চট্টগ্রাম: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রাম থেকে দিনে ২৭ থেকে ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো.আবদুল হাই।
তিনি জানান, প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় যাত্রী পরিবহন করে থাকে রেলওয়ে। এবারও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯ জোড়া আন্তঃনগর, ৫ জোড়া মেইল ট্রেন ও দুই জোড়া স্পেশাল ট্রেনের মাধ্যমে এসব যাত্রী পরিবহন করা হবে।
৯ জোড়া আন্তঃনগর, ৫ জোড়া মেইল এক্সপ্রেস ও তিন জোড়া স্পেশাল ট্রেনের যাত্রীর ধারণ ক্ষমতা ১৫ থেকে ১৮ হাজার হলেও ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে জিএম বলেন, বুধবার (২২ জুন) থেকে ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে। ১ জুলাই থেকে অগ্রিম টিকেটর যাত্রী পরিবহন শুরু হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, ৯ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে সুবর্ণএক্সপ্রেসে যাত্রীর আসন সংখ্যা ৮৯০, মহানগর প্রভাতীতে ৬৫০, পাহাড়িকায় ৬৫০, চট্টলায় ৭৩০, মহানগর গোধূলীতে ৮৬৫, মেঘনা এক্সপ্রেসে ৭০০, উদয়ন এক্সপ্রেসে ৬৫০ ও তূর্ণা নিশিতায় ৮৩০ জনসহ মোট ৫ হাজার ৯৬৫ আসন রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ২৬ জুন থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করছে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। এটিতে ৭৪৬ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবে।
এ ছাড়া সাগরিকা এক্সপ্রেস, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস, জালালাবাদ এক্সপ্রেস ও ঢাকা মেইলসহ মোট পাঁচটি মেইল ট্রেনের আসন সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজার। দুই জোড়া স্পেশাল ট্রেনে করে আরও ৭ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঈদে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী পরিবহন করতে হয়।
পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিট, মহানগর বেলা সাড়ে ১২টায়, চট্টলা এক্সপ্রেস সকাল ৯টায়, মহানগর গোধূলী বিকাল ৩টায়, তূর্ণা এক্সপ্রেস রাত ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যাবে। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস প্রতিদিন বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে।
পাহাড়িকা সকাল সোয়া ৮টায়, উদয়ন এক্সপ্রেস রাত সাড়ে ৯টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে এবং মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকাল পাঁচটায় চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবে।
কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল ১১টায় ও ঢাকা মেইল এক্সপ্রেস রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে, সাগরিকা এক্সপ্রেস সকাল সাড় ৭টায় চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে বাহাদুরাবাদের উদ্দেশ্যে ও জালালাবাদ এক্সপ্রেস সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যাবে। দুই জোড়া স্পেশাল ট্রেনের সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
বুধবার থেকে অগ্রিম টিকেট:
ঈদ উপলক্ষে বুধবার থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, ২২ জুন দেওয়া হবে ১ জুলাই এর টিকেট। ২৩ জুন ২ জুলাই, ২৪ জুন ৩ জুলাই, ২৫ জুন ৪ জুলাই ও ২৬ জুন দেওয়া হবে ৫ জুলাইয়ের টিকেট। একইভাবে ৪ জুলাই ৮ জুলাই’র ফিরতি টিকেট দেওয়া হবে। ৫ জুলাই ৯, ৬ জুলাই ১০, ৭ জুলাই ১১ ও ৮ জুলাই ১২ জুলাই’র টিকেট দেওয়া হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ‘সোনার বাংলা’:
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সূবর্ণ এক্সপ্রেস এর আদলে আরও অন্তত দুই জোড়া বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালু করা। অবশেষে যাত্রীদের সেই দাবি পূরণ হতে চলেছে। আগামী ২৬ জুন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে বিরতিহীন ট্রেন ‘সোনার বাংলা’।
শনিবার সকাল ১১টায় লাল-সবুজের এ ট্রেন সার্ভিসটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ৭৪৬ আসনের ট্রেনটি প্রতিদিন বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থেকে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।
১৬টি কোচের কম্পোজিশনের ট্রেনটিতে ৭টি নন এসি, ৬টি এসি, ২টি বার্থ, একটি পাওয়ার কার ও দুটি খাবারের গাড়ি থাকছে। নন এসি কোচে আসন সংখ্যা ৬০। এসি কোচে ৫৫, বার্থে ২০টি আসন রয়েছে।
গত ১১ জুন রেল ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নতুন ট্রেনের সাতটি নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে প্রস্তাবিত নামগুলো বাদ দিয়ে সোনার বাংলা নামটি চূড়ান্ত করা হয়।











