Menu |||

বিএসএ’র ফেলো হলেন অধ্যাপক মাহতাব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ও হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল সম্প্রতি বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেস এর ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের বার্ষিক সাধারণ সভায় একাডেমির সভাপতি এমিরেটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবকে ফেলো হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইসেন্সের ফেলোদের সিংহভাগের ভোটে একমাত্র অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবই ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন।

এমিরেটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, ডা. মামুন বাংলাদেশের বিজ্ঞান একাডেমি এবং বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান তার দ্বারা সমৃদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বাংলাদেশি বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের জন্য একটি একাডেমিক ফোরাম। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ একাডেমি দেশে বিজ্ঞানের গবেষণা ও উন্নয়নের ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

ভারত ভাগের পর পাকিস্তান একাডেমি অব সায়েন্সেস ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর একাডেমির ১২ জন বাংলাদেশি ফেলো ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গঠন করেন। মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সাল থেকে, বিএএস ডিজিটাল লাইব্রেরি বাংলাদেশ জার্নালস অনলাইন (বাংলা জেওএল) পরিচালনা করছে।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল সম্প্রতি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের নতুন ওষুধ ন্যাসভ্যাক এবং হেপাটাইটিস বি ভাইরাসজনিত লিভার রোগ বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তাকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের থেরাপিউটিক ভ্যাকসিন ন্যাসভ্যাকের ফেইজ ১, ২ ও ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান গবেষক হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। তার গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে ওষুধটি এরই মধ্যে কিউবাসহ একাধিক দেশে রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে এবং বাংলাদেশেও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওষুধটির রেসিপি অনুমোদন করেছে। তিনি বাংলাদেশে উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট বঙ্গভ্যাক্সের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেরও প্রধান গবেষক।

অধ্যাপক স্বপ্নীল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এমবিবিএস, ১৯৯৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে এমএসসি এবং ২০০৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেপাটোলজিতে এমডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইন্ডিয়ান কলেজ অব ফিজিসিয়ানস, রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব আয়ারল্যান্ড এবং রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব লন্ডনের ফেলো।

পাশাপাশি তিনি জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও মেটাবোলজি বিভাগের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস, ঋষিকেশের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের বোর্ড অব স্টাডিজের সদস্য। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের ভাইরাল হেপাটাইটিস, এইচআইভি-এইডস, এসটিআই সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজিক এন্ড টেকনিক্যাল এডভাইজারি গ্রুপেরও অন্যতম সদস্য।

বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বৈজ্ঞানিক জার্নালে অধ্যাপক স্বপ্নীলের ৩০০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লিভার বিষয়ক পাঁচটি টেক্সট বই সম্পাদনা করেছেন, যার প্রতিটি বিভিন্ন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক মেডিকেল প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করেছে। এগুলো হচ্ছে ‘লিভার: এ কমপ্লিট বুক অব হেপাটো-প্যানক্রিয়াটো-বিলিয়ারি ডিজিজেজ’। প্রকাশক: এলসেভিয়ের, প্রকাশকাল: ২০০৯), ‘কম্প্রিহেনসিভ টেক্সট বুক অব হেপাটাইটিস বি’, ‘টেক্সট বুক অব হেপাটোগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’ ও ‘হেপাটোগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি প্রেসক্রাইবার’ (প্রকাশক: জেপি ব্রাদার্স, প্রকাশকাল যথাক্রমে : ২০১০, ২০১৫ ও ২০১৬) এবং ‘ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ (প্রকাশক: ম্যাকমিলান পাবলিশার্স, প্রকাশকাল : ২০১২)।

অধ্যাপক স্বপ্নীল ২০১৩ সালে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা স্টাডি অব দ্যা লিভারের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিস্টিংশন’ অর্জন করেন আর ২০১৪ সালে ইউরোএশিয়ান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ‘অর্ডার অব মেরিট’-এ ভূষিত হন। ভারতের কলিঙ্গ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল ফাউন্ডেশন তাকে ২০১৫ সালে সম্মানসূচক ‘ব্লুমবার্গ ওরেশন’ প্রদান করে। ২০১৭ সালের ‘হুজ হু’-তে তার জীবনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি ২০১৮-তে মার্কুইস হুজ হু কর্তৃক ‘এলবার্ট নেলসন মার্কুইস লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড’ এ ভূষিত হন।

অধ্যাপক স্বপ্নীলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন দুটি হচ্ছে কিউবান একাডেমি অব সাইন্সেস কর্তৃক ন্যাসভ্যাক উদ্ভাবনের জন্য ২০১৯-সালে যৌথভাবে ‘প্রিমিও ন্যাশনাল’ পদক এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেস কর্তৃক ‘বাস গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ লাভ।

কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় অধ্যাপক স্বপ্নীল ওয়ালটন গ্রুপ কর্তৃক ‘হেলথকেয়ার হিরোজ এওয়ার্ড ২০২০’, বাংলাদেশ-আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স কর্তৃক ‘গ্লোবাল বিজনেস সিএসআর এওয়ার্ড ২০২১’, ওয়ার্ল্ড অরগানাইজেশন অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস কর্তৃক ‘গ্লোবাল হেলথকেয়ার লিডারশিপ এওয়ার্ড ২০২১’, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক ‘কোভিড-১৯ হিরো’ এবং নারীকণ্ঠ ফাউন্ডেশন কর্তৃক ‘কোভিড হিরো’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞদের জাতীয় সংগঠন এসোসিয়েশন ফর দ্যা স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশের তিনি পরপর সাতবার নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ফোরাম ফর দ্যা স্টাডি অব দ্য লিভারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

পাশাপাশি তিনি ইউরোএশিয়ান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভারের সাধারণ সম্পাদক, এশিয়ান প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভারের কার্যকরী সদস্য এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর স্টাডি অব দ্য লিভারের ইন্টারন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর।

অধ্যাপক স্বপ্নীল বাংলাদেশ স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি ইন্টার-একাডেমি পার্টনারশিপের রিজেনারেটিভ মেডিসিন সংক্রান্ত ওয়ার্কিং পার্টির সারা বিশ্ব থেকে নির্বাচিত ১২ জন সদস্যের অন্যতম।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বাংলাদেশে লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় সর্বাধুনিক পদ্ধতি ট্রান্স-আর্টারিয়াল কেমো-এম্বোলাইজেশন (টেইস)-এর পুরোধা। পাশাপাশি তিনি লিভার ফেইলিওরে অটোলোগাস হেমোপয়েটিক স্টেমসেল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, প্লাজমা এক্সচেঞ্জ ও লিভার ডায়ালাইসিসেরও পথিকৃত।

অধ্যাপক স্বপ্নীল ১৯৭০ সালে সিলেট শহরের কালিঘাটে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বাংলাদেশের উন্নতি,অগ্রগতি ও অর্জনে প্রবাসীদের অনুভূতি

» নেপালে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশের মেয়েরা

» আখাইলকুড়া যুবদলের আহবায়ক ছায়েদ সদস্য সচিব জলিল

» আখাইলকুড়া যুবদলের আহবায়ক ছায়েদ সদস্য সচিব জলিল

» কুয়েতে প্রবাসী ৩ আ:লীগ নেতাকে সংবর্ধনা

» কাজিরে বাজার দীক্ষা গ্রহণ, বৃক্ষরোপন, মা ও অভিভাবক সভা অনুষ্ঠিত

» কুয়েতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিদিনের পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

» সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর জীবনাবসান

» শাইখ সিরাজের জন্মদিন

» আজও অগণিত দর্শক হৃদয়ে অমলিন সালমান শাহ

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

বিএসএ’র ফেলো হলেন অধ্যাপক মাহতাব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ও হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল সম্প্রতি বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেস এর ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের বার্ষিক সাধারণ সভায় একাডেমির সভাপতি এমিরেটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবকে ফেলো হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

উল্লেখ্য, এ বছর বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইসেন্সের ফেলোদের সিংহভাগের ভোটে একমাত্র অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবই ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন।

এমিরেটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, ডা. মামুন বাংলাদেশের বিজ্ঞান একাডেমি এবং বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান তার দ্বারা সমৃদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বাংলাদেশি বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের জন্য একটি একাডেমিক ফোরাম। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ একাডেমি দেশে বিজ্ঞানের গবেষণা ও উন্নয়নের ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

ভারত ভাগের পর পাকিস্তান একাডেমি অব সায়েন্সেস ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর একাডেমির ১২ জন বাংলাদেশি ফেলো ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গঠন করেন। মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সাল থেকে, বিএএস ডিজিটাল লাইব্রেরি বাংলাদেশ জার্নালস অনলাইন (বাংলা জেওএল) পরিচালনা করছে।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল সম্প্রতি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের নতুন ওষুধ ন্যাসভ্যাক এবং হেপাটাইটিস বি ভাইরাসজনিত লিভার রোগ বিষয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য তাকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের থেরাপিউটিক ভ্যাকসিন ন্যাসভ্যাকের ফেইজ ১, ২ ও ৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান গবেষক হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। তার গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে ওষুধটি এরই মধ্যে কিউবাসহ একাধিক দেশে রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে এবং বাংলাদেশেও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওষুধটির রেসিপি অনুমোদন করেছে। তিনি বাংলাদেশে উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট বঙ্গভ্যাক্সের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেরও প্রধান গবেষক।

অধ্যাপক স্বপ্নীল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এমবিবিএস, ১৯৯৮ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে এমএসসি এবং ২০০৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেপাটোলজিতে এমডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইন্ডিয়ান কলেজ অব ফিজিসিয়ানস, রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব আয়ারল্যান্ড এবং রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব লন্ডনের ফেলো।

পাশাপাশি তিনি জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও মেটাবোলজি বিভাগের ভিজিটিং অধ্যাপক এবং ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস, ঋষিকেশের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের বোর্ড অব স্টাডিজের সদস্য। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের ভাইরাল হেপাটাইটিস, এইচআইভি-এইডস, এসটিআই সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজিক এন্ড টেকনিক্যাল এডভাইজারি গ্রুপেরও অন্যতম সদস্য।

বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বৈজ্ঞানিক জার্নালে অধ্যাপক স্বপ্নীলের ৩০০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লিভার বিষয়ক পাঁচটি টেক্সট বই সম্পাদনা করেছেন, যার প্রতিটি বিভিন্ন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক মেডিকেল প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করেছে। এগুলো হচ্ছে ‘লিভার: এ কমপ্লিট বুক অব হেপাটো-প্যানক্রিয়াটো-বিলিয়ারি ডিজিজেজ’। প্রকাশক: এলসেভিয়ের, প্রকাশকাল: ২০০৯), ‘কম্প্রিহেনসিভ টেক্সট বুক অব হেপাটাইটিস বি’, ‘টেক্সট বুক অব হেপাটোগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’ ও ‘হেপাটোগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি প্রেসক্রাইবার’ (প্রকাশক: জেপি ব্রাদার্স, প্রকাশকাল যথাক্রমে : ২০১০, ২০১৫ ও ২০১৬) এবং ‘ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ (প্রকাশক: ম্যাকমিলান পাবলিশার্স, প্রকাশকাল : ২০১২)।

অধ্যাপক স্বপ্নীল ২০১৩ সালে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্যা স্টাডি অব দ্যা লিভারের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিস্টিংশন’ অর্জন করেন আর ২০১৪ সালে ইউরোএশিয়ান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ‘অর্ডার অব মেরিট’-এ ভূষিত হন। ভারতের কলিঙ্গ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল ফাউন্ডেশন তাকে ২০১৫ সালে সম্মানসূচক ‘ব্লুমবার্গ ওরেশন’ প্রদান করে। ২০১৭ সালের ‘হুজ হু’-তে তার জীবনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি ২০১৮-তে মার্কুইস হুজ হু কর্তৃক ‘এলবার্ট নেলসন মার্কুইস লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড’ এ ভূষিত হন।

অধ্যাপক স্বপ্নীলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন দুটি হচ্ছে কিউবান একাডেমি অব সাইন্সেস কর্তৃক ন্যাসভ্যাক উদ্ভাবনের জন্য ২০১৯-সালে যৌথভাবে ‘প্রিমিও ন্যাশনাল’ পদক এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেস কর্তৃক ‘বাস গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ লাভ।

কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় অধ্যাপক স্বপ্নীল ওয়ালটন গ্রুপ কর্তৃক ‘হেলথকেয়ার হিরোজ এওয়ার্ড ২০২০’, বাংলাদেশ-আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স কর্তৃক ‘গ্লোবাল বিজনেস সিএসআর এওয়ার্ড ২০২১’, ওয়ার্ল্ড অরগানাইজেশন অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানস কর্তৃক ‘গ্লোবাল হেলথকেয়ার লিডারশিপ এওয়ার্ড ২০২১’, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক ‘কোভিড-১৯ হিরো’ এবং নারীকণ্ঠ ফাউন্ডেশন কর্তৃক ‘কোভিড হিরো’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞদের জাতীয় সংগঠন এসোসিয়েশন ফর দ্যা স্টাডি অব লিভার ডিজিজেজ বাংলাদেশের তিনি পরপর সাতবার নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ফোরাম ফর দ্যা স্টাডি অব দ্য লিভারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

পাশাপাশি তিনি ইউরোএশিয়ান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভারের সাধারণ সম্পাদক, এশিয়ান প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভারের কার্যকরী সদস্য এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর স্টাডি অব দ্য লিভারের ইন্টারন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর।

অধ্যাপক স্বপ্নীল বাংলাদেশ স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তিনি ইন্টার-একাডেমি পার্টনারশিপের রিজেনারেটিভ মেডিসিন সংক্রান্ত ওয়ার্কিং পার্টির সারা বিশ্ব থেকে নির্বাচিত ১২ জন সদস্যের অন্যতম।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বাংলাদেশে লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় সর্বাধুনিক পদ্ধতি ট্রান্স-আর্টারিয়াল কেমো-এম্বোলাইজেশন (টেইস)-এর পুরোধা। পাশাপাশি তিনি লিভার ফেইলিওরে অটোলোগাস হেমোপয়েটিক স্টেমসেল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, প্লাজমা এক্সচেঞ্জ ও লিভার ডায়ালাইসিসেরও পথিকৃত।

অধ্যাপক স্বপ্নীল ১৯৭০ সালে সিলেট শহরের কালিঘাটে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।

Facebook Comments Box


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (দুপুর ২:৪৮)
  • ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৮শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি
  • ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)

Exchange Rate

Exchange Rate EUR: রবি, ২৫ সেপ্টে.

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 / +8801920733632

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com
error: দুঃখিত! অনুলিপি অনুমোদিত নয়।