইয়ের এসব দর্শনীয় স্থানগুলো।











