
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফ্লাওয়ার্স কে.জি অ্যান্ড হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন অভিভাবকরা। সম্প্রতি এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের বিরোধিতা এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার অভিযোগে মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকরা তাদের লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে জানান যে, স্কুলের প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী এবং সরকারি মহিলা কলেজের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ১৬ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক ব্যবহার করে। বর্তমানে এই সড়কের একপাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া, সড়কের প্রবেশমুখে ট্রাফিক পুলিশ থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটছে।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল ৮.৩০ থেকে ৯.০০ এবং দুপুর ১.৩০ থেকে ২.২০ পর্যন্ত ওই সড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, অভিযোগ উঠেছে যে সরকারি মহিলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আনিছুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান এবং তাদের আরও কয়েকজন সহকর্মী এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজেদের গাড়ি ও রিকশা নিয়ে কলেজে প্রবেশ করতে থাকেন। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে অভিভাবকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা চলছে।

অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষকরা অন্যান্য জেলায় কর্মরত থাকাকালে ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং জনরোষের শিকার হয়ে তদবিরের মাধ্যমে এই কলেজে বদলি হয়ে এসেছেন। তারা স্থানীয় কিছু সাংবাদিকের ইন্ধনে শান্তিপূর্ণ মৌলভীবাজার জেলায় দুটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন পরিচালনা কমিটির সদস্য মতিন বখশ, জি.এম. মুক্তাদির রাজু, ফুয়াদ জামান এবং আবুল কালাম বেলাল। তারা অবিলম্বে ফ্লাওয়ার্স কে.জি অ্যান্ড হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।











