Menu |||

ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী অধ্যাপক বদরুলের অধীনে চিকিৎসাধীন

দুর্ঘটনায় আবিদ সুলতানের মৃত্যুর পর ‘স্ট্রোক’ হলে রোববার থেকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয় আফসানা খানমকে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে।

তার অবস্থা জানতে চাইলে ইন্সটিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম সোমবার রাত সোয়া ৯টায়  বলেন, “উনি লাইফ সাপোর্টে প্রি-কোমায় আছেন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, দেখি আল্লাহ কী করেন।”

তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক বদরুলের অধীনেই চিকিৎসাধীন আফসানা।

এর আগে বিকালে ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সিরাজী শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, “উনার অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। রোববার সকালে অপারেশনের পরও উনার অবস্থা খারাপের দিকে ছিল। আমরা উন্নতির আশা করেছিলাম, কিন্তু অবনতি হয়েছে।”

লাইফসাপোর্টে রাখার পরও আফসানার উন্নতির তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

আবিদের বন্ধু মাহিম হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আজ ভাবিকে দেখে এসেছে। তার অবস্থা আরও ক্রিটিক্যাল হয়েছে। তবে ফাইনাল কমেন্ট এখনও করেননি চিকিৎসক।”

আবিদের ভাই মাহমুদ খুরশিদও একজন চিকিৎসক। গত ১২ মার্চ দুর্ঘটনার পর তিনি নেপাল গিয়েছিলেন। আবিদসহ ২৩ জনের লাশের পাশাপাশি সোমবার তিনি ফিরে আসেন দেশে।

দেশে আনার পর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা ও লাশ হস্তান্তর হন। মাকে হাসপাতালে রেখে বাবার লাশ আনতে গিয়েছিলেন আবিদ-আফসানার একমাত্র ছেলে তানজিদ সুলতান।

 

৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ১২ মার্চ দুপুরে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ড্যাশ উড়োজাহাজটি। এতে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্যাপ্টেন আবিদ আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। কিন্তু পরদিন সকালে ইউএস-বাংলার কর্মকর্তা কামরুল নেপালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদের মৃত্যুর খবর দেন।

আবিদের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু  জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আফসানা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পরে বেঁচে আছেন জেনে একটু স্বাভাবিক হন।

“কিন্তু পরদিন যখন জানতে পারলেন উনি মারা গেছেন, তারপর থেকে তিনি একেবারেই ভেঙে পড়েন। আসলে এত বড় শোক সহ্য করতে পারেননি।”

রোববার সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হলে একটি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সহযোগী অধ্যাপক সিরাজী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আফসানার অস্ত্রোপচার হয় রোববার। তাকে রাখা হয় আইসিইউতে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আবিদ একসময় বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের বৈমানিক ছিলেন। নেপালের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফটটি ক্যাপ্টেন আবিদই কানাডা থেকে বাংলাদেশে উড়িয়ে এনেছিলেন।

পাঁচ হাজার ঘণ্টা ফ্লাইট চালানোর অভিজ্ঞতা থাকা আবিদের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রশ্ন ওঠে, টানা কাজের কারণে তিনি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন কি না বা উড়োজাহাজে ত্রুটি ছিল কি না। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ দুটো বিষয়ই অস্বীকার করেছে।

সূত্র, বিডিনিউজ২৪

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অমানবিক দৃশ্য, পরবর্তী প্রজন্মরাও অপরাধী হয়ে বেড়ে উঠছে

» কুয়েতে টিকা গ্রহণকারীরা দ্বিতীয় ডোজ এর জন্য বার্তা পাবেন শিগগিরি

» চীনে টিকা নিচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

» ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি

» কুয়েতে ৩৩ কারাবন্দী করোনা আক্রান্ত

» মহামারী: প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু

» পুণেতে ২ দিন ধরে মৃতার পাশে ১৮ মাসের শিশু, করোনার আতঙ্কে ছুঁয়ে দেখল না কেউ

» লুঙ্গি পড়ে বিদেশের রাস্তায় বেমানান বাঙালি- Agrodristi news

» কোভিড-১৯: দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন উচ্চতায় ভারত

» মুনিয়ার মৃত্যু: বসুন্ধরা এমডি আনভীরের আগাম জামিনের শুনানি হয়নি

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রী অধ্যাপক বদরুলের অধীনে চিকিৎসাধীন

দুর্ঘটনায় আবিদ সুলতানের মৃত্যুর পর ‘স্ট্রোক’ হলে রোববার থেকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয় আফসানা খানমকে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে।

তার অবস্থা জানতে চাইলে ইন্সটিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম সোমবার রাত সোয়া ৯টায়  বলেন, “উনি লাইফ সাপোর্টে প্রি-কোমায় আছেন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, দেখি আল্লাহ কী করেন।”

তার চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক বদরুলের অধীনেই চিকিৎসাধীন আফসানা।

এর আগে বিকালে ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সিরাজী শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, “উনার অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। রোববার সকালে অপারেশনের পরও উনার অবস্থা খারাপের দিকে ছিল। আমরা উন্নতির আশা করেছিলাম, কিন্তু অবনতি হয়েছে।”

লাইফসাপোর্টে রাখার পরও আফসানার উন্নতির তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

আবিদের বন্ধু মাহিম হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আজ ভাবিকে দেখে এসেছে। তার অবস্থা আরও ক্রিটিক্যাল হয়েছে। তবে ফাইনাল কমেন্ট এখনও করেননি চিকিৎসক।”

আবিদের ভাই মাহমুদ খুরশিদও একজন চিকিৎসক। গত ১২ মার্চ দুর্ঘটনার পর তিনি নেপাল গিয়েছিলেন। আবিদসহ ২৩ জনের লাশের পাশাপাশি সোমবার তিনি ফিরে আসেন দেশে।

দেশে আনার পর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা ও লাশ হস্তান্তর হন। মাকে হাসপাতালে রেখে বাবার লাশ আনতে গিয়েছিলেন আবিদ-আফসানার একমাত্র ছেলে তানজিদ সুলতান।

 

৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ১২ মার্চ দুপুরে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ড্যাশ উড়োজাহাজটি। এতে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্যাপ্টেন আবিদ আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। কিন্তু পরদিন সকালে ইউএস-বাংলার কর্মকর্তা কামরুল নেপালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদের মৃত্যুর খবর দেন।

আবিদের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু  জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আফসানা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পরে বেঁচে আছেন জেনে একটু স্বাভাবিক হন।

“কিন্তু পরদিন যখন জানতে পারলেন উনি মারা গেছেন, তারপর থেকে তিনি একেবারেই ভেঙে পড়েন। আসলে এত বড় শোক সহ্য করতে পারেননি।”

রোববার সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হলে একটি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সহযোগী অধ্যাপক সিরাজী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আফসানার অস্ত্রোপচার হয় রোববার। তাকে রাখা হয় আইসিইউতে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আবিদ একসময় বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের বৈমানিক ছিলেন। নেপালের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফটটি ক্যাপ্টেন আবিদই কানাডা থেকে বাংলাদেশে উড়িয়ে এনেছিলেন।

পাঁচ হাজার ঘণ্টা ফ্লাইট চালানোর অভিজ্ঞতা থাকা আবিদের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর প্রশ্ন ওঠে, টানা কাজের কারণে তিনি অবসাদগ্রস্ত ছিলেন কি না বা উড়োজাহাজে ত্রুটি ছিল কি না। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ দুটো বিষয়ই অস্বীকার করেছে।

সূত্র, বিডিনিউজ২৪

Facebook Comments


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (সকাল ৬:৫৯)
  • ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৩শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি
  • ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

Exchange Rate

Exchange Rate: EUR

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

Mahrall Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Mujamma Abbasia. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 / +8801920733632

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com
error: দুঃখিত! অনুলিপি অনুমোদিত নয়।