এটি একটি সত্য ঘটনা যা দক্ষিণ লেবাননের কাফারকেলা গ্রামে ঘটেছিল। লেবাননের বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী বইতে এর উল্লেখ রয়েছে এবং জাতিসংঘের অফিসিয়াল নথিপত্রেও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ আছে।
১৯৬২ সালের একদিন, যখন লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বিচ্ছিন্নতাবাদী কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা হয়নি, তখন গ্রামের এক নারীর একটি মাদি গাধা ভুলবশত ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনের সীমানায় ঢুকে পড়ে এবং নিখোঁজ হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলির ভয়ে ওই নারী ও তার স্বামী গাধাটির পিছু পিছু যেতে পারেননি এবং সেটির আশা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
[এক বছর পর, গাধাটি আচমকা গ্রামে তার মালিকের বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু মালিকের সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।]
কয়েক ঘণ্টা পরেই লেবাননের পুলিশ, মেয়র, গ্রামের প্রধান এবং জাতিসংঘের একটি বাহিনী ওই নারীর বাড়িতে হাজির হয়। তারা দাবি করে যে গাধাটিকে যেন জাতিসংঘের বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে এটিকে আবার ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো যায়। তাদের দাবি ছিল, গাধাটি যখন ইসরায়েলে ছিল, তখন সেখানে একটি ইসরায়েলি গাধার মাধ্যমে সেটি গর্ভবতী হয়েছে।
এই দাবি নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকে, “গাধাটি আমাদের! এটি হারিয়ে গিয়েছিল এবং এখন নিজের ঘরে ফিরে এসেছে!” আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সাথে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গাধাটিকে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হবে, তবে শর্ত থাকে যে বাচ্চা প্রসবের পর জাতিসংঘ গাধাটিকে আবার ওই নারীর কাছে ফিরিয়ে দেবে।
এর তিন মাস পর, কোনো প্রকার নিরাপত্তা সমন্বয় ছাড়াই গাধাটি আবার ইসরায়েল থেকে পালিয়ে কাফারকেলা গ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। এবার সেটির পেছনে তার সেই চেনা গাড়িটি টানা ছিল এবং পাশে ছিল তার সদ্যজাত ছোট বাচ্চাটি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ, মেয়র এবং জাতিসংঘের বাহিনী পুনরায় ওই নারীর বাড়িতে আসে। তারা স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বাস্তবায়নের দাবি জানায় এবং বাচ্চাটিকে জাতিসংঘের বাহিনীর হাতে তুলে দিতে বলে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে গাধার বাচ্চাটি তার মাকে ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। সেটি লেবাননেই থাকার জন্য জেদ ধরে এবং লেবাননের পুলিশের কাছে ধরা দিতে বাধা দেয়। পরিস্থিতি এবং গ্রামবাসীদের ক্ষোভ বিবেচনা করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। অবশেষে বাচ্চাটিকে আটক করে, বেঁধে একটি সামরিক ট্রাকে তোলা হয় এবং দক্ষিণ লেবাননের নাকুরা অঞ্চলে জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষণ পোস্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
আ হ জুবেদ- সম্পাদক,অগ্রদৃষ্টি











