এম এস ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর করা আপিল শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, নিজামীর মামলাটি মঙ্গলবার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ১০ নম্বরে রাখা হয়েছ। নিজামীর আইনজীবী প্যানেলের সদস্য শিশির মনিরও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় রয়েছে। এ বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে এ পর্যন্ত ১৯টি মামলায় ২১ জনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ১৪ জন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন। এর মধ্যে ছয়টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে। এখনো নিজামী, সাকা চৌধুরীসহ আটজনের করা আপিল বিচারাধীন।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর নিজামীর পক্ষে তার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল দায়ের করেন।
নিজামীর আপিলে ১৬৮টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ১২১ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে। আপিলে নিজামীর দণ্ড বাতিল চেয়ে খালাসের আরজি জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যেভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর শুনানি গ্রহণ করছেন; সেই গতি অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরেই নিজামীর আপিল শুনানি শেষ হবে।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে গঠন করা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
এই অভিযোগ গুলোর মধ্যে ছিল হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়ন ও বিতাড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য চালানো হত্যাকাণ্ড। বাকি আটটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলো থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।
অগ্রদৃষ্টি.কম // এমএসআই











