নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুয়েতে বাঙ্গালী শ্রমিক অমানবিক নির্যাতনের শিকার,যদিও কুয়েতের অতীত ইতিহাসে এমন নির্যাতনের ভয়াবহতা ছিল প্রকট; একথা মোটামুটি কমবেশি সবার জানা।
তবে বর্তমান শান্ত পরিবেশ বিরাজমান এই কুয়েতে প্রায় অনেকটা অশান্ত পরিবেশের সৃষ্টি করেছে গোটিকয়েক উচ্ছৃঙ্খল চরিত্রের বাঙ্গালী শ্রমিকরা।
এদিকে বর্তমান বিশ্বে চরম অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজমান হলেও আন্তরিকভাবে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে গোটা বিশ্বের সচেতন মহল ও মানবাধিকার সংগঠন প্রতিনিয়ত কথা বলছে; এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই।
এমতাবস্থায় সম্প্রতি কুয়েতে বাঙ্গালী শ্রমিকরা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে অবর্ণনীয় নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন কুয়েতের বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দরা।
কুয়েতে বাংলাদেশী অধ্যুষিত হাসাবিয়া নামক এলাকায় বসবাস করছেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক বিরাট জনগোষ্ঠী, যার সিংহ ভাগ প্রবাসীরা কুয়েতের ক্লিনিং কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন ।
যদিও একসময় বহু ক্লিনিং কোম্পানির বিরুদ্ধে শুনাগেছে সীমাহীন অভিযোগ। যেমন, মাস শেষে কোম্পানি বেতন পরিশোধ করেনি,আকামা রিনিউ করেনি,ওভারটাইম এর টাকা দেয়নি ইত্যাদি।
তবে এখন সেরকম অভিযোগ খুবেকটা শুনা যাচ্ছেনা।
কিন্তু বর্তমানে সেইসব ক্লিনিং কোম্পানিতে কতিপয় সুপারভাইজারদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও সাধারণ শ্রমিকদের উপর অমানবিক নির্যাতনের গুরতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ১৫ই জুলাই ২০১৬ইং রোজ শুক্রবার কুয়েতের হাসাবিয়া এলাকায় বসবাসরত মোহাম্মদ হাবিব ‘ক্রমিক নং(৫৬৪) ও খোকন মিয়া ‘ক্রমিক নং (৫৩৮) তাদের নিজ কোম্পানি আবরাজ আল-জহুরার সুপারভাইজার দেলোয়ার ও তার ভাই সুমন এবং সাইট ম্যানাজার সাইফুল কর্তৃক অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানাগেছে, আবরাজ আল-জহুরা কোম্পানির বাঙ্গালী শ্রমিক মোহাম্মদ হাবিব ও খোকন মিয়া কাজ করছিলেন সুয়েখ পোর্ট এলাকায়।
ওখানে কোম্পানি নির্ধারিত তাদের বেতন খুবেকটা বেশি না হলেও বাড়তি কিছু কাজ করে উপরোক্ত দুই শ্রমিকরা বেশ ভালোই উপার্জন করছিলেন।
কিন্তু সেই উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তাদের কোম্পানির সুপারভাইজার দেলোয়ার ও সাইট ম্যানাজার সাইফুলকে দিতে হতো।
নিয়ম যেখানে বড়ই অসহায় জুলুমবাজদের দাপটে, সেখানে জুলুমবাজদের খুশি করেই চলতে হয়।
ফলে মোহাম্মদ হাবিব ও খোকন মিয়া সুয়েখ পোর্ট থেকে উপার্জিত অর্থ থেকে সুপারভাইজার দেলোয়ার ও সাইট ম্যানাজার সাইফুলকে প্রতি মাসে ১০ দিনার (কুয়েতি) করে পরিশোধ করে আসছিলেন।
কিন্ত গত মাসে সেই প্রতি মাসের ন্যায় ১০ দিনার পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।
বিধায় সুপারভাইজার দেলোয়ার চরম রাগান্বিত হয়ে গত শুক্রবার মোহাম্মদ হাবিব ও খোকন মিয়াকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করে সেই ১০ দিনার না দেয়ার কারণ।
অসহায়, নিরুপায় ও ভয়ে কাতর মোহাম্মদ হাবিব ও খোকন মিয়া তাদের সমস্যাপূর্ণ সুনির্দিষ্ট কিছু কারণের কথা জানায় সুপারভাইজার দেলোয়ারকে।
কিন্ত দেলোয়ার তাদের কথা কোনো ভাবেই মানতে চাচ্ছিলেন না।
অবশেষে দেলোয়ার তার ভাই সুহেল ও সাইট ম্যানাজার সাইফুলকে নিয়ে আক্রমণ করে মোহাম্মদ হাবিব ও খোকন মিয়াকে।
একপর্যায়ে মোহাম্মদ হাবিব ও খোকন মিয়ার উপর হামলা চালিয়ে বেদড়ক মারপিট করে তাদেরকে শুধু রক্তাক্ত’ই নয়, রীতিমতো গুরুতর আহত করে তাদের কাছে থাকা ২০০দিনার (কুয়েতি) ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার হাবিব ও খোকন।
এই খবর লেখা পর্যন্ত জানাগেছে, নির্যাতনের শিকার হাবিব ও খোকন কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে এই ঘটনার নির্মমতার কথা অবহিত করেছেন।
পাশাপাশি ইতিপূর্বে কুয়েতের আদালতে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করা হয়েছে বলে নির্যাতনের শিকার হাবিব ও খোকন অগ্রদৃষ্টিকে জানিয়েছেন।











