
সত্যের আলো ছড়াতে গিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বারবার মুখোমুখি হতে হয় হুমকি, হয়রানি ও সহিংসতার। দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর ও অসৎ চক্রের অপকর্ম উন্মোচনে তাদের কলম যেন তীক্ষ্ণ তরবারি। কিন্তু এর বিনিময়ে তারা পেয়েছেন রক্তঝরা আঘাত—সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাই তার প্রমাণ। এবার সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা দিতে ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করেছে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, ২০২৫’-এর খসড়া, যা হতে যাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি সুদৃঢ় ঢাল।
সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর শিরোনামে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এ জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ, অনুচ্ছেদ ৩৯-এ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং অনুচ্ছেদ ৪০-এ পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা ও অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকারেরঃ
অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়, প্রত্যেক সাংবাদিক/সংবাদকর্মীকে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকারের থাকবে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ও সরকার যথাযথভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
অধ্যাদেশের ৯ ধারায় অপরাধ, শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান পেশাগত কর্মে নিয়োজিত কোনো সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানি করলে তা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এ অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি মাত্রা ভেদে অন্যূন ১ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
১১ নম্বর ধারার ১ নম্বর উপধারায় বলা হয়, এই অধ্যাদেশের অধীনে দায়ের করা অভিযোগ ও অপরাধের বিচার বা কার্যধারার নিষ্পত্তি প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমতো, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হবে।
সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন কুয়েতে অবস্থানরত বাংলদেশী সাংবাদিকরা।তাদের মতে, সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।











