অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :
বরিশালের আগৈলঝাড়ার আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা সরকারী সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে বাসিন্দারা। আশ্রায়ণ প্রকল্পটি উপজেলার সীমান্তবর্তী ও দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হওয়ায় বাসিন্দাদের সব সময় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছে। এখানের বাসিন্দারা ঈদ সাহায্য সহযোগীতা বা আনন্দ থেকে সবসময় বঞ্চিত হচ্ছে। শুধুমাত্র কয়েকজনে প্রতি ঈদে ১০ কেজি ভিজিএফ করে চাল পায়। এছাড়া তারা কিছুই পায়না। বিগত সরকারের সময় উপজেলার পয়সারহাট নদীর তীরে বাগধা ও বাকাল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা পয়সারহাট- গোপালসেন মৌজায় আশ্রায়ণ প্রকল্পটির নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহায়তায় ২০০০ সালে আশ্রায়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পে ১০টি শেডে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১০০টি ভূমিহীন ও দু:স্থ পরিবার বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে আশ্রায়ণ প্রকল্পে ৭৫টি পরিবার বসবাস করছে বলে জানা গেছে। অপর ঘরগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে রেখে তারা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রকৃত ভূমিহীন যাচাই-বাছাই না করে তালিকাভুক্ত করায় ভূমিহীন বাদেও অন্যরা প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী ১০টি পরিবারের প্রতিটি শেডে ১টি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, ২টি গোসলখানা ও ১টি গভীর নলকূপ থাকার কথা থাকলেও কিন্তু পয়:নিস্কাশনের অপর্যপ্ততা, নলকূপ ও গোসলখানার সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য সংস্কার করা হলেও ঘরের টিন দিয়ে পানি পরছে বলে বাসিন্দারা জানান। ঈদ উপলক্ষে সরকারী-বেসরকারী কোন সাহায্য সহযোগীতা তাদের ভাগ্যে জুটছে না বলে তারা অভিযোগ করেন বাসিন্দা কল্পনা বেগম। ভূমিহীন ও নি:স্ব লোকদের একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেবার জন্য সরকার আশ্রায়ণ প্রকল্প কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। তবে আগৈলঝাড়ার আশ্রায়ণ প্রকল্প ভুমিহীনদের জন্য কোন কাজেই আসছেনা। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমিহীন লোকদের বাছাই করে ১০০টি পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এর কোন কার্যক্রম নেই। এখানে নেই কোন বিদ্যুতের ব্যবস্থা। আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা জাহানারা বেগম ও চায়না বেগম আক্ষেপ করে বলেন, দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হওয়ায় কোন মেম্বার বা চেয়ারম্যানরা আমাদের সংবাদ নেয়না। তারা শুধু ভোটের সময় আমাদের কাছে আসে। এছাড়া কোন সরকারী সাহায্য সহযোগিতা করেনা তারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ ঈদ বা পূজায় সরকারীভাবে সাহায্য সহযোগিতা দিলেও দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হওয়ায় আমরা সব সময় সাহায্য সহযোগীতা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। প্রতিবছর শুধু ১০কেজি করে চাল পাই। এখানে বাসিন্দাদের জিম্মি করে বিভিন্ন সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অনেক অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। প্রকল্পের বাসিন্দারা ভয়ে তাদের কাজের কোন প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন ওই সরকারের নেতৃস্থানীয় লোকজনই আশ্রায়ণ প্রকল্পের মধ্যে বিভিন্ন অবৈধ ও অনৈতিক কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।











