মুক্তমত: আত্মঘাতিরা সাধারণত সঙ্গে কাউকে নিয়ে মারা যায়। জঙ্গিবাদের পরিভাষায় এটাকে ইশতিহাদি অপারেশন বলে। তো ইশতিহাদি অপারেশনে কখনো কখনো টার্গেট মিস হতেও পারে। আবার বোমা বা গ্রেনেডের (হাতে তৈরি) সক্ষমতা অনুযায়ী বেশি দূরে থাকলেও ক্যাজুয়ালিটি না হতে পারে।
নিহত জঙ্গির ছবি দেখে মনে হচ্ছে বোমা বা গ্রেনেড তার কোমরের একদিকে রাখা ছিল। অবশ্যই তা বিস্ফোরক ভেস্টের মধ্যে রাখা ছিল। ফলে তার কোমর উড়ে গেছে। কোমরের উপরের অংশ এবং নিচের অংশ প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো অবস্থা।
এখন প্রশ্ন হলো এই তরুণ কি পুলিশ বক্সে বা চেকপোস্টে আত্মঘাতি হামলা চালাতে গিয়েছিল? নাকি তার আগেই বিস্ফোরিত হয়ে মারা গেছে? বিস্ফোরণের আগের দৃশ্যের বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে, নিহত তরুণ চাইলে পুলিশ সদস্যদের আরো কাছাকাছি যেতে পারতো। পুলিশ বক্সে ঢোকার আগে তাকে সার্চ করার সময় সে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারতো। কিন্তু তা সে করেনি বা এমনো হতে পারে সেই সুযোগ সে পায়নি।
যদি ধরে নেই সে পুলিশের ওপর হামলা চালাতে চায়নি। তাহলে যে বিষয় সামনে এসে দাঁড়ায়, তা হলো সে অন্য কোথাও হামলার জন্য পরিকল্পনা করেছিল। নিহত জঙ্গির সঙ্গে একটি ট্রাভেল ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে স্পষ্ট হয় যে, সে কোথাও যাচ্ছিল। হতে পারে সে আস্তানা বদল করছে। তাহলে অবশ্য কোমরে বিস্ফোরক ভেস্ট নেয়ার কথা নয়। তার অর্থ হামলার উদ্দেশ্যেই সে বেরিয়েছে।
ধারণা করি, ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে যাত্রী ছদ্মবেশে কোথাও যাচ্ছিল এই তরুণ। বিমানবন্দর এলাকা হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায় যে সে বিমানবন্দরের দিকে হয়তো যেতে চেয়েছিল। ট্রাভেল ব্যাগ তার ছদ্মবেশ। কিন্তু পুলিশি চেকপোস্টের কারণে সঙ্গে থাকা সুইসাইডাল ভেস্ট হয় নিজে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অথবা অসতর্কতা বা অতিমাত্রায় সতর্ক হওয়ার কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে।
সে যাই করতে চেয়েছিল বা করেছে সেটিই আতঙ্কের বিষয়। তার মানে জঙ্গিরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই দিনে বোমা বা গ্রেনেড নিয়ে বের হওয়া মানে তারা মাল্টিপল অ্যাটাকের চিন্তা করে থাকতে পারে।
আরেকটি আতঙ্কের বিষয় হলো, এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি সিঙ্গেল অ্যাটাক বা অ্যাটাকের চেষ্টার ঘটনা। একটি সাকসেসফুলি র্যাব ক্যাম্পের ভেতের ঢুকে যেতে পেরেছিল। আজকেরটা রাস্তায় যদিও, কিন্তু পুলিশ বক্সের পাশে। দুই অ্যাটাকে অ্যাটাককারীরাই নিহত হলেও ভবিষ্যতের জন্য এটি বড় ভাবনার বিষয়।
কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই বিষয়টিকেও কেউ কেউ পুলিশ বা সরকারের নাটক বলার চেষ্টা করছে। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের আগুনের ঘটনা আড়াল করতে এই নাটক নাকি সাজানো হয়েছে। যেমনটা বলা হয়েছিল সকালে সিলেটের জঙ্গি আস্তানা পাওয়ার পরও।
কিছু মানুষের কি হাস্যকর যুক্তি! কেবল আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করবার জন্য এরা সব কিছু বলতে পারে। তাদের কাছে দেশের চাইতে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণই বড়। এই অবিশ্বাসী মানুষগুলো যতদিন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক হতে না পারবে, ততদিন এই দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব হবে না, হবে না, হবে না।
লেখক:
নুরুজ্জামান লাবু
সিনিয়র ক্রাইম রির্পোটার, বাংলা ট্রিবিউন
অগ্রদৃষ্ট.কম // এমএসআই











