রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়ার তিনটি ইউনিয়নে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থীহওয়ায় আওয়ামীলীগের তিনজন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৬ মে) উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আলহাজ্ব খলিলুর রহমান চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম সরফি, ইসলামপুর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আ.লীগের উপদেষ্ঠা ও ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সিরাজুদ্দৌল্লাহ দুলাল, ও দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী এনামুল হক মিয়াকে দলের সকল স্তরের পদ পদবি থেকে বহিস্কার করা হয় বলে জানানো হয়।
তারা তিনজনই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের তৃণমূলের ভোটে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করে হেরে যান। এরপর তারা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন ইউপি নির্বাচনে। তিনজনই আনারস প্রতিক নিয়ে মাঠে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর নৌকার বিরুদ্ধে লড়ছেন। এই তিন ইউনিয়নে বিএনপির কোন প্রার্থী নেই।
তৃণমূলের ভোটে জিতে সরফভাটা ইউনিয়নে কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, ইসলামপুর ইউনিয়নে উপজেলা আ.লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আহমদ ছৈয়দ তালুকদার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন লাভ করে নৌকা প্রতিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৬ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আ.লীগের বর্ধিত সভায় সর্বসম্মতভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ১২ মে এর মধ্যে সড়ে দাঁড়ানোর জন্য আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। বর্ধিত সভায় দলের কেন্দ্রিয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু দলের বিদ্রোহী তিন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সড়ে না দাঁড়ানোয় তাদের বহিস্কারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বহিস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।আ.লীগ সুত্র জানায় বহিস্কৃত তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম সরফি ছাত্র জীবন থেকে দুঃসময় ও সুসময়ে রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও অপর দুজন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সেভাবে সম্পৃক্ত ছিলেননা। ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুদ্দৌল্লাহ দুলাল ২০১১ সালের নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। তখন তিনি রাণীরহাট বাজারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে আ.লীগ বনে যান বলে স্থানীয়রা জানায়। এরপর সে উপজেলা আ.লীগের উপদেষ্ঠা ও ইউনিয়ন কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন। দক্ষিণ রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মিয়া হেফাজত ঘরানার রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ২০১১ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আওয়ামীলীগের সাথে গা ভাসান। ফলে তারা তৃণমূলের ভোটে প্রতিদ্বন্ধীতা করার সুযোগ পান বলে দলীয় সুত্র জানায়।











