মঙ্গলবার গ্রামীণফোন ২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০১৯ সালে ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এই বছরের শেষ প্রান্তিকে মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
২০১৯ সালে কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এ বছর ইন্টারনেট সেবা খাত থেকে আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ এবং ভয়েস থেকে আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ।
গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি বলেন, “রেগুলেটরি দৃষ্টিকোণ থেকে ২০১৯ সাল গ্রামীণফোন একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে পার করেছে। নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। তবে চমৎকারভাবে বাজার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নেটওয়ার্কে আমাদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার মাধ্যমে আমরা ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।”
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা চেয়ে গত বছর এপ্রিল মাসে চিঠি দেয় টেলিযোগাযাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। তাতে কাজ না হওয়ায় আরোপ করা হয় কড়াকড়ি।
অডিট আপত্তির টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিতে বিটিআরসি বিভিন্ন ধরনের টেলিযোগাযোগ সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র দেওয়া বন্ধ রাখায় গ্রামীণফোনকে ভুগতে হয়েছে বলে মোবাইল অপারেটরটির কর্মকর্তারা বলে আসছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সাত লাখ নতুন গ্রাহক গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে যোগ দিয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে আগের বছররে তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৫ লাখ। মোট গ্রাহকের মধ্যে ৪ কোটি ৬ লাখ বা ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন।
এক নজরে ২০১৯ সালের আর্থিক বিবরণ
>> মোট রাজস্ব ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন।
>> মোট গ্রাহক ৭ কোটি ৬৫ লাখ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৬ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।
>> কর পরবর্তী মুনাফা ৩ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।
>> নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, শক্তিশালীকরণ ও আধুনিকায়নে এক হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ।
>> জাতীয় রাজস্ব খাতে ৮ হাজার ৫১০ কোটি টাকা দিয়েছে, যা মোট রাজস্বের ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ।
মাইকেল ফোলি বলেন, “পরিকল্পিত লক্ষ্য অনুযায়ী চতুর্থ প্রান্তিকে ফোর- জি সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার। বছর শেষে আমাদের নেটওয়ার্কে ফোর-জি গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। ইন্টারনেট সেবা খাতে এর ব্যবহার ও রাজস্ব অর্জন দুটি ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।”
মোবাইল সেবা খাতের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান ধরে রাখতে সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনায় গ্রামীণফোনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ এ বছর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রতি শেয়ারে ১৩ টাকা লভ্যাংশের প্রস্তাব করেছে বলে গ্রামীণফোনের সিএফও ইয়েন্স বেকার জানিয়েছেন।
গ্রামীণফোন জানায়, শেষ প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের পাশাপাশি ৭১৫টি নতুন ফোর-জি সাইট করা হয়েছে। ২০১৯ শেষে গ্রামীণফোনের মোট নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫০৮।
গ্রামীণফোন ২০১৯ সালে কর, ভ্যাট, ফোর-জি লাইসেন্স ফি, স্পেকটার্ম অ্যাসাইনমেন্ট ফি, ডিউটি ও ফিস বাবদ সরকারি কোষাগারে আট হাজার ৫১০ কোটি টাকা দিয়েছে, যা মোট আয়ের ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ।
চতুর্থ প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক উন্নয়নে ৩৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে গ্রামীণফোন। এনওসি বন্ধের কারণে পরিকল্পনার চেয়ে কম বিনিয়োগ করতে হয়েছে।