Menu |||

সমাজে নারীদের অবমূল্যায়ন- মেরিন জাহান,ব্রিটেন থেকে

মেরিন জাহান,ব্রিটেন থেকে :: অদ্ভূত এই পৃথিবী আর হরেক রকম আজব সব মানুষ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।
প্রতিদিন খবরের কাগজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট .ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ফেইসবুক এসব ইত্যাদিতে চোখ রাখলেই নানান আজব সব কাহিনী শুনে এবং দেখে রীতিমত তাজ্জব হতে হয়।
আজ ২০১৪ সালের একেবারেই শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু সীমাহীন ব্যস্ততা দেয় না খুবেকটা অবসর।
দৈনন্দিন সাংসারিক কর্ম ব্যস্ততার পর কখনো অন্যক্ষেত্রে সময় ব্যয় দুষ্কর হয়ে পড়ে; তারপরও এনিয়েই চলছে আমার ব্রিটেনের চলমান জীবন যাপন।
জীবনে বিশাল কিছু হওয়ার সপ্ন কখনো দেখিনি; যদিও সামান্য ইচ্ছেটুকুও পূর্ণ হয়নি।
যেহেতু শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড; ফলে ভেবেছিলাম জাতির মেরুদন্ড বিনির্মাণে একজন শিক্ষিকা হয়ে কাজ করবো।কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত বিধির একটি অনিবার্য নিয়মের কাছে হার মেনে চলে আসতে হলো ব্রিটেনে; তারপর নতুন একটি সংসার জীবনের শুরু হয়েছিল, যে সংসার জীবনের বয়ষ এখন এক যুগেরও বেশি।
বুদ্ধি হবার পর থেকে নারী অধিকার বিষয়ে শুনে আসছি। কখনও ইসলামে নারীর অধিকার, কখনও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কিংবা অন্য ধর্মের সাথে নারী অধিকার বিষয়ক তুলনামূলক আলোচনা শুনেছি, পড়েছি।
আলোচনাগুলো আমার চিন্তা ধারাকে সময়ে সময়ে পরিবর্তন করেছে। যখন কিশোরী ছিলাম তখন নারী হিসেবে পর্যবেক্ষণ করেছি মাকে, খালা, দাদী, নানী, ফুপু এবং গৃহিনী কিংবা কর্মজীবি প্রতিবেশীদের। তখন মনে হতো ছেলে-মেয়েদের প্রতিপালন, স্বামীর তুষ্টি সাধন এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের খেদমত করাই গৃহিনীর একমাত্র কাজ।
তাই সেই কৈশোরেই ঠিক করেছিলাম আমি বড় হলে চার দেয়ালে আটকে থাকা সেবিকা মা-র মতো নারীই কেবল হবো না।আমি হবো একজন সমাজ সেবিকা কিংবা স্কুল শিক্ষিকা।
যাইহোক, আমি সমাজে আমার অবস্থান তৈরিতে কখনো ব্যস্ত ছিলামনা।
শৈশব জীবন কাটিয়েছি নানুর বাড়িতে; তারপর কৈশোর জীবন কাটিয়েছি নিজ গৃহে বাবার বাড়িতে।
অতএব, বাংলাদশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম মানুষদের আমি ভালো করেই জানি।
সমাজে অবুঝ ছেলে-মেয়েদের বিশৃংখল জীবনযাপন দেখে এক সময় মনে হতো মেয়েদের বাল্য বিবাহই ভালো ছিলো। আবার যখন দেখি বাল্য বিবাহ কারো কারো জীবনে গভীর দুঃখ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন মনে হয় সব নারীদের সমাজে নিজেদের অবস্থান গড়ার মতো যোগ্যতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া উচিত নয়।
মানুষের মনগড়া বলা ও লেখা নারী অধিকারগুলো বাস্তবতাবির্বজিত, অলীক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীর জন্য মর্যাদাহানিকর।
বেইজিং বিশ্ব নারী সম্মেলন কিংবা নিউইর্য়ক নারী সম্মেলনের কতিপয় ঘোষণা অভিন্ন। যা নারীর জন্য শুধু মর্যাদাহানিকরই নয় বরং বর্তমান পৃথিবীর অস্তিত্ব, শৃংখলার জন্য হুমকিস্বরূপ। যেমন ”উভয় সম্মেলনে যৌন সম্পর্কের স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সীমিত সন্তান গ্রহণ ও গর্ভ বিনষ্টকে আইনগত মর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।”
কোনো সুস্থ ব্যক্তিই নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত জীবনযাপন করতে পছন্দ করবেন না।
আর আমাদের বুঝে আসে না জৈবিক চাহিদার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে কীভাবে নারী স্বাধীনতা বা নারী উন্নয়ন সম্ভব? তাহলে কি নারীরা এ পৃথিবীতে শুধুই ভোগ্য পণ্য ? প্রকৃতপক্ষে নারী উন্নয়নের জন্য নারীর ঘরে বাইরে চলাফেরার নিরাপত্তা বিধান, পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান সুষ্পষ্ট ও সুদৃঢ় করা, তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান প্রভৃতি যা নারীকে পুরুষের মতো একজন বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষ অথবা ‘মানব জাতির’ অর্ন্তগত সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ নারী উন্নয়নের সোপান হতে পারে।
কিন্তু লিঙ্গ সমতার নামে নারীকে ভোগ্যপন্য এবং পুরুষে পরিণত করার মধ্যে কখনই নারীর উন্নয়ন হতে পারে না। কারণ সৃষ্টি ও প্রকৃতিগত ভাবেই নারী ও পুরুষের শারিরীক ও মানসিক অবস্থার মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে যা কেউই অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করতে পারে না।
যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনিই একমাত্র জানেন কীভাবে আমাদের উন্নয়ন সম্ভব। আর তা জানবার জন্য তিনি নারী পুরুষ সবার জন্য জ্ঞানার্জনকে ফরয করেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রথম যে ওহী নাযিল হয় তা ছিল ‘ইকরা’ অর্থ ‘পড়’। এর পর যিনি আমাদের পরম করুণায় সৃষ্টি করেছেন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার নিয়ম শিখিয়ে দিয়ে বলেছেন “পড়, পড় তোমার প্রভুর নামে”।
এদিকে যদি আমরা নারীর উন্নয়নের জন্য ইসলামের বা কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাই সেখানে বলা হয়েছে –
১। মনুষ্যত্বের ক্ষেত্রে নারী ও পুরষের পরিপূর্ণ সাম্যের কথা এবং সবরকমের ভেদাভেদ ও বৈষম্য প্রত্যাখানের ঘোষণা করা হলো। (সুরা নিসা ১) আর রাসূল (সাঃ) বলেছেন “নারীগণ পুরুষদের সহোদরা”।
২। যে ব্যক্তি সৎ কাজ করবে, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী। সে যদি মুমিন হয়, তবে আমি অবশ্যই পবিত্র ও নিরাপদ জীবন যাপন করাবো এবং তার কৃতকর্মের বিনিময়ে যথোচিত পুরস্কার প্রদান করবো।
৩। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞানার্জান ফরয।
৪। পবিত্র কুরআনে বলা হয় “পড় তোমার প্রভুর নামে”। শুধু পুরুষ নয় নারী তথা পুরো মানবজাতিকে পড়তে বলা হয়েছে।
৫। কোরআন বলেছে “স্ত্রীদের যেমন দায়-দায়িত্ব রয়েছে তেমনি ন্যায় সঙ্গত অধিকারও রয়েছে।” রাসূল (সাঃ) বলেছেন “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।”
৬। কোরআন আরো বলে “নারী যা অর্জন করে তা নারীর প্রাপ্য”।
৭। হাদীসে আরো বলা হয় “সর্বোত্তম সম্পদ হলো আল্লাহর স্মরণকারী জিহ্বা কৃতজ্ঞ অন্তর ও মুমিন স্ত্রী যে আল্লাহর পথে স্বামীকে সাহায্য করে”
৮। হাদীসে পিতার চেয়ে মাতার মর্যাদা তিনগুণ বেশি বলা হয়েছে।
রাসূল (সাঃ) যথার্থই তাঁর শেষ ভাষণে বলেছিলেন “তোমরা যতদিন কুরআন-সুন্নাহকে আকঁড়ে ধরে থাকবে ততদিন কেউ তোমাদেরকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না”।
তাই আজ মুসলমান নারীদের এমনতর পরিস্থিতিতে নারী উন্নয়নের সঠিক নীতিগুলো নির্ধারণ করতে হবে এবং সেগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। এতে শুধু মুসলমান না বরং গোটা সমাজের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিহিত।
কোরআন ও হাদীসের আলোকে নারী পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান সবরকম বৈষম্য বিলোপ সাধন করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আমাদেরকে এখন থেকেই কুরআন হাদীস ভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নীতিগুলো নির্ধারণ করে সেই আলোকে জীবনকে পরিচালিত করতে হবে। তবেই সমাজে ধর্ষণ, নিপীড়ন, পতিতাবৃত্তি, নারী পুরুষ বৈষম্য, নারীর মানহানি, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, নারীর অবমূল্যায়ন রোধ করা সম্ভব হবে।
কুরআন ও হাদীসের ভিত্তিতেই যদি নারী উন্নয়ন সম্ভব, তবে এখানে একটি প্রশ্ন সবার মনে উঁকি দেয়- মুসলমান নারীরা কেন নিগৃহীত ও সুবিধাবঞ্চিত ? রক্ষণশীল মুসলমান নারীদের অবস্থা কেন আরো করুণ ?
তবে বাস্তব সত্য যেটা আজকের প্রেক্ষাপটে প্রতীয়মান এবং বোধকরি পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের অবমূল্যায়ন এবং ছোট করার অপচেষ্টা অব্যাহত।
পরিশেষে কুয়েত প্রবাসী প্রিয় আ হ জুবেদ ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ;
যার অনুপ্রেরণা উত্সাহ এবং সহযোগিতায় উপরোক্ত ক্ষুদ্র প্রয়াস সম্পন্ন করেছি।

Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর:

কুয়েতে সুক আল-ওয়াতানিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন
‘মানবিক’ বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দিন: ফখরুল
কুয়েতে এক বছর শেষে আকামা পরিবর্তনের সুযোগ
অমানবিক দৃশ্য, পরবর্তী প্রজন্মরাও অপরাধী হয়ে বেড়ে উঠছে
কুয়েতে টিকা গ্রহণকারীরা দ্বিতীয় ডোজ এর জন্য বার্তা পাবেন শিগগিরি
পুণেতে ২ দিন ধরে মৃতার পাশে ১৮ মাসের শিশু, করোনার আতঙ্কে ছুঁয়ে দেখল না কেউ
লুঙ্গি পড়ে বিদেশের রাস্তায় বেমানান বাঙালি- Agrodristi news
কোভিড-১৯: দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন উচ্চতায় ভারত
মুনিয়ার মৃত্যু: বসুন্ধরা এমডি আনভীরের আগাম জামিনের শুনানি হয়নি
কুয়েতে সাবেক এমপি পাপুলের কারাদণ্ড বেড়ে ৭ বছর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুয়েত প্রবাসী সংগঠক আব্দুস সাত্তার আর নেই 

» কুয়েতে সুক আল-ওয়াতানিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন

» ‘মানবিক’ বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দিন: ফখরুল

» কুয়েতে এক বছর শেষে আকামা পরিবর্তনের সুযোগ

» অমানবিক দৃশ্য, পরবর্তী প্রজন্মরাও অপরাধী হয়ে বেড়ে উঠছে

» কুয়েতে টিকা গ্রহণকারীরা দ্বিতীয় ডোজ এর জন্য বার্তা পাবেন শিগগিরি

» চীনে টিকা নিচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

» ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি

» কুয়েতে ৩৩ কারাবন্দী করোনা আক্রান্ত

» মহামারী: প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

সমাজে নারীদের অবমূল্যায়ন- মেরিন জাহান,ব্রিটেন থেকে

মেরিন জাহান,ব্রিটেন থেকে :: অদ্ভূত এই পৃথিবী আর হরেক রকম আজব সব মানুষ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।
প্রতিদিন খবরের কাগজ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট .ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ফেইসবুক এসব ইত্যাদিতে চোখ রাখলেই নানান আজব সব কাহিনী শুনে এবং দেখে রীতিমত তাজ্জব হতে হয়।
আজ ২০১৪ সালের একেবারেই শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু সীমাহীন ব্যস্ততা দেয় না খুবেকটা অবসর।
দৈনন্দিন সাংসারিক কর্ম ব্যস্ততার পর কখনো অন্যক্ষেত্রে সময় ব্যয় দুষ্কর হয়ে পড়ে; তারপরও এনিয়েই চলছে আমার ব্রিটেনের চলমান জীবন যাপন।
জীবনে বিশাল কিছু হওয়ার সপ্ন কখনো দেখিনি; যদিও সামান্য ইচ্ছেটুকুও পূর্ণ হয়নি।
যেহেতু শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড; ফলে ভেবেছিলাম জাতির মেরুদন্ড বিনির্মাণে একজন শিক্ষিকা হয়ে কাজ করবো।কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত বিধির একটি অনিবার্য নিয়মের কাছে হার মেনে চলে আসতে হলো ব্রিটেনে; তারপর নতুন একটি সংসার জীবনের শুরু হয়েছিল, যে সংসার জীবনের বয়ষ এখন এক যুগেরও বেশি।
বুদ্ধি হবার পর থেকে নারী অধিকার বিষয়ে শুনে আসছি। কখনও ইসলামে নারীর অধিকার, কখনও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কিংবা অন্য ধর্মের সাথে নারী অধিকার বিষয়ক তুলনামূলক আলোচনা শুনেছি, পড়েছি।
আলোচনাগুলো আমার চিন্তা ধারাকে সময়ে সময়ে পরিবর্তন করেছে। যখন কিশোরী ছিলাম তখন নারী হিসেবে পর্যবেক্ষণ করেছি মাকে, খালা, দাদী, নানী, ফুপু এবং গৃহিনী কিংবা কর্মজীবি প্রতিবেশীদের। তখন মনে হতো ছেলে-মেয়েদের প্রতিপালন, স্বামীর তুষ্টি সাধন এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের খেদমত করাই গৃহিনীর একমাত্র কাজ।
তাই সেই কৈশোরেই ঠিক করেছিলাম আমি বড় হলে চার দেয়ালে আটকে থাকা সেবিকা মা-র মতো নারীই কেবল হবো না।আমি হবো একজন সমাজ সেবিকা কিংবা স্কুল শিক্ষিকা।
যাইহোক, আমি সমাজে আমার অবস্থান তৈরিতে কখনো ব্যস্ত ছিলামনা।
শৈশব জীবন কাটিয়েছি নানুর বাড়িতে; তারপর কৈশোর জীবন কাটিয়েছি নিজ গৃহে বাবার বাড়িতে।
অতএব, বাংলাদশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম মানুষদের আমি ভালো করেই জানি।
সমাজে অবুঝ ছেলে-মেয়েদের বিশৃংখল জীবনযাপন দেখে এক সময় মনে হতো মেয়েদের বাল্য বিবাহই ভালো ছিলো। আবার যখন দেখি বাল্য বিবাহ কারো কারো জীবনে গভীর দুঃখ কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন মনে হয় সব নারীদের সমাজে নিজেদের অবস্থান গড়ার মতো যোগ্যতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া উচিত নয়।
মানুষের মনগড়া বলা ও লেখা নারী অধিকারগুলো বাস্তবতাবির্বজিত, অলীক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীর জন্য মর্যাদাহানিকর।
বেইজিং বিশ্ব নারী সম্মেলন কিংবা নিউইর্য়ক নারী সম্মেলনের কতিপয় ঘোষণা অভিন্ন। যা নারীর জন্য শুধু মর্যাদাহানিকরই নয় বরং বর্তমান পৃথিবীর অস্তিত্ব, শৃংখলার জন্য হুমকিস্বরূপ। যেমন ”উভয় সম্মেলনে যৌন সম্পর্কের স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সীমিত সন্তান গ্রহণ ও গর্ভ বিনষ্টকে আইনগত মর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।”
কোনো সুস্থ ব্যক্তিই নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত জীবনযাপন করতে পছন্দ করবেন না।
আর আমাদের বুঝে আসে না জৈবিক চাহিদার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে কীভাবে নারী স্বাধীনতা বা নারী উন্নয়ন সম্ভব? তাহলে কি নারীরা এ পৃথিবীতে শুধুই ভোগ্য পণ্য ? প্রকৃতপক্ষে নারী উন্নয়নের জন্য নারীর ঘরে বাইরে চলাফেরার নিরাপত্তা বিধান, পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান সুষ্পষ্ট ও সুদৃঢ় করা, তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান প্রভৃতি যা নারীকে পুরুষের মতো একজন বোধশক্তি সম্পন্ন মানুষ অথবা ‘মানব জাতির’ অর্ন্তগত সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ নারী উন্নয়নের সোপান হতে পারে।
কিন্তু লিঙ্গ সমতার নামে নারীকে ভোগ্যপন্য এবং পুরুষে পরিণত করার মধ্যে কখনই নারীর উন্নয়ন হতে পারে না। কারণ সৃষ্টি ও প্রকৃতিগত ভাবেই নারী ও পুরুষের শারিরীক ও মানসিক অবস্থার মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে যা কেউই অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করতে পারে না।
যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনিই একমাত্র জানেন কীভাবে আমাদের উন্নয়ন সম্ভব। আর তা জানবার জন্য তিনি নারী পুরুষ সবার জন্য জ্ঞানার্জনকে ফরয করেছেন। পবিত্র কুরআনের প্রথম যে ওহী নাযিল হয় তা ছিল ‘ইকরা’ অর্থ ‘পড়’। এর পর যিনি আমাদের পরম করুণায় সৃষ্টি করেছেন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার নিয়ম শিখিয়ে দিয়ে বলেছেন “পড়, পড় তোমার প্রভুর নামে”।
এদিকে যদি আমরা নারীর উন্নয়নের জন্য ইসলামের বা কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে তাকাই তাহলে দেখতে পাই সেখানে বলা হয়েছে –
১। মনুষ্যত্বের ক্ষেত্রে নারী ও পুরষের পরিপূর্ণ সাম্যের কথা এবং সবরকমের ভেদাভেদ ও বৈষম্য প্রত্যাখানের ঘোষণা করা হলো। (সুরা নিসা ১) আর রাসূল (সাঃ) বলেছেন “নারীগণ পুরুষদের সহোদরা”।
২। যে ব্যক্তি সৎ কাজ করবে, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী। সে যদি মুমিন হয়, তবে আমি অবশ্যই পবিত্র ও নিরাপদ জীবন যাপন করাবো এবং তার কৃতকর্মের বিনিময়ে যথোচিত পুরস্কার প্রদান করবো।
৩। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞানার্জান ফরয।
৪। পবিত্র কুরআনে বলা হয় “পড় তোমার প্রভুর নামে”। শুধু পুরুষ নয় নারী তথা পুরো মানবজাতিকে পড়তে বলা হয়েছে।
৫। কোরআন বলেছে “স্ত্রীদের যেমন দায়-দায়িত্ব রয়েছে তেমনি ন্যায় সঙ্গত অধিকারও রয়েছে।” রাসূল (সাঃ) বলেছেন “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।”
৬। কোরআন আরো বলে “নারী যা অর্জন করে তা নারীর প্রাপ্য”।
৭। হাদীসে আরো বলা হয় “সর্বোত্তম সম্পদ হলো আল্লাহর স্মরণকারী জিহ্বা কৃতজ্ঞ অন্তর ও মুমিন স্ত্রী যে আল্লাহর পথে স্বামীকে সাহায্য করে”
৮। হাদীসে পিতার চেয়ে মাতার মর্যাদা তিনগুণ বেশি বলা হয়েছে।
রাসূল (সাঃ) যথার্থই তাঁর শেষ ভাষণে বলেছিলেন “তোমরা যতদিন কুরআন-সুন্নাহকে আকঁড়ে ধরে থাকবে ততদিন কেউ তোমাদেরকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না”।
তাই আজ মুসলমান নারীদের এমনতর পরিস্থিতিতে নারী উন্নয়নের সঠিক নীতিগুলো নির্ধারণ করতে হবে এবং সেগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে। এতে শুধু মুসলমান না বরং গোটা সমাজের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিহিত।
কোরআন ও হাদীসের আলোকে নারী পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান সবরকম বৈষম্য বিলোপ সাধন করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আমাদেরকে এখন থেকেই কুরআন হাদীস ভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নীতিগুলো নির্ধারণ করে সেই আলোকে জীবনকে পরিচালিত করতে হবে। তবেই সমাজে ধর্ষণ, নিপীড়ন, পতিতাবৃত্তি, নারী পুরুষ বৈষম্য, নারীর মানহানি, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, নারীর অবমূল্যায়ন রোধ করা সম্ভব হবে।
কুরআন ও হাদীসের ভিত্তিতেই যদি নারী উন্নয়ন সম্ভব, তবে এখানে একটি প্রশ্ন সবার মনে উঁকি দেয়- মুসলমান নারীরা কেন নিগৃহীত ও সুবিধাবঞ্চিত ? রক্ষণশীল মুসলমান নারীদের অবস্থা কেন আরো করুণ ?
তবে বাস্তব সত্য যেটা আজকের প্রেক্ষাপটে প্রতীয়মান এবং বোধকরি পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের অবমূল্যায়ন এবং ছোট করার অপচেষ্টা অব্যাহত।
পরিশেষে কুয়েত প্রবাসী প্রিয় আ হ জুবেদ ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ;
যার অনুপ্রেরণা উত্সাহ এবং সহযোগিতায় উপরোক্ত ক্ষুদ্র প্রয়াস সম্পন্ন করেছি।

Facebook Comments

সাম্প্রতিক খবর:

কুয়েতে সুক আল-ওয়াতানিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন
‘মানবিক’ বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দিন: ফখরুল
কুয়েতে এক বছর শেষে আকামা পরিবর্তনের সুযোগ
অমানবিক দৃশ্য, পরবর্তী প্রজন্মরাও অপরাধী হয়ে বেড়ে উঠছে
কুয়েতে টিকা গ্রহণকারীরা দ্বিতীয় ডোজ এর জন্য বার্তা পাবেন শিগগিরি
পুণেতে ২ দিন ধরে মৃতার পাশে ১৮ মাসের শিশু, করোনার আতঙ্কে ছুঁয়ে দেখল না কেউ
লুঙ্গি পড়ে বিদেশের রাস্তায় বেমানান বাঙালি- Agrodristi news
কোভিড-১৯: দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন উচ্চতায় ভারত
মুনিয়ার মৃত্যু: বসুন্ধরা এমডি আনভীরের আগাম জামিনের শুনানি হয়নি
কুয়েতে সাবেক এমপি পাপুলের কারাদণ্ড বেড়ে ৭ বছর


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ৩:৪৩)
  • ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৬শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি
  • ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

Exchange Rate

Exchange Rate: EUR

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 / +8801920733632

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com
error: দুঃখিত! অনুলিপি অনুমোদিত নয়।