
দুশ্চিন্তা দূর করার এবং জীবনের সমস্যা সমাধানের পথ নিয়ে একটি চমৎকার গল্প প্রচলিত আছে। একজন চিন্তিত ব্যক্তি একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে গিয়ে তার দুশ্চিন্তার সমাধান চাইলেন।
জ্ঞানী ব্যক্তিটি তাকে দুটি প্রশ্ন করলেন। প্রথম প্রশ্ন, “তুমি কি এই সমস্যাগুলো নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলে?” লোকটি উত্তর দিল, “না।” দ্বিতীয় প্রশ্ন, “তুমি কি এই সমস্যাগুলো নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে?” লোকটি আবার উত্তর দিল, “না।”
জ্ঞানী ব্যক্তিটি তখন বললেন, “যে সমস্যাগুলো নিয়ে তুমি আসোনি এবং নিয়ে যাবেও না, সেগুলো নিয়ে কেন এত দুশ্চিন্তা করছো? পার্থিব বিষয় নিয়ে ধৈর্য ধরো। সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখো। মনে রেখো, তোমার জীবন ধারণের ব্যবস্থা তিনিই করে রেখেছেন এবং তোমার ভাগ্যও নির্ধারিত। সুতরাং, পৃথিবীতে দুশ্চিন্তার মতো আর কিছুই নেই।”
তিনি আরও বলেন, “একজন বিশ্বাসীর জীবন সুখ এবং দুঃখের মধ্য দিয়ে যায়। দুটোই আশীর্বাদ। কারণ, সুখে সে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এবং দুঃখে ধৈর্য ধারণ করে। মনে রেখো, ধৈর্যশীলদের প্রতিদান সৃষ্টিকর্তা পরিপূর্ণভাবে দেবেন।”
এরপর সক্রেটিসের একটি গল্প তুলে ধরা হয়। একবার এক যুবক সক্রেটিসের প্রজ্ঞা পরীক্ষা করতে চেয়েছিল। সে একটি ছোট্ট পাখি হাতে নিয়ে তার পেছনে লুকিয়ে রেখে সক্রেটিসকে জিজ্ঞেস করল, “বলুন তো, আমার হাতে যে পাখিটি আছে, সেটি কি জীবিত নাকি মৃত?”
যুবকের উদ্দেশ্য ছিল, সক্রেটিস যদি বলেন পাখিটি জীবিত, তাহলে সে সেটিকে মেরে ফেলবে। আর যদি বলেন মৃত, তাহলে সে সেটিকে উড়িয়ে দেবে, যাতে উভয় ক্ষেত্রেই সক্রেটিসের ভুল প্রমাণিত হয়।
সক্রেটিস কিছুক্ষণ চিন্তা করে শান্তভাবে উত্তর দিলেন, “এই বিষয়টি তোমার হাতেই।” এই গভীর উত্তরে যুবকটি তার ভুল বুঝতে পারল। সে বুঝতে পারল, পাখিটির ভাগ্য তার নিজের হাতেই। সক্রেটিসের এই উত্তর থেকে সে ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং প্রজ্ঞার এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে ফিরে গেল।
এই গল্পগুলো থেকে আমরা একটি শিক্ষা পাই: জীবনে সুখী হতে হলে সবকিছু অতিরিক্ত বিশ্লেষণ বা কাটাছেঁড়া করা উচিত নয়। যে ব্যক্তি হীরাকে অতিরিক্ত খুঁটিয়ে দেখে, সে কেবল কয়লাই দেখতে পায়।

আ হ জুবেদ (সম্পাদক অগ্রদৃষ্টি)











