ঢাকা ও রংপুরে সম্প্রতি অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে দু’জন বিদেশী নাগরিক নিহত হবার ঘটনার জন্য বিরোধীদল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিগত সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার ছেলে তারেক রহমানও বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই লন্ডন প্রবাসী।
ঢাকায় আজ এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, এর আগে তিনি দেশে বসে দেশের মানুষ হত্যা করেছেন। এখন বিদেশে বসে তিনি দেশের মধ্যে বিদেশীদের হত্যা করে আতংক সৃষ্টি করিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এটা হচ্ছে তার (খালেদা জিয়ার) ‘আন্দোলনের নতুন কৌশল’। দেশ ও সরকারের বদনাম করার জন্য খালেদা জিয়া বিদেশে লবিস্ট রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশী নাগরিক নিহত হবার পর একটি মার্কিন ওয়েবসাইট খবর দেয়, ইসলামিক স্টেট ওই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে। অবশ্য এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের উর্ধতন ব্যক্তিরা ইসলামিক স্টেটের কোন তৎপরতা বাংলাদেশে নেই বলে মত প্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়া
শেখ হাসিনা এমন এক সময় এ কথা বললেন, যখন বিদেশী নাগরিক হত্যাকান্ড ছাড়াও, সম্প্রতি দুটি বিদেশী ক্রিকেট দল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে খেলতে আসা স্থগিত করেছে। ঢাকায় কিছু দূতাবাস বিদেশীদের চলাফেরার সময় সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছে। সর্বশেষ ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দফতর বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী হামলার উচ্চ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেছে, সেখানে পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের মতো আক্রমণের আশংকা আছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশী হত্যাকান্ডে বিরোধীদল বিএনপির জড়িত থাকার অভিযোগ করার পর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যে কোন কিছুর দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো সরকারের এক পুরোনো খেলা।
“বেগম জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন, এটা কোন গোপন ব্যাপার নয়। যা খুশি তাই বলা তাদের স্বভাবে অংশ হয়ে গেছে, দেশের মানুষও এসব কথা শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এসব অর্থহীন কথা, যার কোন যুক্তি নেই, প্রমাণ নেই” – বলেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার যে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বহীন কথার জন্যই আমরা সারা বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়ছি।











