বছর খানেক আগে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে যখন বের হবো, ঠিক তখন কঠিন সংগ্রামী দুই ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ।
ওরা কেন দূতাবাসে এসেছে,একথা জিজ্ঞেস করতেই দুজনই তাদের নতুন পাসপোর্ট দেখালো।
এম.আর.পি পাসপোর্ট তৈরি করে দুজন’ই অবর্ণনীয় আনন্দিত। মোটামুটি ওরা আবার নতুন করে স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিল, এই ভেবে যে, এবার হয়তো ওরা মা-বাবা,ভাই,বোন সহ পরিবারের সবার চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
কিন্তু চরম লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, দুর্দশা আর দুর্ভোগের শিকার এ দুর্ভাগাদের সে স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গেলো।
মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে ওরা এসেছিল রেমিটেন্স যোদ্ধা হয়ে, আকাশ সম স্বপ্ন নিয়ে, অর্থ উপার্জন করে নিজে স্বাবলম্বী হতে।
কিন্তু জনৈক রক্তপিপাসু অবৈধ ভিসা দালালের চক্রান্তের শিকার হয়ে মনের ভিতর অনেক যত্ন করে রাখা স্বপ্নকে গলাটিপে হত্যা করে শূন্য হাতে ওদেরকে ফিরতে হয়েছে দেশে, তাও পরাজিত সৈনিকের বেশে।
জানিনা এই মুহূর্তে ওরা কোথায় আছে, কেমন আছে, আর কীভাবেই বা ওরা আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে।
এ দুই ভাইটিই নয় শুধু, এরকম আরো প্রায় এক’শ ভাই কুয়েত এসেছিল অর্থ উপার্জনের আশায়, কিন্তু অর্থ উপার্জন তো দূরে থাক, ২/৩ বছর ওরা আকামাহীন অবস্থায় থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছে।
ওদের আকামা-কাজ এর ব্যবস্থা করার জন্য সাধ্যমতো অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি ঠিকই, কিন্তু ওরা তো সফল হলো না।
পূর্বে একসময় মাঝেমধ্যে ওদের অনেকের সঙ্গেই ফোনে আলাপ হতো, কদাচিৎ সাক্ষাৎও হতো। তখন খুবই লজ্জা অনুভব করতাম, কারণ তখন তাদেরকে বৈধকরণ ও কাজের ব্যাপারে আশানুরূপ কোনো নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব হচ্ছিলনা। আমার অপারগতা আর সীমাবদ্ধতা দুটাই ছিল ভীষণ কষ্টের।
আজ ওদের কেউই হয়তো কুয়েতে নেই, ওদেরকে কুয়েত ত্যাগ করতে হয়েছে শূন্য হাতে, এযে বড়ই কষ্টের।
পরিশেষে অশেষ দোয়া ও শুভ কামনা আমার ঐসব ভাইদের জন্য।
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী
আ.হ.জুবেদ











