Menu |||

“নীল কষ্ট” ডাক্তার-ফারহানা মোবিন

উড়ে যাচ্ছে নীল মেঘ। পার্কের কাশফুলও মৃদু হাওয়ায় দুলছে। সেই কাশফুলের মতো করে বাতাসে দুলছে নীলার চুল। দীঘল কালো চুলগুলো পার্কের বেঞ্চের নীচে ঝুলছে। হাল্কা রোদ লেগে চুলগুলো রেশম কালো লাগছে। এতো বড় চুল নীলার ভালো লাগেনা। কিন্তু উপল এর ভীষণ প্রিয় বড় চুল। তাই নীলা তার প্রিয় বয়কাট চুলগুলোকে এতো বড় করেছে। শুধুমাত্র উপলের জন্য। উপলের ভালো লাগাকে সম্মান দেয়ার জন্য নীলার এই সাধনা।
ঘড়ির কাঁটাটা ছুটেই চলছে। বিরক্তি মাখা মুখে নীলা তাকাচ্ছে চারিদিকে। আজ কতো গুরুত্বপূর্ণ দিন। অথচ উপলের কোন খোঁজ নেই। এতো দেরী করছে।
বাদামওয়ালা : আফা, বাদাম লন। স্যার আইয়া পড়বো। মনে কষ্ট লইয়েন না।
নীলা : না ভাই, বাদাম লাগবে না। তুমি যাও।
হঠাৎ ছেঁড়া জামা পরে সামনে এলো ছোট্ট একটি মেয়ে। ধূলায় জট বেঁধে গেছে চুলে। দুই পা ভর্তি কাদা। বিস্ময়ের দৃষ্টিতে প্রশ্ন করলো, মেডাম, আপনি কি ছ্যাকা খাইছেন? একা একা পার্কে বইয়া আছেন?
রাগে লাল হয়ে উঠলো নীলার দুই চোখ। বিরক্তিতে বেঞ্চ ছেড়ে ঘাসের উপর বসল। বিকালটা বিদায় নিয়েছে। পাখিগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে বাসায় ফেরার।
1601491_487015224772000_7583356913488279290_nওহ! কি যে বিরক্ত লাগছে! উপল ফোন রিসিভ করছে না। হয়তো জ্যামে বসে আছে। হঠাৎ কে যেন পেছন থেকে আলতো করে ধরলো নীলার দুই চোখ। পারফিউমের মিষ্টি গন্ধ ! আধুনিকতা আর ব্যক্তিত্বে উজ্জ্বল নীলার উপল। নীলা মুহূর্তেই বুঝে ফেলল, এই প্রিয় আঙ্গুলগুলো কার।
নীল : আমি যাচ্ছি। গুডবাই। তুমি অন্য মেয়ের কাছে চলে যাও।
উপল :     প্লীজ ‘নীল’, এমন করোনা। অফিসে মিটিং ছিলো। রাস্তায় ভয়ানক জ্যাম। তুমি এতোবার ফোন করেছো, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় পাইনি। এখন সন্ধ্যা ৬টা।
নীলা :     হায় ! হায় ! চলো আগে কিছু খাবা।
উপল :     না কিছুই খাবোনা। অন্য মেয়ের কাছে যাবো।
নীলা : তার মানে ?
উপল : তুমি যে বললা, গুডবায়। আর অন্য মেয়ের কাছে যেতে।
নীলা : সেটাতো অভিমান করে বলেছি। মন থেকে বলিনি।
নীলার খুব সুন্দর হাসির কাছে পরাজিত হলো উপল। দুজনে হাত ধরে বের হয়ে গেলা পার্ক থেকে।
২য় দৃশ্য :
উপল : এতো কষ্ট করোনাতো। ছেলেরা মেয়েদের বাসায় যায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আর ওরা আসবে আমাদের বাসায়। এতো রান্না করার কিছু নাই।
মহতী বেগম :     এতো ধনী মানুষ আমার বাসায় আসবে। এতো আমার ভাগ্যের ব্যাপার। আমার এই টিনের বাড়ীতে তারা আসবে।
উপল ঃ     মা, নীলা আমাকে মানুষ হিসাবে পছন্দ করেছে। আমাদের টাকা পয়সা দেখে না। তোমার ছেলে এতো গুডবয় যে, নীলা তার বাবার প্রাসাদ ছেড়ে এই টিনের ঘরে স্বেচ্ছায় থাকতে প্রস্তুত। শুধুমাত্র তোমার গুডবয়ের জন্য।
বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন উপলকে। আনন্দে ভিজে উঠল মায়ের দুই চোখ।
হঠাৎ বেজে উঠল কলিং বেল। উপল দরজা খুলল। নীলার বাবাকে দেখা মাত্রই ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন মহতী বেগম।
তার হাত থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। হাত থেকে ছিটকে পড়লো মাংসের বাটি। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করলেন ৪৩ বছরের না বলা সব কথা। নীলার বাবা একজন রাজাকার। মহতী বেগমকে মুক্তিযুদ্ধের সময় তুলে দেন পাকিস্তানী সেনাদের হাতে।11781646_598292013644320_8616524696887366213_n
মহতী বেগম জানেন না, উপল কার সন্তান। কি তার পিতৃ পরিচয়। মুহূর্তে মাথায় আকশ ভেঙ্গে পড়লো উপলের। উপলের হৃদয় ভেঙ্গে গেল টুকরো টুকরো হয়ে। লজ্জা, ঘৃনায় বাকশূন্য হয়ে পড়লো উপল। এই সমাজে যার এতো সম্মান, এতো বছর ধরে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার তা মুহূর্তে ধূলায় মিশে গেল। কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা গেলেন মহতী বেগম।
দৃশ্য ৩
অফিস থেকে ফেরার পথে হতবাক হলো উপল। নীলাদের প্রাসাদসম বাড়ীর দরজায় এতো কিসের ভীড়। রক্ত জমাট বেধে গেল উপলের। একি দেখছে সে। নীল বাসার আট তলা ছাদের উপর থেকে কিছুক্ষণ পূর্বে লাফ দিয়েছে। রক্তে ভিজে যাচ্ছে তার মাথা, লাল সিঁদুর হয়ে গেছে তার দীঘল কালো চুল। উপল চিৎকার করে কেঁদে উঠল। বসে পড়ল রক্তে ভেজা মার্বেল পাথরের মেঝেতে। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল “এ তুমি কি করলে নীলা, এ তুমি কি করলে নীল, কেন এমন করলে ?” তোমারতো কোন অপরাধ ছিলোনা।
কে একজন উপলের হাতে গুঁজে দিল একটি চিরকুট। তাতে নীলার হাতের লেখা “আমায় ক্ষমা কর উপল, আমার বাবা একজন রাজাকার, তার এই লুটপাটের সাম্রাজ্যে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। তোমার মায়ের  সাথে আমার বাবা যা করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, এই মুখ আমি পৃথিবীকে কিভাবে দেখাবো উপল? আমায় তুমি ক্ষমা করো।”
শক্ত পাথর হয়ে গেল উপল। দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে বসে রইল নীলার নিথর দেহের পাশে। বাড়তে শুরু করল উৎসুক জনতার কোলাহল। নীলকষ্টে বাকরুদ্ধ হয়ে রইল উপল।

ডাক্তার, ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার (গাইনী এন্ড অবস্)
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» টেলি সামাদ হাসপাতালে

» মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালন

» বিদেশি সংস্থার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই: ফখরুল

» আজ সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ

» জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ

» প্রার্থী চূড়ান্ত, প্রচারযুদ্ধ শুরু

» মৌলভীবাজারে সুজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্ণীতি অভিযোগ

» বাংলাদেশ ক্রিকেট: দৌড়া বাঘ আইলো যেভাবে এক যুগে

» অন্ধ নারী যেভাবে এগিয়ে এলেন অন্যদের সহায়তায়

» মৌলভীবাজারে ধূমপানকে কেন্দ্র করে নিহত মগনু মিয়া

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

“নীল কষ্ট” ডাক্তার-ফারহানা মোবিন

উড়ে যাচ্ছে নীল মেঘ। পার্কের কাশফুলও মৃদু হাওয়ায় দুলছে। সেই কাশফুলের মতো করে বাতাসে দুলছে নীলার চুল। দীঘল কালো চুলগুলো পার্কের বেঞ্চের নীচে ঝুলছে। হাল্কা রোদ লেগে চুলগুলো রেশম কালো লাগছে। এতো বড় চুল নীলার ভালো লাগেনা। কিন্তু উপল এর ভীষণ প্রিয় বড় চুল। তাই নীলা তার প্রিয় বয়কাট চুলগুলোকে এতো বড় করেছে। শুধুমাত্র উপলের জন্য। উপলের ভালো লাগাকে সম্মান দেয়ার জন্য নীলার এই সাধনা।
ঘড়ির কাঁটাটা ছুটেই চলছে। বিরক্তি মাখা মুখে নীলা তাকাচ্ছে চারিদিকে। আজ কতো গুরুত্বপূর্ণ দিন। অথচ উপলের কোন খোঁজ নেই। এতো দেরী করছে।
বাদামওয়ালা : আফা, বাদাম লন। স্যার আইয়া পড়বো। মনে কষ্ট লইয়েন না।
নীলা : না ভাই, বাদাম লাগবে না। তুমি যাও।
হঠাৎ ছেঁড়া জামা পরে সামনে এলো ছোট্ট একটি মেয়ে। ধূলায় জট বেঁধে গেছে চুলে। দুই পা ভর্তি কাদা। বিস্ময়ের দৃষ্টিতে প্রশ্ন করলো, মেডাম, আপনি কি ছ্যাকা খাইছেন? একা একা পার্কে বইয়া আছেন?
রাগে লাল হয়ে উঠলো নীলার দুই চোখ। বিরক্তিতে বেঞ্চ ছেড়ে ঘাসের উপর বসল। বিকালটা বিদায় নিয়েছে। পাখিগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে বাসায় ফেরার।
1601491_487015224772000_7583356913488279290_nওহ! কি যে বিরক্ত লাগছে! উপল ফোন রিসিভ করছে না। হয়তো জ্যামে বসে আছে। হঠাৎ কে যেন পেছন থেকে আলতো করে ধরলো নীলার দুই চোখ। পারফিউমের মিষ্টি গন্ধ ! আধুনিকতা আর ব্যক্তিত্বে উজ্জ্বল নীলার উপল। নীলা মুহূর্তেই বুঝে ফেলল, এই প্রিয় আঙ্গুলগুলো কার।
নীল : আমি যাচ্ছি। গুডবাই। তুমি অন্য মেয়ের কাছে চলে যাও।
উপল :     প্লীজ ‘নীল’, এমন করোনা। অফিসে মিটিং ছিলো। রাস্তায় ভয়ানক জ্যাম। তুমি এতোবার ফোন করেছো, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় পাইনি। এখন সন্ধ্যা ৬টা।
নীলা :     হায় ! হায় ! চলো আগে কিছু খাবা।
উপল :     না কিছুই খাবোনা। অন্য মেয়ের কাছে যাবো।
নীলা : তার মানে ?
উপল : তুমি যে বললা, গুডবায়। আর অন্য মেয়ের কাছে যেতে।
নীলা : সেটাতো অভিমান করে বলেছি। মন থেকে বলিনি।
নীলার খুব সুন্দর হাসির কাছে পরাজিত হলো উপল। দুজনে হাত ধরে বের হয়ে গেলা পার্ক থেকে।
২য় দৃশ্য :
উপল : এতো কষ্ট করোনাতো। ছেলেরা মেয়েদের বাসায় যায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আর ওরা আসবে আমাদের বাসায়। এতো রান্না করার কিছু নাই।
মহতী বেগম :     এতো ধনী মানুষ আমার বাসায় আসবে। এতো আমার ভাগ্যের ব্যাপার। আমার এই টিনের বাড়ীতে তারা আসবে।
উপল ঃ     মা, নীলা আমাকে মানুষ হিসাবে পছন্দ করেছে। আমাদের টাকা পয়সা দেখে না। তোমার ছেলে এতো গুডবয় যে, নীলা তার বাবার প্রাসাদ ছেড়ে এই টিনের ঘরে স্বেচ্ছায় থাকতে প্রস্তুত। শুধুমাত্র তোমার গুডবয়ের জন্য।
বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন উপলকে। আনন্দে ভিজে উঠল মায়ের দুই চোখ।
হঠাৎ বেজে উঠল কলিং বেল। উপল দরজা খুলল। নীলার বাবাকে দেখা মাত্রই ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন মহতী বেগম।
তার হাত থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। হাত থেকে ছিটকে পড়লো মাংসের বাটি। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করলেন ৪৩ বছরের না বলা সব কথা। নীলার বাবা একজন রাজাকার। মহতী বেগমকে মুক্তিযুদ্ধের সময় তুলে দেন পাকিস্তানী সেনাদের হাতে।11781646_598292013644320_8616524696887366213_n
মহতী বেগম জানেন না, উপল কার সন্তান। কি তার পিতৃ পরিচয়। মুহূর্তে মাথায় আকশ ভেঙ্গে পড়লো উপলের। উপলের হৃদয় ভেঙ্গে গেল টুকরো টুকরো হয়ে। লজ্জা, ঘৃনায় বাকশূন্য হয়ে পড়লো উপল। এই সমাজে যার এতো সম্মান, এতো বছর ধরে গড়ে তোলা ক্যারিয়ার তা মুহূর্তে ধূলায় মিশে গেল। কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা গেলেন মহতী বেগম।
দৃশ্য ৩
অফিস থেকে ফেরার পথে হতবাক হলো উপল। নীলাদের প্রাসাদসম বাড়ীর দরজায় এতো কিসের ভীড়। রক্ত জমাট বেধে গেল উপলের। একি দেখছে সে। নীল বাসার আট তলা ছাদের উপর থেকে কিছুক্ষণ পূর্বে লাফ দিয়েছে। রক্তে ভিজে যাচ্ছে তার মাথা, লাল সিঁদুর হয়ে গেছে তার দীঘল কালো চুল। উপল চিৎকার করে কেঁদে উঠল। বসে পড়ল রক্তে ভেজা মার্বেল পাথরের মেঝেতে। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলল “এ তুমি কি করলে নীলা, এ তুমি কি করলে নীল, কেন এমন করলে ?” তোমারতো কোন অপরাধ ছিলোনা।
কে একজন উপলের হাতে গুঁজে দিল একটি চিরকুট। তাতে নীলার হাতের লেখা “আমায় ক্ষমা কর উপল, আমার বাবা একজন রাজাকার, তার এই লুটপাটের সাম্রাজ্যে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। তোমার মায়ের  সাথে আমার বাবা যা করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, এই মুখ আমি পৃথিবীকে কিভাবে দেখাবো উপল? আমায় তুমি ক্ষমা করো।”
শক্ত পাথর হয়ে গেল উপল। দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে বসে রইল নীলার নিথর দেহের পাশে। বাড়তে শুরু করল উৎসুক জনতার কোলাহল। নীলকষ্টে বাকরুদ্ধ হয়ে রইল উপল।

ডাক্তার, ফারহানা মোবিন
মেডিকেল অফিসার (গাইনী এন্ড অবস্)
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে নৈতিক শক্তি ও সাহস নিয়ে পুলিশ এখন থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারবে। আপনি কি তা মনে করেন?

প্রবাসীদের সেবায় ”প্রবাসীর ডাক্তার” শুধুমাত্র বাংলাটিভিতে

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 / +8801920733632

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com