বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে ভূমিধসের আশংকায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশে দিয়েছে প্রশাসন।
গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে এবং এর ফলে কোন কোন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং বন্যাও দেখা দিয়েছে।
বর্ষা মওসুমে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে ভূমিধসে এর আগের বছরগুলোতে বহু মানুষ মারা গেছে।
সেই প্রেক্ষাপটেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লোকজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে বান্দরবান জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা সংকেত দিয়ে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামীকাল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘন্টায় ২৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটিসহ চট্টগ্রামের আশেপাশের জেলাগুলোতেও।
অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাসও ব্যহত হচ্ছে এই বৃষ্টির কারণে। বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাংলাদেশের মধ্যকার প্রথম টেস্টের খেলাও।
অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ধস এবং ভূমিধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে।
শনিবার ভারী বর্ষণের কারণে সতর্কতা জারির পর বান্দরবানে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বান্দরবনের জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী বলছেন, বিচ্ছিন্নভাবে পাহাড়ের নীচে অবস্থান করা মানুষজনকে সরে যাবার জন্যই তারা এই নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্থানীয় স্কুলগুলোতে মানুষদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানান মি. চৌধুরী।
বাংলাদেশের সিলেটেও গত কয়েকদিন যাবত প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে শনিবার বৃষ্টিপাত কমে এসেছে।
এই বৃষ্টিপাত অন্তত আরো একদিন চলবে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সানাউল হক মন্ডল।
“মৌসুমী বায়ু সক্রিয় অবস্থায় আছে এবং হয়তো আগামীকাল পর্যন্ত কম-বেশি এরকম বৃষ্টি হবে। সেইসময় পর্যন্ত আমাদের সতর্কবাণী বলবৎ থাকবে” – বলেন মি. মন্ডল।
রোববারের পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং খুলনা জেলায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা অনেকটাই কমে আসবে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।











