Menu |||

কর্পোরেট অব্‌জার্ভেশন অথবা নিছক বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে কিছু কথা

কর্পোরেট অব্‌জার্ভেশন অথবা নিছক বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে কিছু কথা

জাহিদুর রহমান জাহিদ: তৃতীয় বিশ্বের ঘনবসিতপূর্ণ একটি দেশের সরকারী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা বেশি। গত বিশ বছর ধরে BGMEA এর হবু নেতাদের সঙ্গে আমার যখনই দেখা হয়েছে আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কয়েকটি কথা বলার চেষ্টা করেছি। সেটা এখানে বলে ফেলাটা মন্দ হবে না। তাঁদেরকে ‘হবু নেতা’ বলছি এই কারণে, নির্বাচনের আগে অনেকের সঙ্গে দেখা হলেও নির্বাচনের পরে সেই সব বড়ভাইদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাঁরা বাংলাদেশের চিরাচরিত নির্বাচন পরবর্তী নিয়ম মেনে চলেছেন ! (উল্লেখ্য, আমার বর্তমান কর্মস্থল BGMEA এর ভোটার নয়)।

প্রথমতঃ নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করার পরে আমাদের গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানাগুলোর নিজস্ব র‍্যাঙ্কিং থাকা উচিৎ ছিল ! বছর বিশেক আগেই আমার মতো নাবালকের মনে হয়েছিল কারখানার রেটিং অতি প্রয়োজনীয় একটা ব্যাপার। রেটিং নেই বলেই আমাদের মধ্যে সুষম ও স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা নেই এবং তার পূর্ণ সুযোগ নেওয়ার জন্য বসে আছেন নানা প্রান্তের নানা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতারা। BGMEA নিজেই র‍্যাঙ্কিং করতে পারত। কারখানার এই রেটিং আমাদের দেশের নিরপেক্ষ কারো মাধ্যমেই হতে পারত। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।

আফসোস! সেই র‍্যাঙ্কিং অবশেষে হল, তবে রানা প্লাজার মতো মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার পরে। ACCORD ও ALLIANCE নামের বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের গার্মেন্টস মালিকদের ঘাড় ধরিয়ে সংস্কার ও উন্নয়ন করিয়ে নিল। নিজেদের মতো করে তাঁরা রেটিং করে দিল। ফাঁকতালে ফায়ার ডোর থেকে শুরু করে আরো কিছু পণ্যের মধ্যসত্বভোগী কোম্পানিগুলো নমিনেশন নিয়ে দু’ পয়সা কামিয়ে নিল।

বছর দশেক আগেও দেখেছি গাজীপুরের কোন কারখানা যখন সবরকম নিয়মকানুন ও কমপ্লায়েন্স মেনে একটা প্রিন্টেড কটন টি-শার্টের দাম দিয়েছে $ ২.০০~ $ ৩.০০ সেখানে রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জ বা অন্যকোন দুর্গম এলাকার ২/৩ লাইনের একটা কারখানা অথবা ‘হলমার্ক্স’ এর মতো লুটের টাকার কারখানা দাম দিয়েছে $ ১.৫০ বা আরো কম। সাদা চামড়ার ক্রেতাদের এর পরেই শুরু হয়ে যায় সেই কুখ্যাত ‘টেন্ডারবাজি’। ও এতো দিয়েছে, তোমাকেও এতো দিতে হবে ! সবচেয়ে ভালো নামকরা ট্রেডিং এজেন্ট ও ভালো কারখানাগুলোকে এরা অসহনীয় টার্গেট মূল্য মেলাতে ও গেলাতে বাধ্য করত। এখনো করছে, এবং সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই আমাদের পথচলা।

আমাদের পার্শ্ববর্তী শ্রীলংকা, ভারত, চীনে এলাকাভিত্তিক পণ্য তৈরির সর্বনিম্ন মূল্যতালিকা আছে। কারখানার ও এলাকাভিত্তিক রেটিং আছে বহু আগে থেকেই। ক্রেতা যে কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে যে কোন একটা দাম কোন একটা দাম চেয়ে বসলেন সেই সম্ভাবনা কম। আমাদেরও কারখানার রেটিং হল অবশেষে তবে অন্যের হাত দিয়ে। নিজের রান্নাঘর আর বাসস্থানকে বহিরাগতদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হল, হ্যাঁ আমাদের রান্নাঘর ঠিক আছে, আমাদের বসবাসের জায়গা ঠিক আছে !

দ্বিতীয়তঃ BGMEA নেতাদের কাউকে কাউকে ফাঁকে ফোকরে বলার চেষ্টা করেছি, এতো কিছু করছেন, শ্রমিকদের ডাটাবেজ করছেন না কেন? আজকে একজন দাগী আসামী কোন একটা কারখানার সর্বনাশ করে আরেক এলাকার আরেক কারখানায় যোগ দিচ্ছে। কোনভাবে তাকে আলাদা করা যাচ্ছে না। সে গিয়ে অন্য এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি করছে। ডাটাবেজ থাকলে, নির্দিষ্ট শ্রমিক কত বেতনে শেষ চাকরিটি করেছে, ও কোন স্কেলের ও দক্ষতার সেটার একটা ধারাবাহিকতা থাকে। সেই ডিজিটাল ডাটাবেজ অবশেষে শুরু হয়েছে বছর দুয়েক আগে, কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে সেটা থমকে আছে।

উপরের দুইটি বিষয় কেন হচ্ছে না, সেই ব্যাপারে আমার নিজের মত করে নিজস্ব মতামত আছে। আমরা নিজেরা নিজেদের কারখানাগুলোর রেটিং করি নি এতোদিন, সেটা আমাদের জাতিগত সমস্যা। আলস্য, দুর্নীতি, অতিলোভী, মুনাফাখোর মানসিকতা আর স্বার্থপরতা আমাদেরকে নিজেদের মূল্যায়ন করতে দেয়নি।

আর শ্রমিকদের ডাটাবেজ হয়নি কারণ, কোন কোন মালিকেরা নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি প্রতিবছরে এমন জ্যামিতিক হারে বাড়িয়েছেন, তাঁদের দরকার ছিল ‘তৈরী শ্রমিক’। সেটা একভাবেই সম্ভব ! পার্শ্ববর্তী কারখানাগুলো থেকে তৈরী শ্রমিককে বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে নেওয়া। দেড়গুণ বা দ্বিগুণ বেতন দিয়েও অনেক কারখানা অন্যদের শ্রমিক সরিয়েছেন। এখন সঠিক ডাটাবেজ হলে এটা ঠিক এইভাবে সম্ভব হতো না। নিজেদের স্বার্থেই হয়তো শ্রমিকদের ডাটাবেজ হয়নি এতোদিন।

তৃতীয়তঃ বাংলাদেশের পণ্যকে, বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য সরকারি লোকের উপরে ভরসা করে থাকলে, ‘সে গুড়ে বালি’। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে, লবি দিয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করতে হবে। ইউরোপ আমেরিকায় কিছু এক্সপোজিশন হয়, যেটাকে মেলা বলা যেতে পারে, ক্রেতা-বিক্রেতার মিলন মেলা। ওইরকম কয়েকটি মেলায় যেয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বুথ বা সেবা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোতে যে মেধার লোকজনকে বসে থাকতে দেখেছি, মনে হয়েছে তার চেয়ে এঁদের না আসাই ভালো ছিল। স্বজনপ্রীতি দিয়ে গুচ্ছের সরকারি লোককে এই সব সফরে পাঠিয়ে কাজের চেয়ে দুর্নামই বেশি হয়েছে । অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই ব্যতিক্রম দেখার সৌভাগ্য আমার এখনো হয় নি।
নীচের ভিডিও ক্লিপটি একটা ভারতীয় ওয়েবসাইটে বা পেজে (Fiber 2 Fabric) দেখে অবাক হলাম। এরা BGMEA এর নাম মুছে দিয়ে কি মনে করে যেন ক্লিপটি নিজেদের পেজে দিয়েছে। ইউটিউব খুঁজে আসল ক্লিপটি পেলাম।

চারিদিকে হতাশার কথা বলার মানুষের অভাব নেই, আশাবাদের কথা বলার লোকের বড্ডো অভাব। আমার কাছে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনটি ভালো লেগেছে।

লেখক: জাহিদুর রহমান জাহিদ
ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার, টেক্স-ইবো ইন্টারন্যাশনাল প্রাঃ লিঃ

অগ্রদৃষ্টি.কম // এমএসআ

Facebook Comments Box

সাম্প্রতিক খবর:

কুয়েতে মে দিবসের ফুটবল উৎসব,জয়ী ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাব

সচেতন প্রবাসী, সুরক্ষিত বাংলাদেশ: কুয়েতে নিরাপদ অভিবাসনে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ বার্তা

আগামী বুধবার পর্যন্ত কুয়েতে বৃষ্টি ও ধূলিঝড়ের পূর্বাভাস

কুয়েতের চেয়ে বড় কেউ নয়’: প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকেও ফিরিয়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান কি পাকিস্তানে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

৫৬ বছরের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন, বিলেতে মৌলভীবাজারের তালুকদার পরিবারের খুশির মুহূর্ত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে জিসিসি, জর্ডান ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

আরবের তপ্ত রোদে শীতল এক মানবিকতা, যেখানে 'মুগ্ধ'রা বেঁচে থাকে বারো মাস

স্বাধীনতার ঘোষক ও জাতির পিতা ইস্যু কি অধরাই থেকে যাবে?

শান্তির প্রার্থনা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুয়েতে মে দিবসের ফুটবল উৎসব,জয়ী ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাব

» সচেতন প্রবাসী, সুরক্ষিত বাংলাদেশ: কুয়েতে নিরাপদ অভিবাসনে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ বার্তা

» ১ মে থেকে কুয়েত ও মাস্কাটে আমিরাতের বিমান চলাচল শুরু

» সতর্কতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে সচল হচ্ছে কুয়েত বিমানবন্দর

» কুয়েতের অর্থনৈতিক চিত্র ২০২৬: জিডিপি, রাজস্ব ও নাগরিক কল্যাণ

» কুয়েত বিমানবন্দরের প্রস্তুতি সম্পন্ন, চূড়ান্ত ধাপসমূহ পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

» আগামী বুধবার পর্যন্ত কুয়েতে বৃষ্টি ও ধূলিঝড়ের পূর্বাভাস

» কুয়েতসহ তিন দেশ থেকে ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরল

» কুয়েতে চুরির চেষ্টাকালে ৫ বাংলাদেশি আটক

» পূর্ণ জনবল নিয়ে পুরোদমে ফিরছে কুয়েতের ব্যাংকগুলো

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

কর্পোরেট অব্‌জার্ভেশন অথবা নিছক বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে কিছু কথা

কর্পোরেট অব্‌জার্ভেশন অথবা নিছক বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে কিছু কথা

জাহিদুর রহমান জাহিদ: তৃতীয় বিশ্বের ঘনবসিতপূর্ণ একটি দেশের সরকারী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের প্রত্যাশা বেশি। গত বিশ বছর ধরে BGMEA এর হবু নেতাদের সঙ্গে আমার যখনই দেখা হয়েছে আমি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কয়েকটি কথা বলার চেষ্টা করেছি। সেটা এখানে বলে ফেলাটা মন্দ হবে না। তাঁদেরকে ‘হবু নেতা’ বলছি এই কারণে, নির্বাচনের আগে অনেকের সঙ্গে দেখা হলেও নির্বাচনের পরে সেই সব বড়ভাইদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাঁরা বাংলাদেশের চিরাচরিত নির্বাচন পরবর্তী নিয়ম মেনে চলেছেন ! (উল্লেখ্য, আমার বর্তমান কর্মস্থল BGMEA এর ভোটার নয়)।

প্রথমতঃ নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করার পরে আমাদের গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানাগুলোর নিজস্ব র‍্যাঙ্কিং থাকা উচিৎ ছিল ! বছর বিশেক আগেই আমার মতো নাবালকের মনে হয়েছিল কারখানার রেটিং অতি প্রয়োজনীয় একটা ব্যাপার। রেটিং নেই বলেই আমাদের মধ্যে সুষম ও স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা নেই এবং তার পূর্ণ সুযোগ নেওয়ার জন্য বসে আছেন নানা প্রান্তের নানা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতারা। BGMEA নিজেই র‍্যাঙ্কিং করতে পারত। কারখানার এই রেটিং আমাদের দেশের নিরপেক্ষ কারো মাধ্যমেই হতে পারত। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।

আফসোস! সেই র‍্যাঙ্কিং অবশেষে হল, তবে রানা প্লাজার মতো মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার পরে। ACCORD ও ALLIANCE নামের বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের গার্মেন্টস মালিকদের ঘাড় ধরিয়ে সংস্কার ও উন্নয়ন করিয়ে নিল। নিজেদের মতো করে তাঁরা রেটিং করে দিল। ফাঁকতালে ফায়ার ডোর থেকে শুরু করে আরো কিছু পণ্যের মধ্যসত্বভোগী কোম্পানিগুলো নমিনেশন নিয়ে দু’ পয়সা কামিয়ে নিল।

বছর দশেক আগেও দেখেছি গাজীপুরের কোন কারখানা যখন সবরকম নিয়মকানুন ও কমপ্লায়েন্স মেনে একটা প্রিন্টেড কটন টি-শার্টের দাম দিয়েছে $ ২.০০~ $ ৩.০০ সেখানে রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জ বা অন্যকোন দুর্গম এলাকার ২/৩ লাইনের একটা কারখানা অথবা ‘হলমার্ক্স’ এর মতো লুটের টাকার কারখানা দাম দিয়েছে $ ১.৫০ বা আরো কম। সাদা চামড়ার ক্রেতাদের এর পরেই শুরু হয়ে যায় সেই কুখ্যাত ‘টেন্ডারবাজি’। ও এতো দিয়েছে, তোমাকেও এতো দিতে হবে ! সবচেয়ে ভালো নামকরা ট্রেডিং এজেন্ট ও ভালো কারখানাগুলোকে এরা অসহনীয় টার্গেট মূল্য মেলাতে ও গেলাতে বাধ্য করত। এখনো করছে, এবং সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই আমাদের পথচলা।

আমাদের পার্শ্ববর্তী শ্রীলংকা, ভারত, চীনে এলাকাভিত্তিক পণ্য তৈরির সর্বনিম্ন মূল্যতালিকা আছে। কারখানার ও এলাকাভিত্তিক রেটিং আছে বহু আগে থেকেই। ক্রেতা যে কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে যে কোন একটা দাম কোন একটা দাম চেয়ে বসলেন সেই সম্ভাবনা কম। আমাদেরও কারখানার রেটিং হল অবশেষে তবে অন্যের হাত দিয়ে। নিজের রান্নাঘর আর বাসস্থানকে বহিরাগতদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হল, হ্যাঁ আমাদের রান্নাঘর ঠিক আছে, আমাদের বসবাসের জায়গা ঠিক আছে !

দ্বিতীয়তঃ BGMEA নেতাদের কাউকে কাউকে ফাঁকে ফোকরে বলার চেষ্টা করেছি, এতো কিছু করছেন, শ্রমিকদের ডাটাবেজ করছেন না কেন? আজকে একজন দাগী আসামী কোন একটা কারখানার সর্বনাশ করে আরেক এলাকার আরেক কারখানায় যোগ দিচ্ছে। কোনভাবে তাকে আলাদা করা যাচ্ছে না। সে গিয়ে অন্য এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি করছে। ডাটাবেজ থাকলে, নির্দিষ্ট শ্রমিক কত বেতনে শেষ চাকরিটি করেছে, ও কোন স্কেলের ও দক্ষতার সেটার একটা ধারাবাহিকতা থাকে। সেই ডিজিটাল ডাটাবেজ অবশেষে শুরু হয়েছে বছর দুয়েক আগে, কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারণে সেটা থমকে আছে।

উপরের দুইটি বিষয় কেন হচ্ছে না, সেই ব্যাপারে আমার নিজের মত করে নিজস্ব মতামত আছে। আমরা নিজেরা নিজেদের কারখানাগুলোর রেটিং করি নি এতোদিন, সেটা আমাদের জাতিগত সমস্যা। আলস্য, দুর্নীতি, অতিলোভী, মুনাফাখোর মানসিকতা আর স্বার্থপরতা আমাদেরকে নিজেদের মূল্যায়ন করতে দেয়নি।

আর শ্রমিকদের ডাটাবেজ হয়নি কারণ, কোন কোন মালিকেরা নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি প্রতিবছরে এমন জ্যামিতিক হারে বাড়িয়েছেন, তাঁদের দরকার ছিল ‘তৈরী শ্রমিক’। সেটা একভাবেই সম্ভব ! পার্শ্ববর্তী কারখানাগুলো থেকে তৈরী শ্রমিককে বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে নেওয়া। দেড়গুণ বা দ্বিগুণ বেতন দিয়েও অনেক কারখানা অন্যদের শ্রমিক সরিয়েছেন। এখন সঠিক ডাটাবেজ হলে এটা ঠিক এইভাবে সম্ভব হতো না। নিজেদের স্বার্থেই হয়তো শ্রমিকদের ডাটাবেজ হয়নি এতোদিন।

তৃতীয়তঃ বাংলাদেশের পণ্যকে, বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য সরকারি লোকের উপরে ভরসা করে থাকলে, ‘সে গুড়ে বালি’। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে, লবি দিয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করতে হবে। ইউরোপ আমেরিকায় কিছু এক্সপোজিশন হয়, যেটাকে মেলা বলা যেতে পারে, ক্রেতা-বিক্রেতার মিলন মেলা। ওইরকম কয়েকটি মেলায় যেয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বুথ বা সেবা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোতে যে মেধার লোকজনকে বসে থাকতে দেখেছি, মনে হয়েছে তার চেয়ে এঁদের না আসাই ভালো ছিল। স্বজনপ্রীতি দিয়ে গুচ্ছের সরকারি লোককে এই সব সফরে পাঠিয়ে কাজের চেয়ে দুর্নামই বেশি হয়েছে । অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই ব্যতিক্রম দেখার সৌভাগ্য আমার এখনো হয় নি।
নীচের ভিডিও ক্লিপটি একটা ভারতীয় ওয়েবসাইটে বা পেজে (Fiber 2 Fabric) দেখে অবাক হলাম। এরা BGMEA এর নাম মুছে দিয়ে কি মনে করে যেন ক্লিপটি নিজেদের পেজে দিয়েছে। ইউটিউব খুঁজে আসল ক্লিপটি পেলাম।

চারিদিকে হতাশার কথা বলার মানুষের অভাব নেই, আশাবাদের কথা বলার লোকের বড্ডো অভাব। আমার কাছে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনটি ভালো লেগেছে।

লেখক: জাহিদুর রহমান জাহিদ
ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার, টেক্স-ইবো ইন্টারন্যাশনাল প্রাঃ লিঃ

অগ্রদৃষ্টি.কম // এমএসআ

Facebook Comments Box

সাম্প্রতিক খবর:

কুয়েতে মে দিবসের ফুটবল উৎসব,জয়ী ঢাকা স্পোর্টিং ক্লাব

সচেতন প্রবাসী, সুরক্ষিত বাংলাদেশ: কুয়েতে নিরাপদ অভিবাসনে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ বার্তা

আগামী বুধবার পর্যন্ত কুয়েতে বৃষ্টি ও ধূলিঝড়ের পূর্বাভাস

কুয়েতের চেয়ে বড় কেউ নয়’: প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকেও ফিরিয়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান কি পাকিস্তানে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

৫৬ বছরের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন, বিলেতে মৌলভীবাজারের তালুকদার পরিবারের খুশির মুহূর্ত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে জিসিসি, জর্ডান ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

আরবের তপ্ত রোদে শীতল এক মানবিকতা, যেখানে 'মুগ্ধ'রা বেঁচে থাকে বারো মাস

স্বাধীনতার ঘোষক ও জাতির পিতা ইস্যু কি অধরাই থেকে যাবে?

শান্তির প্রার্থনা


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Exchange Rate

Exchange Rate EUR: Sun, 3 May.

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 /+8801316861577

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com
error: দুঃখিত! অনুলিপি অনুমোদিত নয়।