
জীবন যেখানে যেমন, সেখানেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভিসা-পাসপোর্ট বিভাগের কাউন্সেলর ইকবাল আখতার, প্রবাসে তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মাগুরা জেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের এই বাসিন্দা ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র এবং প্রজাতন্ত্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে তার ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও সাহিত্যকে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন।
নিজের ভালো লাগা থেকেই লেখালেখি করেন বলে জানান ইকবাল আখতার। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সব মানুষেরই কিছু স্বপ্ন থাকে, ভালো লাগাও থাকে। আপনি ধরে নিতে পারেন যে, লেখালেখিও আমার একটা ভালো লাগা।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বপালন কালে অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এমনকি ওইসব এলাকার সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি।

(কাউন্সেলর (ভিসা-পাসপোর্ট) বাংলাদেশ দূতাবাস,কুয়েত
একজন সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে তিনি বিশেষত ইতিহাসের প্রেক্ষাপট থেকে সত্য ঘটনাগুলোকে ফিকশনের মাধ্যমে তুলে আনতে আগ্রহী। তার প্রথম প্রকাশিত বই ‘ডাহ্নী’ এবং দ্বিতীয় উপন্যাস ‘গণপতি’। তার সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘গণপতি’ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটকে এমন এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে, যা সচরাচর অন্য লেখকদের লেখায় তেমন একটা দেখা যায় না। বইটিতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইতিহাসের গভীর দিকগুলো তুলে ধরেছেন, যা পাঠককে ভাবনার খোরাক জোগায়।
কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসে হাজারো কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে একজন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত। নিজ দায়িত্ব পালনে তিনি অত্যন্ত সচেতন এবং প্রবাসীদের সেবাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার এই দায়িত্ববোধ এবং সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহ প্রমাণ করে যে, ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও সৃজনশীলতার বিকাশ সম্ভব।
ইকবাল আখতারের মতো একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সাহিত্যচর্চা কেবল তার ব্যক্তিগত প্রতিভারই পরিচয় নয়, বরং এটি আমাদের সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। তার সাহিত্যকর্মগুলো বাংলাদেশের ইতিহাস ও সমাজের বিভিন্ন দিককে নতুন করে জানতে সাহায্য করবে। তার এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আ হ জুবেদ (সম্পাদক, অগ্রদৃষ্টি)











