এম এস ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোক র্যালীতে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সবুজ (২৫) নামের একজন নিহত হয়েছে। উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত সবুজ শহরতলী বারখাদা ইউনিয়নের মিনাপাড়ার মোবারক হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১২টার দিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শোক র্যালী বের হয়। র্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মজমপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সেখানে সমাবেশ করে। সমবেশ শেষে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ এর কর্মী-সমর্থকরা র্যালী ও সমাবেশে যোগ দিয়ে জাহাঙ্গীর হোটেলের কাছে অবস্থান নেয়। এসময় জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সুবজ এর নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পৌছায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয় প্ক্ষ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে শতশত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা ছিল নির্বিকার।
সংঘর্ষ চলাকালে ছুরিকাঘাতে শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজের কর্মী সবুজ (২৩) ও বিদ্যুৎ মারাত্মক আহত হয়। এক পর্যায় মোমিজ গ্রুপের লোকজনের হাতে থাকা শর্ট গানের পর পর ৩ রাইন্ড গুলি বর্ষন করা হয়।
মোমিজের সমর্থকরা সেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী আজমুল হোসেন নামের এক কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। দুপুরের পর আজমলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মোমিজের সমর্থকরা শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মীর রেজাউল ইসলাম বাবুকে একটি বাড়িতে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এদিকে সবুজ নিহতের ঘটনায় আহত স্বেচ্ছাসেক লীগ কর্মী আজমুলের ঢাকাঝালুপাড়া গ্রামের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ও র্যাবের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। আহতদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবুজ এর মৃত্যু হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎ ও আজমল হোসেনের অবস্থায়ও আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এই সংঘর্ষের জের ধরে দুপুর ১টার দিকে সবুজ গ্রুপ শহরের থানা ট্রাফিক মোড়ে সড়ক অবরোধ করে এবং দোকান পাট বন্ধ করে দিলে শহর জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী জানান, কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শহরে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজ জানান, মোমিজ ও তার ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা ও গুলি করেছে। কুপিয়ে দলের এক কর্মীর হাত কেটে নিয়েছে। আহত হয়েছে আরো কয়েকজন।
সেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগের দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোমিজ কয়েকদিন আগে পর্ণগ্রাফির মামলায় খালাস পেয়েছে। এরপর থেকে সে বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা তাকে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় সবাই ক্ষুদ্ধ।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম বলেন, হত্যাকারী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। খুনিকে খুব দ্রুত আটক করা হবে।
প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ এর কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সর্মথিত সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও সাধারন সম্পাদক আজগার আলী এবং বিদ্রোহী গ্রুপ সভাপতি পৌর মেয়র আনোয়ার আলী ও সাধারন সম্পাদক কুমারখালী-খোকসা আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রউফের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছিল।
অগ্রদৃষ্টি.কম // এমএসআই











