ডেস্ক নিউজ: নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনেও রাস্তায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। তাদের নয় দফা আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠনসহ বিশিষ্টজনরা। এদিকে, শিক্ষার্থী আন্দোলনের বিপরীতে রাস্তায় গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নিয়েছে পরিবহণ শ্রমিকরা।
গেলো কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল থেকে রাস্তায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও রাজধানীর শাহবাগ, উত্তরা, বিমানবন্দর, সিটি কলেজ, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করে তারা। এছাড়া সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক এবং সারিবদ্ধভাবে গাড়ি চলাচল করতে সাহায্য করেন তারা। এ সময়, তাদের নয় দফা দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায় শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন অভিভাবকরাও। তারা বলছেন, যথাযথ মনিটরিং না হওয়ায় পরিবহণ চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের এ মনোভাব রুখতে সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, মানববন্ধনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড চেক করে পুলিশ সদস্যরা। নিরাপত্তার স্বার্থে আইডি কার্ড ছাড়া কোনও শিক্ষার্থীকে মানববন্ধনে দাঁড়াতে এবং সড়কে অবস্থান করতে নিষেধ করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে রাজধানীতে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন। শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ২১ দফা দাবিতে যৌথভাবে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রণমেন্ট, গ্রীণভয়েসসহ ৩২টি সামাজিক সংগঠন। এতে অংশ নিয়ে, শুধু দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানান কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, আগামী সোমবার কেবিনেট মিটিং আছে। সেখানে নিরাপদ সড়ক আইনটি উঠনোর কথা আছে। সরকার দাবি কতটুকু মেনে নিয়েছে, সেটা বোঝা যাবে সরকার কেমন আইন করছে তার ওপর। কারণ দাবি মেনে নেয়া আর বাস্তবায়ন এক নয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়েছেন বেসরকারি সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই- এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে, শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, রাজপথে আন্দোলনে নামার ঘোষণাও দেন তিনি। এ সময়, শিক্ষার্থীদের উস্কানিতে পা না দেয়া এবং সরকারকে আগামী রোববার থেকে ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের শর্ত দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান ইলিয়াস কাঞ্চন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদ ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিক মালিকরা। অঘোষিত ধর্মঘট ডেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। সায়েদাবাদ, গাবতলী, মিরপুর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় অবস্থান নেন তারা। রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকেও ছেড়ে যায়নি দুরপাল্লার কোন বাস। ঢাকার বাইরে থেকেও আসছে বাস। সড়কে গণপরিবহণ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ।











