টিটু আহমেদঃ বিগত চার মাস ধরে বেতন-ভাতা, রেশন ও চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের বৈকুণ্ঠী চা বাগানের ৪১৫ শ্রমিক ও ৮ জন স্টাফ।
এছাড়া বেতন-ভাতা না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে শ্রমিক ও স্টাফসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি বাগানের শ্রমিকদের। এতে করে যেকোনো মুহূর্তে বাগানে শ্রমিক বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯৫৫ একর ভূমি নিয়ে বৈকুণ্ঠী চা বাগান।
চলতি বছরের ১০ মে থেকে বাগান মালিকের অব্যবস্থাপনার কারণে চা বাগানের ৪১৫ জন শ্রমিক ও ৮ স্টাফ নিয়মিত মজুরি, রেশন ও ওষুধ পাচ্ছেন না। তারা ন্যায্য মজুরি না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বাগান পঞ্চায়েত সেক্রেটারি মনিব কর্মকার জানান, শ্রমিক প্রভিন্ডেট ফান্ডের ২৪ মাসের ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ২৯ টাকা বাগান মালিকপক্ষ আত্মসাত করেছে। ৪ মাসের স্টাফ বেতন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৫ টাকা, শ্রমিকদের মজুরি ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ও হাজিরা বোনাস ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করেই বাগানের ম্যানেজার শাহজাহান ভূঁইয়া পালিয়ে গেছেন।
শ্রমিকরা জানান, ন্যায্য মজুরি ও রেশন না পেয়ে শ্রমিকদের পরিবারের প্রায় আড়াই হাজার সদস্য অর্ধাহারে-অনাহারে জীবনযাপন করছে। ইতোমধ্যে নিতাই সাঁওতাল, প্রবণ সাঁওতাল ও লক্ষ্মীমনি ভূমিজ নামে ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যু হয়েছে বাগানের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও মরণ চক্রবর্তীর। স্টাফদের দাবি, বেতন বঞ্চিত শ্রমিকদের চাপের কারণেই স্ট্রোক করে তারা মারা গেছেন।
নারী চা শ্রমিক সর্দার অমলা রেলী বাংলানিউজকে জানান, বেতন ও রেশনের টাকা না পাওয়ায় বাগানের শ্রমিকরা বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের ভরণ-পোষণ ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তারা। তবুও বাগানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাগানের টিলা বাবু (মালিক পক্ষের কর্মচারী) দীপক কুমার রায় বাংলানিউজকে বলেন, শুধু শ্রমিকরা নয়, আমরাও বেতন, ভাতা, রেশন পাচ্ছি না। বেতনের টাকার জন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দেই-দিচ্ছি করে সময় নিচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন, স্ট্রোক করে তার ২ সহকর্মী মারা গেছেন।
এ ব্যাপারে বাগানের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও রেশনের টাকা পরিশোধ করা হবে।











