মঙ্গলবার মধ্যরাত। ঘড়ির কাঁটা ১২টা পার হতেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আগুনের লহরি। কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন ছুড়তে শুরু করে ইরান। প্রায় ঘণ্টাখানেক স্থায়ী এই মুহুর্মুহু হামলায় কেঁপে ওঠে পুরো অঞ্চল। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোতে অবস্থানরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কাটিয়েছেন জীবনের অন্যতম ভয়াবহ এক রাত।
হামলার শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক প্রবাসীদের আতঙ্কিত স্ট্যাটাসে সয়লাব হয়ে যায়। একেকটি বিস্ফোরণের শব্দ আর সাইরেনের আওয়াজে প্রবাসীরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা জানান, প্রতি মুহূর্ত কাটছিল চরম উৎকণ্ঠায়। আমিরাত প্রবাসী সাংবাদিক আব্দুল মন্নান এবং কাতার প্রবাসী সাংবাদিক আকবর হোসেন বাচ্চু ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, “প্রবাস জীবনে এমন বিভীষিকাময় রাত খুব কমই এসেছে। একটু পর পরই সাইরেনের বিকট শব্দে বুক কেঁপে উঠছিল। আকাশে ড্রোন আর মিসাইলের ইন্টারসেপশনের আলো দেখে মনে হচ্ছিল যুদ্ধ বুঝি দোরগোড়ায়।”
মধ্যরাতের এই অতর্কিত হামলায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। তবে প্রবাসীদের বড় একটি অংশ যারা খোলা জায়গায় বা বাণিজ্যিক এলাকায় কর্মরত, তাদের মধ্যে ভয় ছিল সবচেয়ে বেশি। গণমাধ্যমকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে জানিয়েছেন, এই এক ঘণ্টার তাণ্ডব দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও থমথমে ভাব বিরাজ করছে সর্বত্র। দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আ হ জুবেদ– সম্পাদক অগ্রদৃষ্টি











