ভারত এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে এক উদীয়মান শক্তি এবং সেখানে হাজার হাজার মানুষের কাছে বিমানে ভ্রমণ তাদের নিত্যদিনের জীবনযাপনের অংশ।
কিন্তু এর বাইরে আছে এক অন্য ভারত, যেখানে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিকের কাছে বিমান ভ্রমণ এখনো বিলাসিতার পর্যায়ে পড়ে, যাদের জীবনে কখনো বিমানে চড়ার সুযোগ বা সৌভাগ্য হয়নি।
ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের এক পাইলট এই সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র মানুষদের আকাশে না উড়ে মাটির ওপরই বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে পরিচালনা করছেন এক অভিনব কর্মসূচী।
এক ডলারেরও কম অর্থ খরচ করে তার বিমানে উঠে যে কেউ দেখতে পারেন এটি দেখতে কেমন, কিভাবে চলে।
এই মানুষদের তিনি বিমান ভ্রমণের রীতিনীতি সম্পর্কে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণও দেন।

দিল্লির উপকন্ঠে দেয়াল ঘেরা এক বিশাল খোলা প্রাঙ্গনে একটি এয়ারবাসের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে গ্রামের কিছু মানুষ।
প্রত্যেকের হাতে টিকেট, সিঁড়ির মাথায় তাদের টিকেট পরীক্ষা করে দেখছেন পাইলট বাহাদুর চাঁদ গুপ্ত।
বিমান ভ্রমণে একজন যাত্রী যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যান, এখানেও তাই ঘটবে। তবে পার্থক্য একটাই এই বিমান আকাশে উড়বে না।
এমন একটা উদ্যোগ নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাহাদুর চাঁদ গুপ্ত বলেন, হরিয়ানার আমার গ্রামের মানুষ প্রায়ই আমাকে বলতো, তারা উড়োজাহাজ দেখতে চায়। কিন্তু তাদের তো আর বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে উড়োজাহাজ দেখানো সম্ভব নয়। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নেই, এদের জন্য আমি উড়োজাহাজ দেখানোর একটা বিকল্প ব্যবস্থা করবো।
শুধু উড়োজাহাজ দেখানো নয়, কিভাবে এটি আকাশে উড়ে, বিমানযাত্রী হিসেবে কী রীতিনীতি মেনে চলতে হয়, দর্শনার্থীদের সেই প্রশিক্ষণও দেন বাহাদুর চাঁদ গুপ্ত।
Image copyrightSudharak Olweতিনি বলেন, অনেকে এসে বললো, তারা ট্রেনিংও চায়। স্কুলের অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাও বললো, তারা ট্রেনিং নিতে চায়। তখন আমরা একটা ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করলাম।
বাহাদুর চাঁদ গুপ্ত আরো বলেন, এদেশের আশি ভাগ মানুষ গরীব। এদের টিকেট কেটে বিমানে চড়ার সামর্থ্য নেই। এরাই আসলে এখানে আসে নিজের হাতে একটা উড়োজাহাজ ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন নিয়ে।
দর্শনার্থীদের অনেকেই এভাবে বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে আপ্লুত।
শুধু বিমানে চড়ার স্বপ্ন নয়, সুবিধাবঞ্চিত যেসব ছেলে-মেয়ে পাইলট হবার স্বপ্ন দেখছে, তাদেরও উৎসাহ দিতে চান বাহাদুর চাদ গুপ্ত।
সেই লক্ষ্যেই এখন কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।











