দেশের প্রতিটি স্কুলে মিড ডে মিল চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দিবসটি পালনের ৫০তম বর্ষপূর্তিতে এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘সাক্ষরতা আর দক্ষতা, টেকসই সমাজের মূলকথা’।
শেখ হাসিনা বলেন,শিশুকে যদি লেখা-পড়া শিখেই স্কুলে ভর্তি হতে হয়, তাহলে স্কুল পড়াবে কী? শিশুদের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকার। একটি নির্দিষ্ট বয়স হয়ে গেলে শিশুরা স্কুলে যাবে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যাংক উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পে সাড়ে ১২শ’ কোটি টাকা দেয়। এ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে শেষ পর্যন্ত উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়।২০০৯ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর এ কার্যক্রম ফের চালু করা হয়।
শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করে মানবপুঁজিতে উন্নীত করতে পারলে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। সবার জন্য শিক্ষা এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে আমরা সফল।
তিনি বলেন, আমরা ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি আমরা নিশ্চিত করেছি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করেছি। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরেপড়া রোধে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে।পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপবৃত্তির সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে আমরা ৭৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭ জনে উন্নীত করেছি। ৯৬টি দারিদ্র্যপীড়িত উপজেলার ২৯ লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নিজস্ব বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ভাষা জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।











