ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে সরাসরি আটক ও যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন এবং বিপজ্জনক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কোনো আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া বা বহুপাক্ষিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই সংঘটিত এই একক সামরিক অভিযান প্রমাণ করে যে, বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এখন কেবলই শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে আইনের শাসনের বদলে পেশিশক্তির জয়গান গাওয়া হচ্ছে।
আজ যা ভেনেজুয়েলায় ঘটেছে, কাল তা গ্রিনল্যান্ড বা অন্য যেকোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রে ঘটা অসম্ভব নয়—এমন বাস্তবতায় আরব বিশ্বের জন্য এই নিবন্ধটি এক জোরালো ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা। আরব দেশগুলোর উচিত হবে কেবল প্রতীকি ঐক্যের বাইরে এসে আরব লীগকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা জোটে রূপান্তর করা। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে রাখা সম্পদ যে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতায় ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত হতে পারে, তা রাশিয়ার উদাহরণ থেকে পরিষ্কার। তাই অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরব পুঁজি এবং কৌশলগত বিনিয়োগ নিজ অঞ্চলেই রাখা এখন সময়ের দাবি। অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করে এবং মেধা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ আরব ব্লক গড়ে তোলাই হতে পারে এই পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকার একমাত্র পথ। অন্যথায়, ভঙ্গুর আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির ওপর ভরসা করে থাকা দেশগুলো অদূর ভবিষ্যতে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
আ হ জুবেদ
সম্পাদক, অগ্রদৃষ্টি











