
কুয়েতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসেফের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি এনেছে। এসব পদক্ষেপ নাগরিক ও প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর মধ্য দিয়ে কুয়েত এখন বাণিজ্য ও পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে। বিশেষ করে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রবাসীদের কুয়েতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় হোটেল, রিয়েল এস্টেট ও স্থানীয় বাজারগুলো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী কুয়েত ভিসা প্ল্যাটফর্মকে আরও উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাতে এটি এই অঞ্চলের এবং বিশ্বের সেরা প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে কুয়েতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এত দিন কৃত্রিম কিছু বাধার কারণে আড়ালে ছিল। এই বাধাগুলো সবারই জানা, তাই সেগুলো নিয়ে আমরা আজ আলোচনা করব না।
আমরা চাই, এই ইতিবাচক প্রক্রিয়াগুলো কোনোভাবেই যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। তবে, সম্প্রতি কোম্পানি মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মীদের জন্য ‘এক্সিট পারমিট’ বা বহির্গমন অনুমতি নেওয়ার যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তা এই উদ্যোগকে ব্যাহত করতে পারে। এই ধরনের নিয়ম শ্রমিকদের জন্য নতুন ফি আরোপের সুযোগ তৈরি করে, যা মূলত ভিসা ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে।
এই নিয়ম কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এটি জনশক্তি কর্তৃপক্ষের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, কারণ প্রথম দফায় ৩৫,০০০-এর বেশি পারমিট ইস্যু করতে হয়েছে। অথচ, বিশ্বে যেকোনো ব্যক্তির স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করার অধিকার স্বীকৃত, যদি না আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে।
আমরা প্রশ্ন করতে চাই: যদি কোনো কোম্পানি ম্যানেজার, ব্যবসায়ী বা সাধারণ কর্মীর জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে হয়, তাহলে কি তাদের মালিকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে? যদি স্বল্প সময়ের জন্য ছুটি দরকার হয়, তবে কি জনশক্তি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে?
আরেকটি বিষয় বেশ অদ্ভুত: গৃহকর্মীদের জন্য এক্সিট পারমিট বাধ্যতামূলক নয়, অথচ বেসরকারি খাতের অন্য সব কর্মীর ওপর এটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খাতটি এমনিতেই পুরোনো কিছু বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। এ প্রসঙ্গে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেই ‘৬০ নম্বর রেজল্যুশন’-এর কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছিল।
শেখ ফাহাদ আল-ইউসেফ দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অমানবিক সিদ্ধান্তটি বাতিল করে অনেক ভুল সংশোধন করেছিলেন, যা প্রশংসার দাবিদার।
যদি এক্সিট পারমিটের উদ্দেশ্য অপরাধীদের দেশত্যাগ ঠেকানো হয়, তাহলে এই নিয়মটি অকার্যকর। কারণ একজন অপরাধী পারমিট নেওয়ার পর সহজেই অপরাধ করে দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে। এতে করে সব দায়ভার মালিকের ওপর বর্তায় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তাছাড়া, প্রবাসীরা সব ধরনের জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত দেশ ছাড়তে পারেন না। তাহলে এক্সিট পারমিটের প্রয়োজনীয়তা কী?
এই নিয়মটি চালুর দুই মাস পর এর দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বাধাগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং দ্রুত সমাধান করবেন।
আহমেদ আল-জারাল্লাহ (সম্পাদক আরব টাইমস)











