Menu |||

মসজিদ ভাঙার চেষ্টায় চীনে তৈরী হয়েছে অস্থিরতা

কয়েকদিন আগে চীনের একটি শহরে পরিকল্পিতভাবে একটি মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করার পর ঐ অঞ্চলের মুসলিম বাসিন্দারা এর বিরোধিতা করলে কিছুটা বিপদেই পড়ে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লেখক ও গবেষক ডেভিড স্ট্রাওপ মনে করেন, মানুষের ধর্মীয় রীতি অনুশীলনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করছে চীন।

চীনের স্বশাসিত নিংজিয়া অঞ্চলের ছোট্ট মুসলিমপ্রধান শহর ওয়েইজু’তে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা করেন মি. স্ট্রাওপ।

মি. স্ট্রাওপ লিখেছেন, “দু’বছর আগে যেই শহরটির মানুষজন আইন মেনে সচেতন নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতো, কিন্তু মসজিদ ভাঙার চেষ্টার প্রতিবাদে এখন তারাই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।”

মসজিদ ভাঙার কারণ হিসেবে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা এবং নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়নি।

এর জবাবে ওয়েইজু’র হুই মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিকরা মসজিদ ভাঙার কাজ বন্ধ করতে সেখানে অবস্থান নেন।

মানুষের বিক্ষোভের মুখে সরকার মসজিদটি পুরোপুরি না ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলেও মসজিদ ভবনের আরবীয় নকশায় পরিবর্তন আনার চিন্তা করছে।

তবে তা করতে গেলেও ওয়েইজু’র ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হারিয়ে যেতে পারে এবং চীনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বোধ এতে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে বলে মনে করেন মি. স্ট্রাওপ।

ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের শহর

ওয়েইজু শহরের জনসংখ্যার ৯০ ভাগই হুই জাতিগোষ্ঠীর সদস্য।

গণমাধ্যমে তাদেরকে অনেকসময় চীনা মুসলিম বলে চিহ্নিত করা হয়। তবে চীনে হুই মুসলিমদের পূর্বপুরুষরা অষ্টম শতাব্দীতে ট্যাঙ রাজবংশোদ্ভূত বলে ধারণা করেন মি. স্ট্রাওপ।

চীনের মানুষের সাথে কয়েক শতাব্দীব্যাপী মিশ্রণের পর বর্তমানে চীনের সংখ্যাগুরু হান সম্প্রদায়ের সাথে তাদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে খুব একটা পার্থক্য চোখে পড়ে না।

ঐ শহরে থাকার সময় নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মি. স্ট্রাওপ উল্লেখ করেন যে শহরের অধিকাংশ নারীই হিজাব পরেন এবং অধিকাংশ পুরুষই মুসলিমদের প্রার্থনার সময় সাদা টুপি পরে থাকেন।

মি. স্ট্রাওপ লিখেছেন, “শহরের প্রায় প্রত্যেকেই প্রতিদিনের প্রার্থনার জন্য মসজিদে যেতো। শহরের খাবার দোকানগুলোতেও শুধুমাত্র হালাল খাবার বেচাকেনা হতো।”

মি. স্ট্রাওপের মতে, শহরের কোনো দোকানে মদ জাতীয় পানীয় বিক্রি হতো না।

ধর্মীয় আচারের বিরুদ্ধে অভিযান

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হুমকির সম্ভাবনা রোধ করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’এর নির্দেশনায় বিভিন্ন ধর্মীয় মতাদর্শের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।

নিরাপত্তার অজুহাতে এধরনের অভিযান চালায় সরকার। তারা দাবী করে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের উত্থান ঠেকাতে এই ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ১৯তম কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষণা করেন দলকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে চীনের সব ধর্ম যেন চীনের প্রাতিষ্ঠানিক মূলধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং ধর্মগুলো যেন সমাজতান্ত্রিক ধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

এই বক্তব্যের পর চীনের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় সরকার ধর্মীয় রীতি পালনে নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছেন।

এই অভিযানের ফলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চীনের মুসলিম সম্প্রদায়।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ, চীনের উত্তর-পশ্চিমের জিনজিয়াং এ উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান।

হিজাব পরা বা সামাজিক মাধ্যমে কোরানের বাণী প্রচার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় জঙ্গীবাদ ছড়ানোর অভিযোগ আনে ঐ অঞ্চলের স্থানীয় সরকার।

সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে উইঘুর জাতির প্রায় ১০ লাখ মুসলিমকে ধর্মীয় জঙ্গীবাদ ছড়ানোর অভিযোগে আটক করে রাখা হয়েছে।

(ড. ডেভিড আর. স্ট্রাওপ যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গবেষণা বিভাগের শিক্ষক। চীনের রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ ও জাতিগত রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনি।)

সূত্র, বিবিসি

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আমজাদ হোসেনের পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

» কৃষকদের ঋণ শোধ করলেন অমিতাভ বচ্চন

» ইসলামী আইনে মালেয়শিয়ায় যে নারী বিচারক পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ে করার সিদ্ধান্ত দেন

» যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের এক হাসপাতালে গোলাগুলিতে নিহত-৪

» যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিণতি কী হতে পারে?

» ঘুম না হওয়ার সাথে কি অকালমৃত্যুর সম্পর্ক আছে?

» এরশাদ কেন আবারও হাসপাতালে?

» ২৩ দলীয় জোট মৌলভীবাজার-৩ আসন খেলাফত মজলিসকে না দিলে বিকল্প সিদ্ধান্ত

» নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতে ইসলামী কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে?

» রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর কর্মসূচি শেষ মূহুর্তে অনিশ্চয়তা

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

মসজিদ ভাঙার চেষ্টায় চীনে তৈরী হয়েছে অস্থিরতা

কয়েকদিন আগে চীনের একটি শহরে পরিকল্পিতভাবে একটি মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করার পর ঐ অঞ্চলের মুসলিম বাসিন্দারা এর বিরোধিতা করলে কিছুটা বিপদেই পড়ে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লেখক ও গবেষক ডেভিড স্ট্রাওপ মনে করেন, মানুষের ধর্মীয় রীতি অনুশীলনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করছে চীন।

চীনের স্বশাসিত নিংজিয়া অঞ্চলের ছোট্ট মুসলিমপ্রধান শহর ওয়েইজু’তে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা করেন মি. স্ট্রাওপ।

মি. স্ট্রাওপ লিখেছেন, “দু’বছর আগে যেই শহরটির মানুষজন আইন মেনে সচেতন নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতো, কিন্তু মসজিদ ভাঙার চেষ্টার প্রতিবাদে এখন তারাই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।”

মসজিদ ভাঙার কারণ হিসেবে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা এবং নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়নি।

এর জবাবে ওয়েইজু’র হুই মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিকরা মসজিদ ভাঙার কাজ বন্ধ করতে সেখানে অবস্থান নেন।

মানুষের বিক্ষোভের মুখে সরকার মসজিদটি পুরোপুরি না ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলেও মসজিদ ভবনের আরবীয় নকশায় পরিবর্তন আনার চিন্তা করছে।

তবে তা করতে গেলেও ওয়েইজু’র ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হারিয়ে যেতে পারে এবং চীনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বোধ এতে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে বলে মনে করেন মি. স্ট্রাওপ।

ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের শহর

ওয়েইজু শহরের জনসংখ্যার ৯০ ভাগই হুই জাতিগোষ্ঠীর সদস্য।

গণমাধ্যমে তাদেরকে অনেকসময় চীনা মুসলিম বলে চিহ্নিত করা হয়। তবে চীনে হুই মুসলিমদের পূর্বপুরুষরা অষ্টম শতাব্দীতে ট্যাঙ রাজবংশোদ্ভূত বলে ধারণা করেন মি. স্ট্রাওপ।

চীনের মানুষের সাথে কয়েক শতাব্দীব্যাপী মিশ্রণের পর বর্তমানে চীনের সংখ্যাগুরু হান সম্প্রদায়ের সাথে তাদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে খুব একটা পার্থক্য চোখে পড়ে না।

ঐ শহরে থাকার সময় নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মি. স্ট্রাওপ উল্লেখ করেন যে শহরের অধিকাংশ নারীই হিজাব পরেন এবং অধিকাংশ পুরুষই মুসলিমদের প্রার্থনার সময় সাদা টুপি পরে থাকেন।

মি. স্ট্রাওপ লিখেছেন, “শহরের প্রায় প্রত্যেকেই প্রতিদিনের প্রার্থনার জন্য মসজিদে যেতো। শহরের খাবার দোকানগুলোতেও শুধুমাত্র হালাল খাবার বেচাকেনা হতো।”

মি. স্ট্রাওপের মতে, শহরের কোনো দোকানে মদ জাতীয় পানীয় বিক্রি হতো না।

ধর্মীয় আচারের বিরুদ্ধে অভিযান

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হুমকির সম্ভাবনা রোধ করতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’এর নির্দেশনায় বিভিন্ন ধর্মীয় মতাদর্শের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।

নিরাপত্তার অজুহাতে এধরনের অভিযান চালায় সরকার। তারা দাবী করে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের উত্থান ঠেকাতে এই ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ১৯তম কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষণা করেন দলকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে চীনের সব ধর্ম যেন চীনের প্রাতিষ্ঠানিক মূলধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং ধর্মগুলো যেন সমাজতান্ত্রিক ধারার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

এই বক্তব্যের পর চীনের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় সরকার ধর্মীয় রীতি পালনে নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছেন।

এই অভিযানের ফলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চীনের মুসলিম সম্প্রদায়।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ, চীনের উত্তর-পশ্চিমের জিনজিয়াং এ উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান।

হিজাব পরা বা সামাজিক মাধ্যমে কোরানের বাণী প্রচার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় জঙ্গীবাদ ছড়ানোর অভিযোগ আনে ঐ অঞ্চলের স্থানীয় সরকার।

সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে উইঘুর জাতির প্রায় ১০ লাখ মুসলিমকে ধর্মীয় জঙ্গীবাদ ছড়ানোর অভিযোগে আটক করে রাখা হয়েছে।

(ড. ডেভিড আর. স্ট্রাওপ যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গবেষণা বিভাগের শিক্ষক। চীনের রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ ও জাতিগত রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তিনি।)

সূত্র, বিবিসি

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে নৈতিক শক্তি ও সাহস নিয়ে পুলিশ এখন থেকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারবে। আপনি কি তা মনে করেন?

প্রবাসীদের সেবায় ”প্রবাসীর ডাক্তার” শুধুমাত্র বাংলাটিভিতে

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 / +8801920733632

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com