
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে, যার ফলে এই পথে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এই যাত্রা এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ যানজট এবং রাস্তার বেহাল দশার কারণে বহু প্রবাসী সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে না পেরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট মিস করছেন, যার ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে সিলেট থেকে রওনা হওয়া একাধিক প্রবাসী যাত্রী তাদের ফ্লাইট মিস করার অভিযোগ করেছেন। একজন প্রবাসী যাত্রী জানান, “আমি যথেষ্ট সময় হাতে নিয়েই রওনা দিয়েছিলাম, কিন্তু সিলেটের শেরপুর থেকে ঢাকার ভৈরব পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতেই পুরো দিন লেগে গেল। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরে পৌঁছে দেখি আমার ফ্লাইট চলে গেছে।” আরেকজন যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “বিমান সংস্থা বা অন্য কেউ আমাদের এই ক্ষতির দায়ভার নেবে না। একটি টিকিটের মূল্য অনেক, যা আমাদের এক মাসের আয়ের সমান। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেব, তা ভেবে পাচ্ছি না।”
প্রবাসীরা বলছেন, এই মহাসড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। সিলেট ও আশপাশের অঞ্চলের বহু মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি অপরিহার্য। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন দুরবস্থা সত্ত্বেও সংস্কার কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। এতে করে শুধু প্রবাসীরাই নয়, সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকরাও সমানভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
প্রবাসীদের এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে – এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়, সেখানে তাদের যাতায়াতের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি পথের বেহাল দশা এবং এর ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির কোনো সুরাহা না থাকাটা সত্যিই হতাশাজনক। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু সড়ক সংস্কারের গতি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, একইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে।
এই সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, প্রবাসীদের আস্থার ওপর এটি একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে।











