নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়েত সিটি | মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা ও পরবর্তী হুড়োহুড়িতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই সংকটাপন্ন সময়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আবদুল্লাহ আল-আহমদ আল-সাবাহ স্বয়ং ফারওয়ানিয়া হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন।

আঞ্চলিক এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক ঘণ্টায় কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তাড়াহুড়ো করে ছুটতে গিয়ে এবং ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়েই অধিকাংশ মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জাবের হাসপাতাল, মুবারক আল-কাবীর এবং আদানি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং ট্রমা সেন্টারগুলোতে বাড়তি চিকিৎসক ও নার্স মোতায়েন করেছে।
আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমিনুল ইসলামের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর। হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশি প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. হুসেন জানিয়েছেন, আমিনুলের পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ‘স্কিন গ্রাফটিং’ প্রয়োজন। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, পাবনার রকিবুল ইসলাম, নোয়াখালীর মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার দুলাল মিয়া সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এদিকে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নাগরিক সুরক্ষা বিভাগ দেশবাসীকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।











