বিনোদন ডেস্কঃ সংগীত জগতের জনপ্রিয় নাম রুনা লায়লা। ৬০-এর দশকে সংগীতের আকাশে এই নক্ষত্রের উদয়। উপমহাদেশের এই জনপ্রিয় শিল্পী সংগীত জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করেছেন। ক্যারিয়ারে প্রায় ১০ হাজার গান কণ্ঠ তুলে নিয়েছেন এই তারকা শিল্পী।
এ পর্যন্ত মোট ১৭টি ভাষায় গান করেছেন রুনা লায়লা। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, মালয়, নেপালি, জাপানি, ইতালিয়ান, স্পেনিশ, ফ্রেঞ্চ, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, পশতু, বেলুচি, আরবি, পারসিয়ান, ও ইংরেজি ভাষায় গান করেছেন তিনি। তার গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। ১৯৮২ সালের পহেলা ডিসেম্বর রুনার গাওয়া বাপ্পী লাহিড়ীর সুর করা গান নিয়ে ইএমআই মিউজিক কোম্পানি প্রকাশ করে সুপার রুনা অ্যালবাম। প্রথম দিনেই অ্যালবামটির এক লাখ কপি বিক্রি হয়। উপহার হিসেবে রুনাকে দেয়া হয় গোল্ড ডিস্ক।
সেই হল শুরু : মাত্র ৬ বছর বয়সে মঞ্চে প্রথমবার গান করেছিলেন রুনা লায়লা। পাকিস্তানের করাচী শহরের একটি অনুষ্ঠানে রুনা লায়লার বড় বোন দিনা লায়লার গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন দিনা লায়লা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বোনের অসুস্থতার কারণে রুনা লায়লাকে সেই অনুষ্ঠানে গান গাইতে বলা হয়। প্রথম সুযোগেই সবাইকে বেশ চমকে দেন ও পুরস্কৃত হোন। এই সূত্রেই গানে লেগে থাকা।
রেডিও পাকিস্তানের উদ্যোগে ইন্টার স্কুল মিউজিক কম্পিটিশন হয়েছিল। রুনা লায়লার বয়স তখন নয় বছর। ওই অনুষ্ঠানে রুনা এই গজল গেয়েছিলেন। সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে হয়েছিলেন প্রথম। এরপর গানের সঙ্গে রুনার সখ্যতা আরো বেড়ে যায়।
লাহোরে নির্মিত উর্দু সিনেমা ‘জগনু’তে ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি’ শিরোনামের গানটি গেয়ে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু করেন। সময় ১৯৬৫ সাল। তখন রুনা লায়লার বয়স মাত্র ১২ বছর।
বাংলা গানে কণ্ঠ দিলেন : রুনা লায়লা প্রথম বাংলা গান দেবু ভট্টাচার্যের সুর করা গান দুটি ছিল ‘নোটন নোটন পায়রাগুলো’। রেকর্ডিং হয়েছিল পাকিস্তান রেডিওর ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে।
গত শতকের ষাটের দশকে চিত্রপরিচালক নজরুল ইসলাম আর সংগীত পরিচালক সুবল দাস স্বরলিপি ছবির গানে কণ্ঠ দেন রুনা। গানের রেকর্ডিং করা হয়েছিল লাহোরেরবারী স্টুডিওতে। গানের কথা ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’। যে গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
পরে ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসেন রুনা লায়লা।
‘দামাদাম গার্ল’ : দেশে ফিরেই ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের আমন্ত্রণে প্রথম ভারত সফর করেন এই তাকরা শিল্পী। ভারতে প্রথম গান করেন দিল্লি বিজ্ঞান ভবনে, এরপর মুম্বাইয়ে শান মুখআনন্দ হলে। চারিদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ‘দামাদাম গার্ল’।
গান পরিবেশনে ভিন্নধারা যোগ করেন : ১৯৭৪ সালে বিটিভিতে এক অনুষ্ঠানে গা দেবু ভট্টাচার্যের সুরে ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের লেখা পাঁচটি গান পরিবেশন করেন রুনা। পোশাকে আধুনিকতা আর একটু নেচে গান পরিবেশন করলেন তাতেই বাজিমাত। জনপ্রিয়তা আর আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন রুনা।
গিনেস বুকে রুনা লায়লা: তিন দিনে ৩০টি গান রেকর্ড করার খ্যাতি অর্জনকারী শিল্পীর নাম রুনা লায়লা। এর পেছনের কারণ দীর্ঘ। পাকিস্তানের নিসার বাজমি রুনাকে দিয়ে নানা ধরনের গান করাতেন। পরে রুনাকে দিয়ে নিসার বাজমির সুর করা গান গাওয়ানোর পরিকল্পনা করে মুম্বাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন নিসার বাজমির সুর করা ১০টি গান রেকর্ড করা হয়। পরে তা বিশ্বরেকর্ড হিসেবে স্থান পায় গিনেস বুকে।