লিলি ফারুকী:: শাহিদা বেগম সন্তানসম্ভবা। শাশুড়ি বউকে রান্নাঘরে যেতে দেন না, কোন প্রাণী দেখতে দেন না। প্রতিদিন সকালে উঠে ফুলদানীতে ফুল সাজিয়ে রাখেন সবসময় বউয়ের দৃষ্টি যেখানে পড়ে। বেশি করে কোরআন-হাদিস পড়তে বলেন। একটা মশা-মাছি ও মারতে দেননা। শাশুড়ির ধারনা কোন কিছু মারলে অনাগত সন্তানটি হিংস্র হবে!
অল্প বয়সি মেয়েটি মা হবে। কিছু বুঝতে না পেরেই একদিন সাপ মেরে ফেলে। মা হৈ-চৈ করে উঠেন। কেন মারতে গেল, বাচ্চাটি নিষ্ঠুর প্রকৃতির হবে।
সমাজে কিছু কথা প্রচলিত আছে যাকে অনেকেই কুসংস্কার বলে থাকে। যারা ইসলাম ধর্মকে আঁকড়ে জীবন চালাতে চান তারা কু-সংস্কার মানেন বলে মনে হয়না। তবে আমি ঐটুকু সংস্কার মানি যা আমার ধর্ম বলে। সন্তান গর্ভে এলে ভাল আমলের পাশাপাশি মাকে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হয় যাতে অনাগত সন্তানটি সুস্থ হয়ে জন্ম নেয়, এটাই ইসলাম বলে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারির ছবি ফেসবুকের কল্যাণে অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ছবিগুলি দেখার পর বার বার একই কথা মনে হয়েছে এদের মা-বাবা কি ডাকাত ছিল? উনাদের কি কোন ভাল শাশুড়ি বা মা ছিলেন না যারা সন্তান গর্ভে থাকাকালে ভাল কাজ করতে বলেননি? এই ছেলেরা দুনিয়াতে আসার আগে এমন কি কাজ করেছে তাদের মা-বাবা যে কারনে আজকে তাদের সহপাঠীকে আঘাত করতে এরা অস্ত্র ধারণ করে?
হল থেকে বই-খাতা, কলমের পরিবর্তে যে সমস্ত অস্ত্র উদ্ধারের ছবি দেখলাম তাতে তো মনে হয়না এই ছেলেরা লেখাপড়া করতে এসেছে। কিন্তু ঠিক ঠিক এরা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসবে। আজকের এই অল্প বয়সী সন্ত্রাসীগুলি আগামিতে হবে গড ফাদার, যারা নিয়ন্ত্রন করবে দেশের রাজনীতি এবং টেন্ডার-ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতি! হায়রে দেশ। এটা কি কোন সভ্য মানুষের দেশ?
দুঃখের কথা হচ্ছে, এরা তাও বর্তমান সরকারের চোখে ওরা অপরাধী নয়। সব অপরাধীদের আজ জামাত-শিবিরে। তাইতো কোরআন–হাদিস, যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামি ব্যক্তিত্বদের বইতে এরা জঙ্গির আলামত খুঁজে পায়। এদেরকে ধরতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গলদঘর্ম হচ্ছে, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কই তাদের?











